প্রকাশিত: ১৩/১০/২০১৭ ৯:২০ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১২:১৯ পিএম

শফিক আজাদ,উখিয়া নিউজ ডটকম::

মিয়ানমার সেনা বাহিনীর হাতে বর্বতার শিকার হয়ে পালিয়ে আসা এক রোহিঙ্গা মেয়ে জানিয়েছেন তার বাবা-মা কেউ নেই। মগ (সেনা) তাদেরকে মেরে ফেলেছে। ৪ বড়বোন ও ২ভাই এখন এতিম। গত ৫ অক্টোবর নৃশংস কায়দায় হত্যা করে বাবা শামসুল আলম (৪০) ও মাতা রমিদা বেগম (৩৫) কে। ফলে ৬ ভাই -বোন এতিম হয়ে পাড়ালিয়া লোকদের সাথে পালিয়ে আসে জান্নাত আরারা। মিয়ানমারের মংডু বলিবাজার তাদের বাড়ী। ৫ অক্টোবর জান্নাত আরা ও তার অপরাপর সকলেই বাংলাদেশ মুখী হয়ে রওয়ানা দেয়। পথিমধ্যে আকস্মিক মগ (সেনা)বাহিনী সামনে পড়ে যায়। বাবা -মা কে টেনে হেছড়া করে বন্দুকের বাট দিয়ে বিক্ষিপ্ত আঘাত করে নিয়ে যায়। এ প্রান বাচাঁতে জান্নাত আরা (৮), বড় ভাই মোঃ ইউনুছ (২০), বিবাহিত বোন সুপাইরা (১৮), ভাই মোঃ কালু (১৪), বোন নুর কায়েদা (১২), শফিকা (১০) সহ ৬জনই ঘুমধুম সীমান্তের তুমব্রু জিরো পয়েন্ট দিয়ে গত ২দিন ওপারে পাহাড়ি ও জলপথ বেয়ে এপারে পালিয়ে আসে। আশ্রয় নিয়ে বস্তি গেঁড়েছে বালুখালীর জুমের ছড়ায়। গত ৬ দিন পুর্বে এপারে এসেছে জান্নাত আরা রা। চোঁখে -মুখে হতাশা আর বিষন্নতার ছায়া। অপলক চাহনী জান্নাত আরার। অসহায়ত্ব যে কারো মন নাঁড়া দেবে জান্নাত আরা কে দেখে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় জান্নাত আরা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের ধারে একা বসেছিল কারো দয়া ও করুণার আশায়। মাঝে-মধ্যে ঘুরাঘুরি এ দোকানে ও দোকানে। তেমন একটা কথা বলেন না। জিজ্ঞেস করলেই উত্তর মেলে। জান্নাত আরার মায়াবী চেহারা ও অসহায়ত্ব মুখ দেখেই জিজ্ঞেস করা হলে বাবা-মা কে মগ সেনারা কিভাবে হত্যা করেছে? কিভাবে এপারে পাড়ি দেয় তার বর্ণনা দেয় সে। অন্য ভাইবোন কোথায় প্রশ্ন করতেই বলে বড়বোনরা বস্তিতে, ভাইরা ত্রাণের আশায় ছুটাছুটি করছেন। সকালে কি খেয়েছো জিজ্ঞেস করলে বলে, এখনো ভাত খাইনী! লোকজনের দেয়া নাস্তা পানি খাইছি। সত্যিই হৃদয়স্পর্শী ঘটনা জান্নাত আরা দের। আত্মীয়স্বজন বলতে যারা আছে, তারাও একেক পরিবার একেক ¯’ানে। জান্নাত আরা জানে না তাদের ভবিষ্যৎ কি?। বাবা-মা কি আর ডাকতে পারবে? না। এরপরও ভাইদের সাথে জীবন সংগ্রাম একটু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। এধরনের অনেক বাবা-মা হারানো এতিম সন্তান রয়েছে উখিয়া-টেকনাফে। সমাজ সেবা অধিদপ্তর এসব এতিম শিশুদের জরীপ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে উখিয়া-টেকনাফে ১১হাজার এতিম শিশু জরীপের আওতায় এসেছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা মোঃ হাছান।

পাঠকের মতামত

নিজের সম্মানির টাকা মেধাবী শিক্ষার্থীকে দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া নিজের প্রাপ্ত সম্মানির টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রদান করলেন ...