প্রকাশিত: ১৬/০৫/২০২১ ১১:০৩ এএম , আপডেট: ১৬/০৫/২০২১ ১১:০৪ এএম


বাবা-মাকে হত্যার অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত কন্যা ঐশী এখন ধর্মীয় বিধি নিষেধের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

২০১৩ সালে রাজধানীর চামেলীবাগে নিজ বাসায় খুন হন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পলিটিক্যাল শাখার পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাহফুজুর রহমান ও মা স্বপ্না রহমান।

ঐশী এখন গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দি। শনিবার (১৫ মে) বিকেলে কারা প্রকোষ্ঠে কীভাবে তার একাকী সময় কাটছে সে বিষয়ে কারা কর্তৃপক্ষ নানা ধরনের তথ্য দিয়েছেন।

কারা কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ঐশী পবিত্র রমজান মাসে নিয়মিত রোজা রেখেছেন ও নামাজ পড়ে দিন পার করেছেন। বিভিন্ন ধরনের বইপত্র পড়ে সময় কাটান এ বন্দি তরুণী। কিছুদিন আগে বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী গ্রন্থ কারাগারের রোজনামচা পড়তেও দেখা গেছে তাকে।

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার হোসনে আরা বীথি জানান, কারাগারে ভালোই আছে ঐশী। নামাজ-কালাম পড়ে সময় কাটে তার। এছাড়া সে কিছু বইপত্র পড়ে। কিছুদিন আগে কারাগারের রোজনামচা বইটি পড়তে দেখেছেন তিনি।

নেশাসক্ত অবস্থায় ঐশী তার বাবা-মাকে হত্যা করে বলে জানা গিয়েছিল। কফির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে এবং পরে কুপিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায় সে। নির্বিবাদে নেশা করার জন্যই সে বাবা-মা হত্যার মতো জঘন্য ঘটনা খুব সহজেই ঘটাতে সক্ষম হয়। সেই নেশা এখন আর ঐশীর মধ্যে নেই। কারাগারে যাওয়ার পর থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন তিনি। এখন অনেক চুপচাপ থাকেন।

জেলার বলেন, ‘করোনাকালীন পরিবারের কেউ তার খোঁজখবর নিতে আসেনি। এসময়ে সাক্ষাৎ একেবারেই বন্ধ। ঈদের দিনে আমাদের কারাগারের বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা থাকে। ঈদের সকালে সেমাই খেতে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া দুপুরে ছিল গরুর গোশত, পোলাও আর সালাদ। রাতে ছিল রুই মাছ, ভাত ও সবজি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েদীদের নতুন পোশাকও দেওয়া হয়েছিলো। কারাগারে বসে কেউ চাইলে তিন মিনিট তার পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথাও বলতে পারে। ঐশী চাইলেও সেই সুযোগটি নিতে পারে।’

প্রসঙ্গত, বাবা-মাকে হত্যার দায়ে ২০১৫ সালে ঐশীকে ফাঁসির আদেশ দেয় বিচারিক আদালত। পরে আপিলে ২০১৭ সালের ৬ জুন উচ্চ আদালত ঐশীর সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করেন। সেই থেকে ঐশী স্থায়ীভাবে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে আছেন। এর আগে ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট সকালে রাজধানীর চামেলীবাগের বাসা থেকে পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে তার আগে ঐশী বাসা থেকে পালান।

পরদিন ১৭ আগস্ট মাহফুজুর রহমানের ভাই মশিউর রহমান এ ঘটনায় পল্টন থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই ঐশী পল্টন থানায় আত্মসমর্পণ করে তার বাবা-মাকে খুন করার কথা জানান।

২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন ঐশী। পরে ওই জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সাক্ষ্য, আলামত ও অন্যান্য যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে তা নাকচ হয়ে যায়

পাঠকের মতামত

‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বারোটা বাজিয়েছিল শেখ হাসিনা সরকার’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে শুধু দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার কারণেই আগের সরকার প্রত্যাবাসন উদ্যোগকে ব্যর্থ করে ...

সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন দেওয়াটাও কঠিন হয়ে যাবে একদিন: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, বাংলাদেশ এখন ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে ...

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সুইডিশ সহায়তা চাইলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাংলাদেশে আরও বেশি সুইডিশ সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ...

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনবিতর্কিত মালিকদের হাতে ফিরছে না একীভূত ৫ ব্যাংকের মালিকানা

একীভূত হওয়া পাঁচটি দুর্বল ব্যাংকের মালিকানা পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরে পাওয়ার পথ বন্ধ করে দিয়েছে ...
Single Page Footer