ফেসবুক পোস্টে সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার

নীরবতার সীমা পেরিয়েছে, এবার তথ্য-প্রমাণে জবাব দেব

এম.এ রাহাত, উখিয়া
প্রকাশিত: ০৯/০৯/২০২৬ ৪:৪৩ পিএম

উখিয়া প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন দায়িত্বশীল পদে থাকার কারণে অনেক কিছু নীরবে সহ্য করেছেন। বর্তমানে সেই দায়িত্বে না থাকায় নিজের অবস্থান তুলে ধরতে তিনি স্বাধীন।

তিনি তার পোস্টে বলেন, এবার থেকে তিনি আর নীরব দর্শক নন এবং যারা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন, তাদের তথ্য, প্রমাণ, প্রতিউত্তর ও যুক্তির মাধ্যমে জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ারের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হল:- চোখের আড়ালে কত রাত নীরবে কেঁদেছি—তার সাক্ষী শুধু দেয়াল আর অন্ধকার।

অথচ প্রকাশ্য মঞ্চে গল্পটা এমনভাবে সাজানো হচ্ছে, যেন আমিই ষড়যন্ত্রের কারিগর, আমিই বেঈমান মীর জাফর, আমিই মোনাফেক, আমিই কারও কারও জয়-পরাজয়ের কারিগর বা নাটের গুরু, আমিই সব নাটকের পরিচালক।

কেউ জানতে চায়নি—কারা পর্দার আড়ালে সুতো টেনেছে, কারা গল্প লিখেছে, আর কারা নিজেদের স্বার্থে সত্যকে বিকৃত করে নতুন নতুন চরিত্র দাঁড় করে যাচ্ছে।

রুচির দুর্ভিক্ষে আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে তর্ক করা অনেকটা মরুভূমিতে গোলাপ চাষ করার মতো—পরিশ্রম প্রচুর, ফলাফল শূন্য। তাই অনেক কথার উত্তর না দেওয়াটাকেই এতদিন শ্রেয় মনে করেছি।

সময় বড় নির্মম বিচারক। আজ যারা গল্পের নিয়ন্ত্রক, কাল হয়তো তাদেরই মুখোশ খুলে যাবে। ইতিহাস কাউকে চিরকাল আড়াল করে রাখে না।

আমি নীরব ছিলাম, কারণ আমি দুর্বল ছিলাম না। নিজের প্রতি আমার আত্মবিশ্বাস ছিল—আমি কী করতে পারি, কতটা করতে পারি এবং কখন কী করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে আমি যথেষ্ট সচেতন ও ধৈর্য্যশীল ছিলাম।

উখিয়া প্রেস ক্লাবের মতো সুনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের রেকর্ড টানা তিন মেয়াদে সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পদে থাকায় সেই পদের মর্যাদা রক্ষার দায়বদ্ধতা আমার ছিল। তাই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধেও ক্লাবের স্বার্থে, সদস্যদের মঙ্গলার্থে এবং পদের মর্যাদা ধরে রাখতে দীর্ঘদিনের কষ্ট, অবহেলা, অপমান,অপপ্রচার,মম সৃষ্টি ও বাহু শক্তি প্রদর্শন ধৈর্যের সঙ্গে নীরবে সহ্য করে গেছি।

আমি কখনও নিজেকে অসাধারণ প্রমাণ করতে চাইনি। সাধারণ একজন মানুষ হিসেবেই থাকতে চেয়েছি সবসময়। বিনয় ও আত্মসম্মানকে সঙ্গী করে চলতে চেয়েছি। কোনো বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে নিজের মর্যাদা বিসর্জন দেওয়ারও ইচ্ছা আমার কখনও ছিল না।

আমি তোমাদের মতো নারীর ইজ্জত লুণ্ঠনকারী হতে চাইনি এবং প্রতারণা করে, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িয়ে, চাঁদাবাজি করে ও চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে জেলে যেতে চাইনি।

কিন্তু মনে রাখা দরকার—নীরবতারও একটা সীমা আছে।

এখন থেকে আমার ভূমিকা বদলেছে।

Tit for tat—যে যেমন আচরণ করবে, জবাবও হবে সে অনুযায়ী। ইনশাআল্লাহ।

যারা আমার নীরবতাকে দুর্বলতা, ধৈর্যকে অক্ষমতা আর দায়িত্বশীলতাকে ভয় ভেবেছেন—তাদের জন্য সময় এসেছে সেই ভুল ধারণা বদলানোর।

এতদিন আমি সম্মানজনক একটি পদের মর্যাদা রক্ষায় অনেক সবকিছুই চেপে গেছি। আজ সেই পদে নেই। তাই দায়িত্বের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত, রাজনৈতিক চাপমুক্ত এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন।

যারা এতদিন আড়ালে থেকে গল্প লিখেছেন, চরিত্র বানিয়েছেন কিংবা অপপ্রচার চালিয়েছেন—এবার সামনে আসুন, আপনাদের মোকাবিলা করতে আমি এখন প্রস্তুত!

আমি আর নীরব দর্শক নই।

এবার কথা হবে—তবে নীরবতা ও আবেগ দিয়ে নয়; কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ বা চরিত্রহনন না করে, তথ্য, প্রমাণ, প্রতিউত্তর ও যুক্তি দিয়ে।

সময়ই বলে দেবে—কে কোন পক্ষে ছিল, কারা নিজেদের স্বার্থে গল্প সাজাচ্ছে, আর কে নীরবে নিজের ইচ্ছের বিরুদ্ধে দায়িত্ব ও চরিত্রটা পালন করে গেছে।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমারে দ্বিগুণ দামে বিক্রি, কক্সবাজারে ফের সক্রিয় সার পাচারকারীরা

এবার সীমান্ত দিয়ে সার পাচারকারীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ইতিমধ্যে টেকনাফসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ...

মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ৬ অপহৃত ভিকটিম উদ্ধারউখিয়া থানার অভিযানে এক মাসে গ্রেপ্তার ১৭১

কক্সবাজারের উখিয়ায় অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ...

সভাপতি সাইফুর রহিম শাহীন, সম্পাদক ফারুক আহমেদউখিয়া প্রেসক্লাবের নির্বাচন সম্পন্ন

কক্সবাজারের উখিয়া প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে আরটিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভার্চুয়াল আদালত, কমবে ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবেন শরণার্থীরা। এতে দূরের আদালতে যাতায়াতের ভোগান্তি ...

ভাঙা ঘর, ভাঙা স্বপ্ন, তবু বেঁচে থাকার লড়াইমাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও হারানোর পথে নুরুল আলম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াজি পাড়ার বাসিন্দা দলিল আহমদের পুত্র নুরুল ...
Single Page Footer