প্রকাশিত: ১৮/১২/২০১৬ ৮:১০ এএম

নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে রোববার বঙ্গভবনে যাচ্ছে বিএনপি। বড় রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলকেই ডাকা হবে আলোচনার জন্য। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সংলাপের উদ্যোগে রাজনৈতিক আকাশে আশার আলো দেখছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা।

বিশেষ করে বিএনপি এ আলোচনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তারা মনে করছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেমন হবে তা নবগঠিত নির্বাচন কমিশন দেখে অনেকটা অনুধাবন করা যাবে। সে কারণে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও দেশের মানুষের নজর এখন রাষ্ট্রপতির দিকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান কমিশনের মেয়াদ আগামী ফেব্রুয়ারিতে শেষ হবে। এর আগেই নতুন কমিশন গঠনের বিধান রয়েছে। সার্চ কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে পাঁচ সদস্যের নতুন ইসি নিয়োগের আভাস দিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এর পরই বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ইসি গঠনে সংলাপের তাগিদ দিয়েছিলেন।

এদিকে ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা আছে- কীভাবে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন হবে।

রাষ্ট্রপতির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্টজনরা। সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন রাষ্ট্রপতির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটা ভালো উদ্যোগ, তবে রাষ্ট্রপতি কী জন্য ডেকেছেন, কী বিষয় আলোচনা করবেন তার জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রপতির এ উদ্যোগে সবার সম্মতিতে ইসি গঠিত হবে এবং ইসির হাতে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমরা মনে করি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনার মাধ্যমে দেশে নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতা কেটে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামীকাল বঙ্গভবনে আলোচনার জন্য বিএনপি সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আলোচনায় বিএনপির প্রধান দাবি থাকবে নিরপেক্ষ একটি নির্বাচন কমিশন গঠন। তার আগে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে ইসির জন্য সার্চ কমিটি গঠন করা। এ প্রক্রিয়ার সহায়ক হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রস্তাবিত ১৩ দফা তুলে ধরা হবে। সার্চ কমিটির জন্য কয়েকজন বিশিষ্টজনের নামও প্রস্তাব করবে বিএনপি।

এদিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি আলোচনার জন্য ডাকলে তারা দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আলোচনা করতে যাবেন। বিএনপির মতো কোনো প্রস্তাব তারা রাষ্ট্রপতিকে দেবেন কি-না জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, প্রস্তাবের বিষয় নিয়ে দলে কোনো আলোচনা হয়নি।

তবে আরেক নেতা জানান, প্রস্তাব হবে সংবিধানে যেটা আছে সেটাই। দলের সভাপতি আগেই বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যেভাবে ইসি গঠন করবেন সেটাই আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।

উল্লেখ্য, সংবিধানের ১১৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের রাষ্ট্রপতিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অনধিক চারজন কমিশনার নিয়োগের বিষয়ে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে তিনি নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেবেন।

২০১২ সালে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই ‘সার্চ কমিটির’ মাধ্যমে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন গঠন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান।

পাঠকের মতামত

২-১ দিনের মধ্যে মিয়ানমারের আশ্রিতদের ফেরত পাঠানো হবে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, মিয়ানমারে সামরিক জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহীদের সংঘর্ষের জেরে দেশটি থেকে ...

সমুদ্রপথে সেনা ও সীমান্তরক্ষীদের ফিরিয়ে নিতে চায় মিয়ানমার

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিপি), পুলিশ, ইমিগ্রেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের দেশটি নৌবাহিনীর ...