ad

টেকনাফে এমপি তনয়ার রাজকীয় বিয়ে যুবলীগের পাল্টা আয়োজন

রাশেল চৌধুরী,কক্সবাজার ::
মহা ধুমধামে রাজকীয় বিয়ে হলো কক্সবাজার-৪ আসনের ২ বারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি ও একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার চৌধুরীর একমাত্র কন্যা সামিয়া রহমান সানির। গতকাল টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার কোমপানি বাড়িতে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন রাখা হয়। সকাল ১১ টা থেকে শুরু করে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে মেহমানদের আপ্যায়ন। মধ্যখানে জুমার নামাজের জন্য বিরতি দেয়া হয়। বিয়েতে খাবারের জন্য প্যান্ডেল করা হয় ৫টি। প্রতিব্যাচে প্রায় একহাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। পুরো আয়োজনকে সিসি ক্যামরার আওতায় আনা হয়।

বিয়েকে কেন্দ্র করে সপ্তাহ ধরে চলে প্রস্তুতি। ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে সাজসজ্জার সরঞ্জামাদি নিয়ে যাওয়া হয়। আয়োজনের পুরোটা তদারকি করেন সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি। টেকনাফের ইতিহাসে এমন রাজকীয় বিয়ে আর দেখেনি স্থানীয়রা। মূল ফটক থেকে বর-কনের মঞ্চ, খাবারের প্যান্ডেল পর্যন্ত কারুকাজ। প্রধান গেইট থেকে পুরো বিশাল এলাকা জুড়ে বর্ণিল, চোখ ধাঁধানো আলোর বিচ্ছুরণ। গতকাল টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরীপাড়ার এমপি শাহীন আক্তার চৌধুরী ও সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির বাড়ির আঙ্গিনা সেজেছিল এমন অভিজাত সাজে।
সূত্রমতে, রাজকীয় এই বিয়ের জন্য সপ্তাহ ধরে শুধু মঞ্চ ও প্যান্ডেল তৈরি এবং সাজসজ্জার কাজ করা হয়েছে। একজন ডেকোরেশন কর্মী জানিয়েছেন, খাবার বাদ দিলে শুধু সাজসজ্জাতেই ব্যয় হয়েছে কোটি টাকার উপরে। সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদির ব্যক্তিগত সহকারী ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন জানান, পাত্র নেত্রকোনা জেলার জয়নগরের ঐতিহ্যবাহী বুনিয়াদি পরিবারের মনোয়ারা ম্যানশনের সুরত আলী ও বেগম মনোয়ারা আক্তারের পুত্র ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দীন। এমপি কন্যা সামিয়া রহমান সানির সঙ্গে ব্যারিস্টার রানা তাজউদ্দীনের প্রায় ৯ মাস আগে আক্‌দ সমপন্ন হয়। সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি ও বর্তমান এমপি শাহীন আক্তার চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ সন্তান সামিয়া রহমান সানি বর্তমানে ঢাকার লন্ডন ইউনিভার্সিটি অ্যান্ড কলেজে অনার্স তৃতীয় সেমিস্টারে অধ্যয়নরত।
এদিকে আবদুর রহমান বদির একমাত্র মেয়ের বিয়ে নিয়েও রাজনীতিকরণ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন উখিয়া-টেকনাফ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের অভিযোগ, বদি মেয়ের বিয়ে নিয়েও সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কেবল তার অনুসারী হিসেবে পরিচিতদের মেয়ের বিয়েতে দাওয়াত দিয়েছেন। বিয়েতে নিমন্ত্রণ না পেয়ে অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন। উখিয়া উপজেলা যুবলীগ পাল্টা আয়োজন হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভোজের আয়োজন করেছে। নেতাকর্মীরা চাঁদা তুলে এ আয়োজন করেছে বলে জানিয়েছেন উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন। তার মতে, আবদুুর রহমান বদির দু’টি সংসদ সদস্য নির্বাচন ও বদিপত্নী শাহীন আকতার চৌধুরীর একটি সংসদ সদস্য নির্বাচনে যুবলীগের নেতাকর্মীরা জানবাজি রেখে কাজ করলেও মেয়ের বিয়েতে যুবলীগকে মূল্যায়ন করেনি। এ নিয়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা চরম ক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট। দাওয়াত বঞ্চিত ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নিজেরা চাঁদা তুলে ভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন।

সুত্র-মানবজমিন

ad