প্রকাশিত: ১৬/০৯/২০১৭ ৭:২০ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১:২৯ পিএম

নতুন সমস্যায় উপত্যকা। লাদাখে এক বৌদ্ধধর্মাবলম্বী যুবতীর সঙ্গে মুসলিম যুবকের বিয়ে নিয়ে ক্রমাগত চড়ছে উত্তেজনার পারদ। এই বিবাহ নিয়ে লাদাখের বৌদ্ধ ও মুসলিম ধর্মাবলম্বী মানুষের মধ্যে উত্তেজনা এতটাই বেড়েছে যে লাদাখ বুদ্ধিস্ট অ্যাসোসিয়েশন দ্বারস্থ হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এমন খবর প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিন।

লাদাখের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের দাবি, তাঁদের কাছে ফেরত পাঠাতে হবে বিবাহিত ওই বৌদ্ধ মেয়েটিকে। এই বিয়ে তাঁরা মানতে রাজি নন। এবিষয়ে সমাধানের রাস্তা খুঁজে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির কাছেও চিঠি পাঠায় ওই বৌদ্ধ সংগঠন। ২০১৫ সালে হওয়া এই বিয়েতে ওই বৌদ্ধ যুবতী ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে ফের একবার অশান্ত হয়ে উঠছে লাদাখ।

তবে অনড় ওই বিবাহিতা। তাঁর দাবি, তিনি নিজের ইচ্ছায় এই বিয়ে করেছেন। এই ধর্মও গ্রহণ করেছেন স্বেচ্ছায়। ফলে যুক্তিতে পিছিয়ে যাচ্ছেন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। তাই হুমকি-হুঁশিয়ারিতেই আপাতত থেমে আছে গোটা ঘটনা। যদিও, পরিস্থিতি ছাই চাপা আগুনের মতো। স্থানীয় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, ওই মহিলা যদি বিয়ে নাকচ করে চলে না আসেন, তাহলে চরম পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে তাকে।

লাদাখ বৌদ্ধ সংগঠন ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তারা দাবি জানিয়েছে, এখনই বাতিল করে দেওয়া হোক তিরিশ বছর বয়সী ওই মহিলা শিফা ও ৩২ বছরের কারগিলের বাসিন্দা মোর্তাজা আগার বিয়ে। শিফার আগে নাম ছিল স্ট্যানজিন স্যালডন। ২০১৫ সালে বিয়ের পর ধর্ম পরিবর্তন করেন তিনি। নতুন নাম হয় শিফা।

ওই সংগঠনের অভিযোগ, এলাকার মুসলিম ছেলেরা বৌদ্ধ ধর্মের তরুণীদের প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করছে। এইধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওই বৌদ্ধ সংগঠন। এদিকে এই সংগঠনের অভিযোগ প্রসঙ্গে শিফার দাবি, তাঁকে কেউ ধর্ম পরিবর্তন করতে বাধ্য করেননি। বরং তিনি ভালবেসে, স্বেচ্ছায় নিজের ধর্ম পরিবর্তন করেছেন। তাঁর আবেদন ধর্মের চোখ দিয়ে নয়, মন থেকে ভালবাসতে হবে প্রত্যেককে। তাঁর আরও দাবি,ধর্ম বেছে নেওয়ার অধিকার মানুষের নিজের হাতে থাকা উচিত। তাতে অন্তত এই পৃথিবী থেকে জাত-পাত আর ধর্মের নামে হানাহানি বন্ধ হবে বলে তিনি মনে করেন।

এই দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে আদালত। মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন নাইমা মাহজুরের বিবৃতি অনুযায়ী ২০১৫ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর শিফা ২০১৬ সালে বেঙ্গালুরুতে বিয়ে করে। জম্মু- কাশ্মীর হাইকোর্টের কাছে সম্মতি নিয়ে আগাকে তিনি বিয়ে করেছেন বলে দাবি করেছেন শিফা। এবিষয়ে তার বিবৃতিও রেকর্ড আছে। আদালত এই দম্পতিকে বিরক্ত না করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে ধর্মের হাত এত সহজে হয়তো শান্তি দেবে না তাদের। সেই আশঙ্কাই করছেন এই দম্পতি।

পাঠকের মতামত

 

জাইকার অর্থায়নের ফিলেপ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়িত ফিলেপ (ফরেন এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ...

​পাহাড় কেটে মাটি পাচার করলেন জামায়াত নেতা, ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের বসতি

সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে যেখানে আতঙ্ক কাজ করছে, এমন ...

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...