সাঈদ মুহাম্মদ আনোয়ার, উখিয়া নিউজ ডটকম।
প্রকাশিত: ১২/১১/২০২৫ ৩:৩৩ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার সদর দারোগা বাজারে বহুল প্রতীক্ষিত পাঁচতলা বিশিষ্ট বহুমুখী কিচেন মার্কেট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদনের পরেও ছয় মাস ধরে কাজ শুরু হয়নি। সরকারের পাশাপাশি জাইকার অর্থায়নে প্রায় ৭ কোটি সাড়ে ৩৯ লাখ টাকার এই প্রকল্প চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে বিরাজ করছে চরম হতাশা ও ক্ষোভ।

এলজিইডি সূত্র জানায়, প্রকল্পের কাজ টেন্ডারের মাধ্যমে মেসার্স আবুল বাশার এবং মেসার্স জসিম অ্যান্ড ব্রাদার্স (জেবি) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তাদের গড়িমসি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেটের কারণে কাজ শুরু হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক নেতা দাবি করেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নির্দেশে প্রকল্পটি আটকে রাখা হয়েছে। তাদের পরিকল্পনা হলো—সরকার পরিবর্তন হলে এবং দলীয়রসরকার আসার পর ভবন নির্মাণ করে দোকানগুলো নিজেদের অনুগত লোকজনকে বরাদ্দ দেওয়া। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা বঞ্চিত হবেন, অথচ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ছিল সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য আধুনিক অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করা। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এলজিইডির কয়েকজন কর্মকর্তা ভবিষ্যৎ দোকান বরাদ্দকে কেন্দ্র করে গোপনে ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট গঠন করেছেন একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাদের সাথে আঁতাত করে।

এরই মধ্যে বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। মুরগি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে যদি আমাদের সরিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কোথায় যাবো?” আরেক ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর অভিযোগ করেন, “আমরা কোনো রাজনৈতিক নেতার মাধ্যমে দোকান নিতে চাই না। সরকার সরাসরি দোকান বরাদ্দ না দিলে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবুল বাশারের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আবুল বাশার জানান, কাজের দায়িত্ব মিলেছে ঠিকই, কিন্তু নির্মাণস্থল যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়ায় তারা কাজ শুরু করতে পারছেন না। তার কথায়, “পুরাতন ব্যবসায়ীদের সরানো আমার কাজ নয়। জায়গা বুঝিয়ে দিলেই কাজ শুরু করবো।”

অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম বলেন, পুরাতন ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য জেলা পরিষদের একটি জায়গা ভাড়া নেওয়া হয়েছে এবং চুক্তির পরেই নির্মাণকাজ শুরু হবে। তিনি জানান, প্রকল্পের বরাদ্দ ও কার্যাদেশ সম্পন্ন হয়েছে এবং ঠিকাদারকে সাইট হস্তান্তরও শেষ হয়েছে। আশা করা হচ্ছে আগামী মাসের মধ্যেই দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, স্থানীয়দের স্বার্থ রক্ষা করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কারও ক্ষতি না করেই কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদারকি করা হচ্ছে।

দীর্ঘসূত্রতা, স্বচ্ছতার অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে দারোগা বাজারের এই প্রকল্প নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে স্থানীয়দের ক্ষোভ আরও তীব্র হতে পারে এবং ভবিষ্যতে বড় ধরনের জনঅসন্তোষ দেখা দিতে পারে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত কাজ শুরুর পাশাপাশি স্বচ্ছ বরাদ্দ প্রক্রিয়া এবং পূর্ণ পুনর্বাসনের দাবি জানাচ্ছেন।

পাঠকের মতামত

শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করতে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন ইউএনও রিফাত আসমা 

শীত মৌসুমের তীব্রতায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিদ্যালয়মুখী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে উখিয়া উপজেলার সিকদার ...

উখিয়ায় রাতের আঁধারে অবৈধ মাটি উত্তোলন, দেড় লাখ টাকা জরিমানা

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে ভূগর্ভস্থ মাটি উত্তোলন ও মাটি কাটার অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে একজনকে ...