ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২৫/০১/২০২৩ ৭:৪৯ এএম

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু গ্রামে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের তান্ডবে তুমব্রু প্রাইমারী স্কুলে শিক্ষা ব্যবস্থাসহ সব ধরণের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট জনেরা। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) পৃথক পৃথকভাবে তারা এ উদ্বেগের কথা জানান।

ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ, ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খাইরুল বশর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলহাজ্ব রাজা মিয়া ও তুমব্রু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার রাজা মিয়া বলেন, ৬ দিন অতিবাহিত হলেও সোয়া ৪ হাজার রোহিঙ্গা তুমব্রু গ্রামে অবস্থান করছে। এ বিতাড়িত রোহিঙ্গারা অপরিকল্পিতভাবে বসতি নির্মাণের কারণে তারা খোলা জায়গায় পায়খানা-প্রশ্রাব সারছে যত্র-তত্র। সর্বত্র দূর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া উপযুক্ত রোহিঙ্গা যুবক-যুবতীরা পর্দা করার তেমন পরিবেশে নেই। বাংলাদেশী সোসাইটি আর মিয়ানমার পরিবেশ ভিন্ন। এ কারণে একটি ছোট্ট তুমব্রু গ্রামে এতো রোহিঙ্গার বসবাস মারাত্মক ভাবে পরিবেশ নষ্ট করছে। এছাড়াও রয়েছে মাদকাসক্ত রোহিঙ্গাদের তান্ডবও।
সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল বশর বলেন, রোহিঙ্গা মানে অন্য পরিবেশের এক জাতিগোষ্ঠী। তারা তার প্রিয় গ্রাম তুমব্রুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য সহ সব ধরণের পরিবেশ নষ্ঠ করছে। বিশেষ করে তুমব্রু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে চরম ভাবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তার নিবেদন, এ রোহিঙ্গাদের কে দ্রুত তুমব্রু গ্রাম থেকে যে অন্যত্র নেয়ার ব্যবস্থা করার হউক।
চেয়ারম্যান জাহাঙ্গির আজিজ বলেন, তুমব্রু গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুমব্রু প্রাইমারী স্কুল। অভিভাবকরা অনিরাপদ মনে করায় অনেক বাচ্চাদের স্কুলে পাঠাচ্ছে না। তবে তিনি সবাইকে অভয় দিয়ে যাচ্ছেন। তার মতে এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা ব্যবস্থার খুবই ক্ষতি হবে।
তুমব্রু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, তার স্কুলের নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৬২ জন। তারা ক’দিন ধরে অনিয়মিত। শূন্যরেখায় আগুন ও গোলাগুলির ঘটনার প্রথম দিন ১৮ জানুয়ারি তার স্কুলে শিক্ষার্থী আসে নি ভয়ে। কারণ সে দিনই এ সব আশ্রিত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ প্রথম জড়ো হতে থাকে স্কুল বারান্দা ও উঠানে।
তিনি আরো বলেন, শুক্র-শনি দু’দিন স্কুল বন্ধ থাকায় অবস্থা তেমন বুঝা যায় নি। রোববার শিক্ষার্থী উপস্থিত হন মাত্র ২’শ। পরের দিন সোমরার উপস্থিতি ছিলো ৩ শত। তবে সরকারের জাতীয় কৃমি নাশক ট্যাবলেট খাওয়ার ডাকে সাড়া দিয়ে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী স্কুলে আসে ৪৯০ জনে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেষে এতো রোহিঙ্গা আশ্রয় নিলে শিক্ষার মারাত্মক ক্ষতি হবে। বাচ্চা আসতে চাচ্ছে না। দ্রুত ব্যবস্থা দরকার।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নাইক্ষ্যংছড়ি সদরে উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির সভায় কয়েকজন সদস্য তুমব্রু গ্রামে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ গ্রামের একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তুমব্রু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানকার প্রায় ৬ শত শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে হবে। তাদের শিক্ষা জীবন ঝুুঁকিতে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোমেন শর্মা এ বিষয়ে বলেন, দুটো বিষয়ই অতিগুরুত্বপূর্ণ। একটি রাষ্ট্রীয় অপরটি শিশু শিক্ষার্থীর স্বার্থ। সুতারাং তিনি তুমব্রু সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাস এলাকা থেকে এসব আশ্রিত রোহিঙ্গাদের পাশে কোথাও সরাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন। তবে তা হবে উর্ধ্ব মহলের সাথে আলোচনা করে।

পাঠকের মতামত

১৫ আগস্ট ঘিরে খিচুড়ি রান্নার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানসহ দুই ভাই গ্রেপ্তার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী যুবলীগ সহ-সভাপতি সোহেল রানা পবন ...

দুইদিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা যাওয়া শিহাব পেলো গোল্ডেন এ প্লাস

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দুইদিন আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিহাব নামে ...
Single Page Footer