প্রকাশিত: ০৮/০৯/২০১৭ ৭:৫৫ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১:৫৩ পিএম

ডেস্ক রিপোর্ট::
মিয়ানমারে সেনা নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে নাফ নদ অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। আর এই অনুপ্রবেশে বিশেষ সুবিধা নিয়ে সহায়তা করে থাকে দালালরা। তারা জেলের ছদ্মবেশে নাফ নদে নৌকা ভাসিয়ে রোহিঙ্গাদের এপারে পৌঁছে দেয়। এসব দালালকে পেশাদার মত্স্যজীবীদের থেকে আলাদা করাও বেশ দুরূহ। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা স্রোত ঠেকাতে নাফ নদে মাছ ধরাই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ট্রলার চলাচলের ওপরও পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে কর্মহীন হয়ে পড়তে যাচ্ছে এক হাজার ১৩৫ জন জেলে।

নাফ নদে মাছ শিকার বন্ধসংক্রান্ত একটি নির্দেশনা গত বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে পাঠানো হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন কবে থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর করা হবে। কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ কে এম ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সীমান্তের বিভিন্ন পথ ধরে রোহিঙ্গারা অগ্রসর হচ্ছে।

এ কারণে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, এক মাস নাফ নদে জেলেদের মাছ ধরা ও ট্রলার চলাচল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারি হিসাবে নাফ নদে এক হাজার ১৩৫ জন জেলে মাছ ধরে। যেদিন থেকে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হবে, সেদিন থেকে প্রত্যেক জেলেকে রিলিফ দেওয়া হবে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) খালেদ মাহমুদ গতকাল বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নাফ নদে ২৭০টি ট্রলার দিয়ে মাছ ধরা হয়ে থাকে। রোহিঙ্গা সমস্যা শুরুর পর থেকে মাছ ধরার কিছু ট্রলার ভয়ে চলাচল করছে না। যেগুলো চলছে, সেগুলোও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ পাওয়া গেছে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জেলেদের রিলিফ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি বৈঠক করে তারিখ ঠিক করা হবে। ’

মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বন্ধের নির্দেশ : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক মিয়ানমারের রাখাইন এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। ফলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে। তারা যাতে এ সুযোগ নিতে না পারে সে জন্য মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সেই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হবে বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু বাংলাদেশের ফোনের নেটওয়ার্কই নয়, মিয়ানমারে ব্যবহৃত মোবাইল কম্পানির নেটওয়ার্কও পাওয়া যায় কক্সবাজার এলাকায়। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রথমে নিজেদের মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। পরে মিয়ানমারের নেটওয়ার্ক নিয়ে ভাবা হবে। ’ এ বিষয়ে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটার্নাল কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিটিআরসি সব মোবাইল অপারেটরকে নির্দেশনা দিয়েছে যে তাদের নেটওয়ার্ক যেন মিয়ানমারে ব্যবহার করা না যায়। যদিও আমাদের নেটওয়ার্ক ওই এলাকায় বাংলাদেশের সীমানার বাইরে ব্যবহার করা যায় না; তবু আমরা পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দেখছি এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’

নতুনদের নিবন্ধন শুরু হয়নি : দেশে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের তালিকা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তবে এখনো নিবন্ধন শুরু হয়নি বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ। তিনি গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে জানান, এ দায়িত্ব পালন করবে পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এখন পর্যন্ত (গতকাল সন্ধ্যা ৬টা) তারা এসে পৌঁছায়নি বলে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা যায়নি।

সূত্র জানায়, রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহসহ বিভিন্ন বিষয় সামলানোর জন্য কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লোকবল চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এডিএম খালেদ মামুদ জানান, গতকাল পর্যন্ত পাঁচজন ম্যাজিস্ট্রেট পাওয়া গেছে।

সুযোগ নিচ্ছে দালালরা : রোহিঙ্গাদের অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশে প্রবেশে সহযোগিতা করছে একটি দালালচক্র। তারা নাফ নদে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত ট্রলার দিয়ে রোহিঙ্গাদের এপারে আনতে জনপ্রতি এক হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। আরেক শ্রেণির দালাল এ দেশে প্রবেশের পর রোহিঙ্গাদের নিজেদের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে পৌঁছে দিচ্ছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। এ জন্যও তাদের দিতে হচ্ছে অর্থ।

উখিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের গতকাল টেলিফোনে জানান, গত কয়েক দিনে দালালচক্রের আটজনকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

পাঠকের মতামত

সেনাবাহিনীর প্রধান হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আগামী ২৩ জুন তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব ...