ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ৩১/১০/২০২৬ ১০:১৮ এএম

 

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমানবন্দর থেকেই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৩৬ ফ্লাইটে মরদেহগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এই সাতজনের মধ্যে পাঁচজন নওগাঁর এবং দুজন নাটোরের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনের মরদেহ নিতে এসে কান্না আর আহাজারিতে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মৃত সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের লাশ বাড়ি নেয়ার জন্য বিনামূল্যে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেক পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা নগদ এবং পরবর্তীতে আরও তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার। এছাড়া মৃত সাতজনের মধ্যে চারজনের নামে বিমা করা থাকায় তাদের পরিবার আরও ১০ লাখ টাকা করে পাবেন।

গত ৯ আগস্ট রিয়াদের ওই সোফা কারখানায় ভয়াবহ আগুনে মোট ১৬ বাংলাদেশি কর্মী প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে ৯ জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট দেশে পাঠানো হয়েছিল। পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় বাকি সাতজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এবার তাদের মরদেহ দেশে ফেরত আনা হলো।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কাউন্সেলর (শ্রম) মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, ১০ অক্টোবর থেকে রিয়াদ থেকে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকায় মরদেহগুলো সড়কপথে জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেয়া হয়। সেখান থেকেই বিমানে করে মরদেহগুলো ঢাকায় আনা হয়েছে।

নিহত শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার পার নওগাঁ গ্রামের শাহিন; আত্রাই উপজেলার দুবাই গ্রামের হাসিবুল হাসান, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মাসিদুল সরদার এবং সাহানগর গ্রামের সাগর আলী। এছাড়া নাটোরের লালপুর উপজেলার দীঘিরপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের শরিফ হোসেন রয়েছেন।

 

 

প্রিয়জনকে হারানোর বেদনার পর এবার শেষবারের মতো একনজর দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা। নওগাঁ শহরের পার নওগাঁ তাজের মোড় এলাকার মৃত শাহিনের স্ত্রী পারভীন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মানুষটাক তো হারায়েই ফেলছি। যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। এখন লাশটা অন্তত দেশত থাকলে ছাওয়াল-পোয়ালরা বাপের লাশটা দেখতে পাবে।’

মরদেহ বিমানবন্দর থেকে গ্রহণ করে নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন স্বজনরা। আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনিরুজ্জমান জানিয়েছেন, স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং মরদেহ দাফন সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দেয়া হবে।

পাঠকের মতামত

শাহপরীর দ্বীপে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম উত্তরপাড়ায় জমি নিয়ে পূর্বশরিয়তের জের ধরে কবির আহমদ চৌকিদারের ...

উখিয়ায় জলবায়ু ঝুঁকির প্রভাবে শিশুদের সুরক্ষায় তরুণ গবেষকদের তথ্য প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়ায় জলবায়ু ঝুঁকি প্রবণতা ও সক্ষমতা যাচাই বিষয়ক অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ ...

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে বাস-ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষ, মারা গেল বাবা-মেয়ে

সাতকানিয়ায় মিনি বাসের সাথে সিএনজিচালিত ট্যাক্সির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা–মেয়ে নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছে। ...