

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়ায় সরকারি সারের তীব্র কৃত্রিম সংকট দেখা দিয়েছে। নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টগুলোতে সকাল থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা শেষে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে স্থানীয় প্রান্তিক কৃষকদের। সময়মতো ইউরিয়া সার জমিতে না দিতে পেরে ফসল হানির চরম আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা।
কৃষকদের মূল অভিযোগ, সীমান্ত পার করে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে সার পাচার হয়ে যাওয়ার কারণেই স্থানীয় বাজারে এই ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে জানা যায়, সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমারে পাচার হওয়া ইউরিয়া সার মূলত শুধু কৃষিকাজে নয়, বরং সেখানে গৃহযুদ্ধ ও সংঘাতময় অঞ্চলে আইইডি (IED) বা বিভিন্ন বিস্ফোরকদ্রব্য ও বোমা তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউরিয়াতে থাকা উচ্চমাত্রার নাইট্রোজেন বিস্ফোরক তৈরিতে কাজে লাগানো যায় বলে এর চাহিদা মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী ও চোরাচালানিদের কাছে বহুগুণ বেশি। ফলে চড়া দামে সেখানে বিক্রি করার লোভেই সক্রিয় পাচারচক্র দেশীয় এই সার সীমান্ত পার করছে।
স্থানীয় কৃষক মো. কামাল উদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও সার পাইনি। সময়মতো সার না পেলে জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সীমান্ত পাচারের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে চাষী নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চাহিদার তুলনায় সার কম আসছে। এতে আমাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। সীমান্ত দিয়ে মায়ানমারে সার পাচারের কারণেও সংকট আরও প্রকট হচ্ছে।
সম্প্রতি উখিয়ার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা ও নাফ নদ থেকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও উপজেলা প্রশাসন যৌথ অভিযান চালিয়ে শত শত বস্তা পাচারমুখী ইউরিয়া সার জব্দ করেছে, যা স্থানীয় কৃষকদের এই বিস্ফোরকমুখী পাচারের অভিযোগকেই সত্যি বলে প্রমাণ করে।
এ বিষয়ে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামনাশিষ সরকার বলেন, সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে কৃষকদের মাঝে সার বিতরণ নিশ্চিত করার অপ্রাণ চেষ্টা চলমান রয়েছে।
সীমান্ত পথে সার পাচার বা বিক্রয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে উখিয়া উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষে সারের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সীমান্তে নজরদারি বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও কৃষকরা বলছেন, কেবল সীমান্ত বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়—বিস্ফোরক তৈরিতে সার পাচার রোধে বিজিবির কঠোর টহল নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত স্থানীয় চাষীদের জন্য বরাদ্দকৃত সারের যথাযথ বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

পাঠকের মতামত