উখিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে মাটি ,বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ

উখিয়া নিউজ ডটকম ::
দেশে বিভিন্ন আইন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান থাকা সত্তেও ইটভাটার দৌরাত্ব্য কমছে না। মালিকরা মানছেন না কোনো নিয়মকানুন।ক্রমেই বন উজাড়, কৃষির ক্ষতি ও দেশের ভূ-প্রকৃতি ধবংস করে মাটি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ইট। এতে ইট ভাটার কালো ধোঁয়ায় বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ, বাড়ছে স্বাস্হ্যঝুঁকি, কমছে চাষাবাদের জমি ও গাছ। উখিয়ার আশপাশে ও বাইরে এবং কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের দুই পাশে যতদূর চোখ যায় দেখা যায় ইটভাটা। এসব ইটভাটায় কয়লার পাশাপাশি কাঠও পোড়ানো হয়। অথচ কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ। ফসলি জমিতে লোকালয়ে এসব ইটভাটার চিমনির উচ্চতা কোনোটিরই ৬০ ফুটের বেশি নয়। অথচ চিমনি থাকতে হবে ১২০ ফুট লম্বা। ইটের ভাটার চিমনি থেকে নির্রগত কালো ধোঁয়ায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। এমনকি আশপাশের গাছ মরে যাচ্ছে। গাছের পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে ৯০ শতাংশই জ্বালানি ব্যবহার, ভাটা স্থাপন ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিধান মানছে না। ইটভাটার প্রভাব সম্পর্রকে ডাক্তার আয়াছুর রহমান বলেন, ইটভাটার কারণে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মানুষ শ্বাসকষ্ট ও চোখের রোগে বেশি আক্রান্ত হন। ইটভাটা মাটি, পানি এবং জনস্বাস্হ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় যে কার্রবন মনোঅক্সাইড থাকে তা বাতাসকে যেমন দূষিত করে, তেমনি গাছপালা এবং ফসলের ক্ষতি করে। ইটভাটার আগুনের প্রচন্ড তাপে ইটভাটার পাশাপাশি ফসলি জমি নিস্ফলা হয়ে যায়। এমন কি পার্রবত্য অঞ্চলের পাহাড়ও এখন ইটভাটার কারণে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আর ইটভাটার কারণে বাতাস দূষিত হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ( নিয়ন্ত্রণ ) আইন, ২০১৩ তে উল্লেখ আছে, ইটভাটায় ফসলি জমির উপরের মাটি ( টপ সয়েল ) ব্যবহার করলে প্রথম বারের জন্য দুই বছরের কারাদন্ড ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। দ্বিতীয়বার একই অপরাধের জন্য ভাটা কতৃপক্ষকে ২ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্রযন্ত জরিমানা করা যাবে। অনুমোদন না নিয়ে ইটভাটা স্থাপন করলে এক বছরের কারাদন্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা যাবে। কিন্তু এখনো আইন বাস্তবায়ন করতে পারেনি সরকার। ফলে ইটভাটার আগ্রাসনও বন্ধ করা যাচ্ছে না। কক্সবাজার জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় সরাসরি গাছ পুড়ানো হচ্ছে। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। ফসলি জমির মাটির উপরি অংশ কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জমির ফলন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকাংশে কমে যাবে। এতে হুমকির মুখে পড়বে খাদ্য নিরাপত্তা। ইটভাটার কারণে পরিবেশদূষন, ভূমির উর্রবরতা হ্রাস ও বন উজাড় হচ্ছে। কৃষি জমি দিন দিন কমছে। ইটভাটাতে মাটির জোগান দিতে ফসলি জমি অকেজো গর্রতে পরিণত হচ্ছে। কেবল সমতল ভূমি নয়, কোথাও কোথাও পাহাড় পর্রযন্ত কাটা হয় ইটভাটার মাটি জোগাড় করতে।

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন