উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১/১০/২০২২ ৯:২২ এএম

তদন্তে গাফিলতি ও অবহেলা এবং আদালতে ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগপত্র দেওয়ায় কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিভাস কুমার সাহার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলার অভিযোগপত্রে নানা ত্রুটি ও তদন্ত কর্মকর্তা বিভাস কুমার সাহার গাফিলতি দেখে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী এ আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন। আদেশের কপিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো হয়েছে।

এজাহার মতে, ২০২০ সালের ৩০ মে কক্সবাজার সদর থানার তৎকালীন এসআই সনৎ বড়ুয়া বাদী হয়ে তিনজনকে আটক ও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখিয়ে একটি ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা করেন। এতে এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্প এলাকার এসএম পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মো. নাছিরের ছেলে আবদুল গফুর (২২), একই এলাকার বড়পুকুরসংলগ্ন আবদুল হকের ছেলে মোহাম্মদ তারেক (২২) ও লাইটহাউজ পাড়ার উপরের মসজিদের পাশের মৃত আবুল বশরের ছেলে মোহাম্মদ জাহেদ (২৩)। পরে সদর থানার এসআই বিভাস কুমার সাহা তদন্ত কর্মকর্তা হিসাবে ২০২১ সালের ৪ মার্চ আদালতে এজাহারনামীয় তিন আসামিসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর আদালতে চার্জশিট দেন।

অভিযোগ শুনানিকালে আদালতের পর্যবেক্ষণ মতে, এজাহারে নাম না থাকা সত্ত্বেও যে তিনজনকে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরা ১৬১ ধারার জবানবন্দিতে কোনো বক্তব্য তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেননি। এমনকি ওই তিনজনের নামও সাক্ষীরা তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বলেননি। তা ছাড়া আদালত অভিযোগপত্রে ও তদন্তে আরও ত্রুটি লক্ষ্য করেন। পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে চরম অবহেলা ও গাফিলতি দেখিয়েছেন। তিনি কেন এবং কিভাবে সন্ধিগ্ধ তিনজন আসামিকে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্তি করেছেন তা আদালতের কাছে বোধগম্য হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার এ ধরনের কার্যক্রম কাম্য নয়। তার এ ধরনের অবহেলা, ত্রুটি ও বিচ্যুতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসা আবশ্যক মনে করেছেন আদালত।

এ বিষয়ে কক্সবাজার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আশেক ইলাহী শাহাজাহান নূরী বলেন, অভিযোগপত্র বিশ্লেষণ করে আদালত এজাহারনামীয় তিনজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করলেও বাকি আসামিদের অব্যাহতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তদন্তে গাফিলতি, অবেহেলা এবং নানা ত্রুটিতে ভরপুর অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করায় তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিভাস কুমার সাহার বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর মুহাম্মদ ফারুকী। আদেশের কপি আইজিপিকে পাঠানো হয়েছে।

বিভাস কুমার সাহা বলেন, মামলাটি ১৪০০ পুলিশ একযোগে বদলি হওয়া আমলে করা। নবাগত হিসাবে শহরের রাস্তাঘাট, মানুষজন কিছুই চিনতাম না। এ কারণে অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রতিবেদনে ভুল হয়েছে। এর পেছনে আমার কোনো অনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। আমি লিখিত ক্ষমা চাইব।

পাঠকের মতামত

ঘটনাপ্রবাহঃ কক্সবাজার

উখিয়ায় ৩ জনের সিন্ডিকেট দ্রব্যমূল্য বাড়াচ্ছে, প্রশাসনের নজরদারি নেই

উখিয়ায় নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুদামজাত করে রমজানে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির পায়তারা করে যাচ্ছে কয়েকজন পাইকারি ...