ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ২২/০৬/২০২৬ ১:৩২ পিএম
ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার আঞ্চলিক মহাসড়ক এতই সরু, পাশাপাশি দুটি গাড়ি সহজে চলাচল করতে পারে না। দুই দিক থেকে আসা দুটি গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় চালকদের। ফলে সড়কটিতে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে এই সড়ককে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়ে আসছেন এ অঞ্চলের মানুষ। প্রশস্তকরণে বিভিন্ন সময় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। কিন্তু সেই প্রকল্প আর বাস্তবায়ন হয় না। অবশেষে আশা দেখা গেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রাম থেকে ও কক্সবাজারের পেকুয়া পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার বহুল প্রত্যাশিত পিএবি-টইটং আঞ্চলিক মহাসড়ক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কটি শুধু দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে না, চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে চলাচলে নতুন একটি বিকল্প সড়কেও পরিণত হবে। সড়কটি কর্ণফুলী টানেলে প্রাণের সঞ্চার করবে। এক সুতোয় গেঁথে দেবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনাকে। একইসঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এ ছাড়া সরকার চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল অঞ্চল গড়ে তুলছে। পিএবি-টইটং সড়ক এই অথনৈতিক অঞ্চলকে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের আওতায় আনোয়ারার কালাবিবির দিঘী থেকে মাতামুহুরী (ঈদমনি) পর্যন্ত ৫৮ দশমিক ২০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্ত করা হবে।

বর্তমানে সড়কের যেসব অংশের প্রস্থ ১৮ ফুট, সেগুলো ৩৪ ফুটে উন্নীত করা হবে। বিশেষ করে এতে ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে চলাচলকারি বাসসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন চট্টগ্রাম শহর এড়িয়ে টানেল হয়ে সহজে চলাচল করতে পারবে। আনোয়ারা ও বাঁশখালী হয়ে এটি কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় বিদ্যমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কে যুক্ত হবে।

গত ৯ জুন ১ হাজার ১৮৩ কোটি টাকা সড়ক প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে শুরু হয়ে ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করার কথা বলা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পিএবি-টইটং সড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হলে ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকায় নির্মিত সেই কর্ণফুলী টানেলের ব্যস্ততা বেড়ে যাবে বহুগুণে। কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত টানেলটি চালুর পর থেকে প্রতিদিন ১৭ থেকে ১৮ হাজার যানবাহন চলাচলের কথা থাকলেও চার হাজার থেকে পাঁচ হাজারের বেশি গাড়ি চলাচল করেনি। এখন এই সংখ্যা আরও কমে দিনে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজারে নেমে এসেছে। তাতে এটির দৈনিক পরিচালনা ব্যয়ও উঠে আসছে না। সড়কটি হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী সমকালকে বলেন, কক্সবাজার দেশের প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। সড়ক পথে ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাতায়াতে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। পিএবি-টইটং সড়ক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলে কক্সবাজারে চলাচলে একটি বিকল্প পথ তৈরি হবে। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক প্রকল্পটি ঝুলিয়ে রাখার পর অবশেষে আলোর মুখ দেখছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালী (পিএবি) কক্সবাজারের পেকুয়ার টইটং সড়ক প্রকল্পটি চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে গড়ে উঠবে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব কমে আসবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার এবং ঢাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার। ফলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে কিংবা কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে যাতায়াতে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় কমবে। বর্তমানে আনোয়ারা ও বাঁশখালী হয়ে মহেশখালী পর্যন্ত একটি সড়ক রয়েছে। তবে পুরো সড়ক খুব কম প্রশস্ত। বিশেষ করে, পেকুয়ার যে স্থানে এই সড়ক বিদ্যমান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যুক্ত হবে, সেটি একেবারে সরু। এই সড়ক দিয়ে আন্তঃজেলা রুটের বাস চলাচল করতে পারে না।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা জানান, পিএবি-টইটং সড়ক প্রকল্প দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রকল্প। চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে চলাচলের এটি বড় একটি বিকল্প সড়কে পরিণত হবে। মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করতে আনুষঙ্গিক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়ককে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করার পাশাপাশি বিকল্প সড়কের কথাও বলে আসছিলেন তারা। এই অবস্থায় পিএবি-টইটং সড়ককে সরকারের একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক।

পাঠকের মতামত

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইউএনএইচসিআরকে সহায়তা করবে ফ্রান্স

বাংলাদেশে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত ...
Single Page Footer