প্রকাশিত: ২০/০৩/২০২০ ১০:২৫ এএম , আপডেট: ২০/০৩/২০২০ ১০:৩৮ এএম

বাংলাদেশে দিন দিন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রাণঘাতী এই ভাইরাস মোকাবেলায় কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। বিদেশ থেকে যাঁরা দেশে ফিরে আসবেন, বিমানবন্দরে তাঁদের প্রত্যেকের হাতে সিল মেরে দেওয়া হবে। বিদেশ থেকে আসার পর ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে না থেকে যদি প্রবাসী কেউ বাইরে ঘোরাফেরা করেন, তাহলে তাঁদের শাস্তি দেওয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করেন। সভায় বেশ কয়েকজন মন্ত্রী করোনাভাইরাস ঠেকাতে শাটডাউন বা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার প্রস্তাব করলেও তা নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করে একসঙ্গে কাজ করব। তা ছাড়া বাংলাদেশকে যদি বিচ্ছিন্ন ঘোষণা করা হয়, তাহলে গ্রামাঞ্চলে অসংখ্য পরিবারে খাবারের সমস্যা হবে। আমদানি-রপ্তানিতে বড় ধরনের সমস্যা হবে। তাই এখনই শাটডাউন নয় বলে সাফ জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকালের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে—প্রবাসী বাংলাদেশি বিমানবন্দরে নামলেই তাঁর হাতে সিল মেরে দেওয়া হবে। যেটি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দেওয়া শুরু হয়েছে। যাতে হাতে সিল মারা দেখলেই মানুষ সতর্ক হতে পারে। ওই ব্যক্তির তো হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার কথা। তা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও চিনতে সুবিধা হবে। যাঁরা নির্দেশ মানবেন না তাঁদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এনইসি সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের জানান, করোনাভাইরাস নিয়ে সভায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, কভিড-১৯ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়; এটি বৈশ্বিক সমস্যা। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় নিজেদের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। জনগণের সুরক্ষা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতিরোধ এবং কাজ একসঙ্গে করতে হবে। সবাইকে সতর্ক হতে হবে। আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। দায়িত্ব ছাড়া যাবে না। কাজ করতে হবে। প্রবাসীদের বাংলাদেশে আসা বন্ধ করার কোনো সিদ্ধান্ত আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীরা নিজ উদ্যোগে নিজ ভূমিতে ফিরে আসছেন। আমরা তাঁদের আবেগকে সম্মান করি। এর মধ্যেও ফাঁকফোকর দিয়ে অনেকে বিমানবন্দর থেকে বের হয়ে চলে যান। তাঁদের এই চলে যাওয়া সমস্যা হতে পারে আমরা সেটা স্বীকার করি। তাই বলে কি তাঁদেরকে লাঠি দিয়ে পেটাব? না। সেটা করা যাবে না। বরং তাঁদের বুঝিয়ে বাড়িতে বিচ্ছিন্ন করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, করোনাভাইরাসের কারণে সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ করা হবে না। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সাবধানে সতর্ক হয়ে কাজ করবেন। মন্ত্রিসভা ও একনেকসভা চলবে। তবে অপ্রয়োজনীয় সভা-সেমিনার বন্ধ হবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে লকডাউন করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, লকডাউন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করার মতো পরিস্থিতি এখনো আমাদের হয়নি। আমাদের জনসংখ্যা বেশি। আমাদের জনগণ লকডাউনে অভ্যস্ত নয়। অনেক সুশৃঙ্খল দেশ আছে সরকার যা অর্ডার দেয়, মেনে নেয় বিনা প্রশ্নে। সেসব দেশের সঙ্গে আমাদের তুলনা করা ঠিক হবে না। তবে লকডাউন নয়, পর্যায়ক্রমে কড়াকড়ি করা হবে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। সরকারি অফিস বন্ধের সিদ্ধান্ত আছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, না। আমরা কাজও করব, জনগণকে সুরক্ষাও দেব—এটি হলো আমাদের নীতি। করোনার কারণে আমরা আমাদের কাজ থেকে পিছপা হব না। করোনা মোকাবেলা করব সামনে থেকে, কাজও করব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, করোনার দোহাই দিয়ে কাজ কমানো যাবে না। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, কোনো কোনো মহল বলেছে, আমরা যেন এই মুহূর্তে মিটিং কমিয়ে দিই। হ্যাঁ, আমরা অপ্রয়োজনীয় মিটিং করব না।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই সার্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিমানের আয় কমে যাবে। রেল, বাস, স্কুলের আয় কমে যাবে। যার প্রভাব আমাদের জাতীয় আয়ের ওপর পড়বে। এ রকম পরিস্থিতিতে কৃষিপ্রধান দেশ হওয়ায় বাংলাদেশিরা ভাগ্যবান বলে মন্তব্য করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাজারে সরবরাহ কমে আসবে। আপনি হয়তো তিন বেলা না খেলেও দুই বেলা খাবেন। আপনি ভাগ্যবান যে একটা কৃষিনির্ভর দেশে বাস করছেন। কুমিল্লা, বগুড়া থেকে সবজি চলে আসবে। মা-চাচিদের কাছ থেকে লাউ-কুমড়া এনে দুই বেলা খেতে পারব। কিন্তু ডেনমার্কসহ অনেক দেশ আছে, রাত পোহালে ওই দেশে বিমানে করে সবজি নামে। প্রতিদিন সকালে বিমানে সবজি, দুধ, মাখন, পাউরুটি নিয়ে নামে সুইজারল্যান্ডে। তাদের তো লাউ-কুমড়া সবজি নেই। তাদের তো পানি আসে বাইরে থেকে। এসব দিকও বিবেচনা করতে হবে।

এদিকে শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় গতকাল সকালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের বৈঠকে একজন প্রতিমন্ত্রী এবং এক সচিব সভাস্থল ত্যাগ করেন।

পাঠকের মতামত

টেকনাফের একরামুলকে সরাসরি গুলি করেন কারা, জানালেন চিফ প্রসিকিউটর

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, কক্সবাজারের টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডে ...

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের ইয়াশনা

​চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইয়াশনা ইকতার জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ...

বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণ সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে বিস্তৃত ইয়াবা নেটওয়ার্ক

কখনো বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, কখনো সুন্দরী নারী, কখনো পেটের ভেতর, কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশে, আবার কখনো ...

ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই করবেন থানা-উপজেলা নেতারা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের প্রতিটি স্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী ...

সব বাধা পেরিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী

দেশকে প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকার খাত হিসেবে বিবেচনা ...
Single Page Footer