প্রকাশিত: ০৩/০৯/২০১৭ ৭:০৩ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ২:০৯ পিএম

নিউজ ডেস্ক::
অনাগত সন্তানের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্যই বাবা স্বাধীনতার আন্দোলনে। এর মধ্যেই লেগে গেল সংঘাত। রাষ্ট্র সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল নিরস্ত্র রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রাখাইনে মুসলিমদের গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে। দেখামাত্র গুলি। গ্রামের অন্যদের সঙ্গে তাকে গর্ভে নিয়েই মা পালিয়ে আশ্রয় নিলেন দুর্গম পাহাড়ে। এরপর বসবাস খোলা আকাশের নিচে।

নিজভূমের চেয়ে নিরাপদ জঙ্গলেই নিষ্ঠুর পৃথিবীর আলো দেখল নবজাতকটি। কিন্তু সেই সোনা রোদ তার কাছে ধরা দিল নিষ্ঠুর হয়ে। এরপর থেকে সে কখনো রোদ, কখনো দেখছে বৃষ্টিভেজা দিন।

বলছি, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচারে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মায়ের সদ্য ভূমিষ্ট শিশুর কথা। লায়লা বেগমের বাড়ি মিয়ানমারের মংডু থানার বউবাজার এলাকায়। মাত্র চার দিন আগে তিনি সন্তান প্রসব করেছেন।

মিয়ানমারের সেনাবানিহীর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রসবের যন্ত্রণা নিয়েই বাংলাদেশের পানি পালিয়ে আসেন। আশ্রয় নেন পাহাড়ি জঙ্গলে। সেখানেই চার দিন আগে লায়লা বেগম জন্ম দিন শিশুটি।

পরে অবশ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পেরেছেন। এখন না খেয়ে থাকতে থাকতে নিজের বুকের দুধ শুকিয়ে গেছে। টাকা-পয়সাও সঙ্গে নেই। বাংলাদেশে তিনি এখন কোথায় থাকবেন তাও জানা নেই।

এর সঙ্গেই ভর করেছে মাত্র চার দিনের নিষ্পাপ শিশুকে নিয়ে লায়লা বেগম কীভাবে বাঁচাবেন!

টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, একটি ধানক্ষেতের পাশে বসে নিজের ছোট্ট শিশুকে একটি পানির বোতলে দুধ খাওয়াচ্ছেন এই মা। এই সামান্য দুধটুকু শেষ হলে পরে কি খাওয়াবেন তা তিনি জানেন না।

ধানক্ষেতের পাশে বসেই কথা হয় এই রোহিঙ্গা মায়ের সঙ্গে। লায়লা বেগম জানান, রাখাইন স্বাধীন করতে তার স্বামী স্বাধীনতাকামীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। আর তিনি নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে বার্মার পাহাড়ের এক জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেই তার সন্তানের জন্ম। ওই জঙ্গল থেকেই তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

তিনি আরও জানান, তার সন্তানের বয়স মাত্র চার দিন। কিন্তু এই দুধের শিশুকে খাওয়ানোর মতো দুধ বা দুধ কেনার টাকা তার কাছে নেই। এখানে না খেয়ে, রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে কোনো রকমে দিন কাটছে তার।

গত ২৪ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইনে সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশ সীমান্তের জিরো পয়েন্টে হাজার হাজার রোহিঙ্গা অবস্থান নিয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে না দিলেও গত এক সপ্তাহে জাতিসংঘের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে।

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে রাখাইন রাজ্যে পরিস্থিতি শান্ত করতে মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।
সুত্র: পরিবর্তন

পাঠকের মতামত

নিজের সম্মানির টাকা মেধাবী শিক্ষার্থীকে দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া নিজের প্রাপ্ত সম্মানির টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রদান করলেন ...