প্রকাশিত: ৩০/০৩/২০১৭ ৮:৪৩ এএম

উখিয়া নিউজ ডেস্ক::
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না। জঙ্গিরা ইসলামকে হেয় করছে। এ ব্যাপারে ইমাম, ধর্মীয় পন্ডিতসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। গতকাল বুধবার বিকালে ফরিদপুরে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

দেশে সংঘটিত জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া কখনো সমর্থন করে না। এই জঙ্গিবাদ ইসলামকে বিশ্বব্যাপী হেয় করছে। মুসলমানদের মান-সম্মান নষ্ট করছে। এ ব্যাপারে প্রত্যেককে সোচ্চার হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের ছেলে-মেয়েরা কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে সে ব্যাপারে খোঁজখবর রাখবেন। আপনাদের সন্তানদেরকে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের পথ থেকে রক্ষা করবেন।’ এ সময় তিনি স্কুল-কলেজে কোন কোন শিক্ষার্থী অনুপস্থিত থাকছে সে ব্যাপারে শিক্ষকদের সতর্ক থাকতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে ২০১৯ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়। নৌকায় ভোট দিয়ে আপনারা উন্নয়ন পেয়েছেন। ২০০৮ সালে যখন ফরিদপুরে আসি তখন দেখেছি এখানে বিদ্যুত্ নাই, রাস্তা নাই, সন্ত্রাসের রাজত্ব, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এই এলাকায় উন্নয়ন না করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করেছে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এবং জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটায়।

ফরিদপুরবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের জন্য আজ অনেক উপহার নিয়ে এসেছি। এই এলাকা সব সময় অবহেলিত ছিল। বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত ফরিদপুরে কোনো সরকার উন্নয়ন করেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর থেকে এখানে সবধরনের উন্নয়ন বন্ধ ছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে ফরিদপুরের সব উন্নয়ন করেছি।’

ফরিদপুরকে নতুন বিভাগ করার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা ঢাকাকে ভেঙে ময়মনসিংহ বিভাগ করেছি। ঢাকাকে ভেঙে নতুন আরেকটি বিভাগ হবে। ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর নিয়ে বিভাগ করা হবে। এ ব্যাপারে আমাদের পরিকল্পনা আছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা ফরিদপুরবাসী জানেন ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এসে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। ফরিদপুরে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর চালিয়েছিল হত্যা-নির্যাতন। সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছিল।’ এ সময় তিনি বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের খুন হওয়া নেতা-কর্মীদের তালিকা তুলে ধরেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তারা একদিকে ধর্মের কথা বলে অন্যদিকে মানুষ পুড়িয়ে মারে, পবিত্র কোরআন পোড়ায়। হরতাল-অবরোধের নামে দেশবাসীকে জিম্মি করে।’

প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরেন। পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলের চিত্র পাল্টে যাবে বলে জানান তিনি।

ফরিদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবল চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ, সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান, নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী সভাস্থলে এসেই ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ১১টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

পাঠকের মতামত

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা সীমান্তরক্ষীদের নিতে জাহাজ আসবে এ সপ্তাহেই

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে চলে আসা দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্যদের ফের ...