প্রকাশিত: ০৯/০৮/২০১৭ ৯:৩৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৩:২৭ পিএম
ফাইল ছবি

নিউজ ডেস্ক ::
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু প্রবেশ, মানব পাচার ও মাদক চোরাচালান বন্ধ করার প্রক্রিয়া জোরদার করতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর একটি নতুন অঞ্চল (রিজিওন) খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।“মিয়ানমার সীমান্তে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার কক্সবাজার সেক্টরকে বিজিবির একটি অঞ্চলে উন্নীত করেছে,” বেনারকে বলেন টেকনাফ অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি’র দুই ব্যাটালিয়ন কমান্ডার ও পরিচালক এস এম আরিফুল ইসলাম।খুব অচিরেই রামু রিজিওন নামক নতুন অঞ্চল চালু হবে। আর নতুন রিজিওনটি হবে বিজিবি’র পঞ্চম অঞ্চল, জানান তিনি।তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যেই একটি অঞ্চল হিসেবে কাজ শুরু করে দিয়েছি, শিগগিরই এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে।”বর্তমানে বাংলাদেশে বিজিবির মোট চারটি অঞ্চলের মধ্যে কক্সবাজার চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত একটি সেক্টর, যেখানে ৪ হাজারের মতো বিজিবি সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরিফুল।
নতুন অঞ্চলে বিজিবি সদস্য সংখ্যা কত হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বেনারকে বলেন, “সঠিক সংখ্যা বলতে না পারলেও বলতে পারি যে, বর্তমানে কক্সবাজারে আমাদের চারটি ব্যাটালিয়ন রয়েছে। আমরা ব্যাটালিয়ন এবং সদস্য সংখ্যা দুটিই বাড়াব।”
সাধারণত একজন লে. কর্নেল এর নেতৃত্বে এক হাজারে মতো সদস্য নিয়ে বিজিবির একেকটি ব্যাটালিয়ন গঠিত হয়। কয়েকটি ব্যাটালিয়ন মিলে একটি সেক্টর ও কয়েকটি সেক্টর সমন্বয়ে একটি অঞ্চল হয়ে থাকে। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তা প্রতিটি অঞ্চলের প্রধান হিসেবে থাকেন।
দক্ষতা বাড়বে মিয়ানমার সীমান্তে
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বেনারকে বলেন, নতুন রিজিওন চালু হওয়ার পর বিজিবি আরও দক্ষতার সঙ্গে কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া ও আশেপাশের এলাকায় মানব পাচার, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান, ইত্যাদি অবৈধ কর্মকাণ্ড দমন করতে পারবে।“রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে মাদক পাচার, মানব পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত। আমরা মাদক, মানব পাচার, অস্ত্র চোরাচালানসহ সকল অপরাধ দমন করতে সীমান্তে বিজিবি’র কার্যক্রম আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,” বলেন মন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ২০১৫ সাল থেকে বর্তমান বছরের জুন মাস পর্যন্ত ১,৭৩৬ জন বিদেশগামী নাগরিককে সাগর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, কোস্ট গার্ড বাহিনী ওই এলাকায় ২০১৬ সালে ২৩,৩০৬টি মানব পাচার বিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে।২০১৫ সালের মে মাসে থাইল্যান্ড সরকার আন্তর্জাতিক মানব পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে টেকনাফ দিয়ে সমুদ্রপথে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে। হাজার হাজার মালয়েশিয়াগামী বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নর-নারী, শিশুকে সাগর থেকে উদ্ধার করে বিজিবি ও কোস্টগার্ড বাহিনী।সম্প্রতি প্রকাশিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মানব পাচার সম্পর্কিত রিপোর্টে বাংলাদেশকে অবনমিত করা হয়েছে।টেকনাফ কমান্ডার আরিফুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে বিজিবির কক্সবাজার, টেকনাফ, রামু, উখিয়া অঞ্চলের কার্যক্রম চট্টগ্রাম রিজিওন থেকে পরিচালিত হয়। তাই কখনো কখনো কাজে অসুবিধা হয়। নতুন রামু রিজিওন চালু হলে আমাদের কাজের গতি বাড়বে। আমরা আরো দক্ষতার সঙ্গে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মানব পাচার, মাদক, বিশেষ করে ইয়াবা চোরাচালান বন্ধ করতে পারব।”তবে শুধু বিজিবির নতুন রিজিওন খোলার মাধ্যমে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, মাদক বা মানব পাচার কোনোটিই বন্ধ করা যাবে বলে মনে করেন না সংশ্লিষ্টরা।
এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা ও অভিবাসন বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আসীফ মুনীর বেনারকে বলেন, “বিজিবি’র রিজিওন খুলে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ, মাদক বা মানব পাচার কোনটিই বন্ধ করা যাবে না; এটি একটি খণ্ডিত সিদ্ধান্ত। বিজিবি সদস্য বাড়ালে বা টহল বাড়ালে তারা হয়ত বাধা দিতে পারবে। কিন্তু বন্ধ করতে পারবে না।”
তিনি বলেন, মাদক ও মানব পাচার এবং রোহিঙ্গাদের আসা বন্ধ করতে হলে দরকার সমন্বিত কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ।

পাঠকের মতামত

সেনাবাহিনীর প্রধান হলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

সেনাবাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। আগামী ২৩ জুন তিনি সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব ...