প্রকাশিত: ২১/১২/২০১৬ ৭:২২ পিএম
বাসস

ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেত্নো মারসুদি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশে তাঁর ২৫ ঘণ্টার ঝটিকা সফর শেষে গত রাতে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।

এর আগে সোমবার ইয়াঙ্গুনে অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্স (আসিয়ান) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির বৈঠকে যোগদানের পর মারসুদি সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন।

গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর সাম্প্রতিক সহিংসতা ও নির্যাতনের বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য মারসুদি ঢাকা সফর করছেন। নির্যাতনের কারণে হাজার হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে আসায় যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তার সমাধান চায় ইন্দোনেশিয়া।

ইন্দেনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেছেন, মিয়ানমার বাংলাদেশ থেকে অবৈধ বসবাসকারীদের ফিরিয়ে নেবে এবং আসিয়ানভুক্ত দেশের সদস্যরা মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাহায্য করবেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মাটি প্রতিবেশী দেশগুলোর দ্বারা কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি ও বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার বরদাশত করবে না বলে বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

এর আগে সকালে ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেত্নো মারসুদি এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের অবস্থা ও তাদের রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য হেলিকপ্টারে করে কক্সবাজারের উখিয়ায় যান।

এই সফরের সময় মাব্সুদি রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বহু বছর ধরে অবৈধভাবে বসবাসকারী মিয়ানমারের নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি গত অক্টোবর মাস থেকে মিয়ানমারে সংগঠিত সহিংসতা ও নির্যাতনে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেন।

গতকাল কক্সবাজার থেকে ফিরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাঁর ফেসবুক ওয়ালে মন্তব্য করেন, ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারের উখিয়ায় বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সোমবার আশিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগদান করার ফলে তিনি (ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র) ভবিষ্যতে মিয়ানমারের সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।

কক্সবাজারের উখিয়ায় দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক, বাংলাদেশে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত আইওয়ান উইরানাতা-আটমাডজা, আইওএম বাংলাদেশের মিশনপ্রধান সারাত দাশ ও ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ শিনঝি কুব।

পাঠকের মতামত

বাংলাদেশ-মিয়ানমারের একটি অংশ নিয়ে খ্রিস্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত এখনো চলছে। কোনো এক সাদা চামড়ার দেশ বঙ্গোপসাগরে ...