
শান্তির ধর্ম ইসলামের নাম ব্যবহার করে যারা ’৭১ সালে লুণ্ঠন করেছে, ধর্ষণ করেছে, জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করেছে তাদের চেহারা আমরা চিনি। তাদের প্রেতাত্মারা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। যুদ্ধাপরাধী, সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিচার শেখ হাসিনা করেছেন। প্রয়োজনবোধে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারীদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।
শনিবার (২৭ মার্চ) স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ উপলক্ষে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত সভায় সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
শ ম রেজাউল করিম বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। এমন একটি চমৎকার সময়েও দেশের অভ্যন্তরে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর জন্য পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের কেউ কেউ মাথাচাড়া দিয়ে উঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু তারা ভুলে গেছে এই বাংলাদেশ রাম-রহিমের বাংলাদেশ, হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের বাংলাদেশ। বাংলাদেশে ধর্মের বাইরে আমাদের একটি পরিচয় আছে, তা হচ্ছে, আমরা বাঙালি, বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশে যদি কেউ ধর্মীয় উসকানি সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায় তাদের কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনোভাবেই দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।
দেশের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালে আমাদের অর্থনীতির আকার ছিলো ০.৫৮ বিলিয়ন ডলার যা আজ ৩৪৮ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় ছিলো ১২৯ ডলার যা বর্তমানে ২০৬৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ছিলো ৮৮ শতাংশ যা আজ ২০ শতাংশে নেমেছে। আর গড় আয়ু ছিলো ৪৭ বছর যা এখন ৭২.৬ বছর। ১৯৭২ সালে আমাদের বাজেট ছিলো মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার, এখন ৫ লক্ষ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট বাংলাদেশ প্রণয়ন করেছে। বাষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ ছিলো ৫০১ কোটি টাকা, যা এখন ২ লক্ষ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আমাদের এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। মৎস্য ও গবাদিপশু উৎপাদনে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। এই উন্নত-সমৃদ্ধ অবস্থার কারণেই উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘ চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে। ফলে বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা তুলে দাঁড়াবার গৌরবময় স্থানে পৌঁছেছে।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মোশারেফ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় নেছারাবাদ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হক, ভাইস চেয়ারম্যান রনি দত্ত, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ বশির গাজী, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মোঃ ফিরোজ কিবরিয়া, নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবির মোহাম্মদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার কাজী সাখাওয়াত ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন

পাঠকের মতামত