ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ৮:০৩ পিএম

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাংলাদেশে আরও বেশি সুইডিশ সহায়তা চেয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।’

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ সচিবালয়ে তাঁর অফিসে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এসব কথা বলেন।

রোহিঙ্গা সংকটকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে বর্ণনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকায় এই ইস্যুকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে সুইডেনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা বাড়াতেও তিনি সুইডেনের প্রতি আহ্বান জানান।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করার বিষয়ে সুইডেনের আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন ও কারিগরি সহায়তা এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা করেন।

সুইডেনকে বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার দক্ষ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের অন্যান্য বাজারে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মান উন্নয়ন এবং দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে তিনি সুইডেন সরকারের নিবিড় সহযোগিতা কামনা করেন।

সুইডেনের রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যার সঙ্গে সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছে এবং তৈরি পোশাক ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ছে।

রাষ্ট্রদূত আরও জানান, বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি সুইডেনে বসবাস করছেন, যাদের একটি বড় অংশ শিক্ষার্থী। সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অসাধু মানবপাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে কিছু নির্দোষ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।

উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি বলেন, উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভনই অনিয়মিত অভিবাসনের মূল কারণ।

এই সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক প্রচারণাসহ বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে সুইডিশ দূতাবাসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন

পাঠকের মতামত

জাতিসংঘে আলোচনা নয়, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে চীনের সহায়তার তাগিদ

জাতিসংঘে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ তুলে সমাধান আসবে না, মন্তব্য আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূতদের। ...

আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে যৌথ বাহিনী নামানো হতে পারে

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনতে চায় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আলোচনার টেবিলে আনবে বলে প্রত্যাশা বাংলাদেশের। সম্প্রতি বিবিসি ওয়ার্ল্ড ...

গুতেরেসের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক, রোহিঙ্গা সংকট ও জলবায়ু ইস্যুতে জোর

জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার ইস্যু, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত এবং বৈশ্বিক শান্তি ও ...

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফারোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য সময়োপযোগী প্রস্তাবনা : শাহজাহান চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিপুল উপস্থিতির কারণে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে জনজীবনে নানা ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। ...

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে তারেক রহমানের ৫ প্রস্তাব

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্বকে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা তারেক রহমানের

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর ভূমিকা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ...