প্রকাশিত: ০৭/১২/২০১৬ ৯:১২ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিলকে ময়মনসিংহ শহরের ভাটিকাশর পৌর কবরস্থানে তাঁর দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

এর আগে আজ বুধবার বাদ মাগরিব শহরের কেন্দ্রীয় আঞ্জুমান ঈদগাহ ময়দানে হাজারো মানুষ তাঁর জানাজায় অংশ নেয়।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী আলহাজ অধ্যক্ষ মতিউর রহমান এবং মাহবুবুল হক শাকিলের বাবা ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা।

জহিরুল হক খোকা ছেলের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি জানান, আগামী শুক্রবার বাদ জুমা শহরের বাঘমারার নিজ বাড়িতে শাকিলের দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

জানাজায় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ হোসেন খান জয়, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন, সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আহমেদ, সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহীন, সংসদ সদস্য ফাহিম গোলান্দাজ বাবেল, সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সংসদ সদস্য আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন, আওয়ামী লীগ নেতা অসীম কুমার উকিল, বিভাগীয় কমিশনার জি এম সালেহ উদ্দিন, পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ মো. নুরুল ইসলাম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি এ কে এম মোশাররফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ওয়াহাব আকন্দ, পৌর মেয়র ইকরামুল হক টিটু, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহিত-উর রহমান শান্ত এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, জাসদ, ওয়াকার্স পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হাজারো নেতাকর্মী।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের সামদাদো রেস্তোরাঁ থেকে শাকিলের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে তা বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়। আজ সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারপর শাকিলের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহে।

দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর বাঘমারা রোডের বাসার সামনে শাকিলের মরদেহবাহী গাড়িটি পৌঁছায়। এসময় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা ও দলীয় নেতাকর্মীরা কান্নার ভেঙে পড়েন। শাকিলের মা নুরুন্নাহার টগর বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। এ সময় শাকিলের বাসায় নামে শোকার্ত মানুষের ঢল।

অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা বিলাপ করছিলেন, ‘আল্লাহ আমাকে নিয়ে যাও। আমার শাকিলকে ফিরিয়ে দাও। আমার বুকের মানিককে ছাড়া কীভাবে আমি বাঁচব।’

বিকেল ৪টার নগরীর টাউন হল মাঠে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মাহবুবুল হক শাকিলের মরদেহ রাখা হয়। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা আওয়ামী লীগ, মহানগর আওয়ামী লীগ, জেলা ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।

মাহবুবুল হক শাকিল এর আগে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব (ডিপিএস) হিসেবে সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

শাকিল ১৯৬৮ সালের ২০ ডিসেম্বর টাঙ্গাইলে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও আনন্দমোহন কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মাহবুবুল হক শাকিলের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায়। তাঁর বাবা জহিরুল হক খোকা আইনজীবী আর মা নুরুন্নাহার খান সাবেক শিক্ষিকা। সাবেক এই ছাত্রনেতা সাহিত্য অনুরাগী ও লেখক ছিলেন। তাঁর প্রকাশিত বইগুলো হলো ‘খেরোখাতার পাতা থেকে’ ও ‘মন খারাপের গাড়ী’। তিনি স্ত্রী ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

পাঠকের মতামত

‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার রাজি থাকা সত্ত্বেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারণ খুঁজতে হবে’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ...