প্রকাশিত: ২৮/০৯/২০২১ ৯:৫৪ এএম

নিউজ ডেস্ক::
আমরা আসলে কক্সবাজারের কথা বলছি। কক্সবাজারের আদি নাম পালংকী। কী করে তা কক্সবাজার হলো, সে কথা যেমন আপনাদের জানাব, তেমনি নিয়ে যাব কক্সবাজার থেকে ২৫ কিলোমিটার পূর্ব দিকে রামু উপজেলায়। এখানে আসতে হবে ইতিহাসের স্বার্থেই। যার নামে এখন কক্সবাজার, সেই হিরাম কক্সের বাংলো দেখলে মনের খিদে মিটবে আপনার।

রামুর তরুণ ইতিহাস গবেষক অ্যাডভোকেট শিরুপন বড়ুয়া জানাচ্ছেন পালংকীর ইতিহাস। ১৭৮৪ সালের আগে ভারতবর্ষ এবং মিয়ানমারের মাঝখানে ছোট একটি স্বাধীন রাজ্য ছিল, যার নাম আরাকান। এ সময় বর্মী রাজা বোধপায়া আরাকান দখলের জন্য অভিযানের দায়িত্ব দেন তাঁর ছেলে যুবরাজ থাডো মিনসোকে।

বর্মী যুবরাজ থাডো মিনসো সহজেই পরাজিত করেন আরাকান অধিপতিকে। আরাকান দখল করার পর বর্মীরা রাখাইনদের অত্যাচার করতে লাগল। তখন হাজার হাজার রাখাইন নাফ নদী পার হয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনাধীন বর্তমানের টেকনাফ, উখিয়া, রামু, কক্সবাজার, হারবাং এলাকায় উদ্বাস্তু হিসেবে এল। এই রাখাইন উদ্বাস্তুদের পুনর্বাসনের জন্যই ব্রিটিশ কূটনীতিক হিরাম কক্সকে পাঠানো হয়েছিল পালংকীতে। তাঁকে পালংকীর মহাপরিচালক নিযুক্ত করা হয়। ক্যাপ্টেন কক্স এখানকার নানা সমস্যা সমাধানের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান, শরণার্থীদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করেন। সেই চেষ্টা চালানোর সময়টাতেই তিনি ১৭৯৯ সালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি এখানে খুব জনপ্রিয় ছিলেন, তাই তাঁর মৃত্যুর পর পালংকীর মূল বাজারের নাম রাখা হয়েছিল কক্স সাহেবের বাজার।

হিরাম কক্সের জন্যই রামুতে তৈরি হয়েছিল এই বাংলোটি।

রামুর চৌমুহনী স্টেশনে নেমে রামু অফিসের চর ডাকবাংলোর নাম বললেই আপনাকে যে কেউ রাস্তা দেখিয়ে দেবে। দুই কিলোমিটার দক্ষিণে গেলে রাস্তার ডান পাশে যে নীরব-নিস্তব্ধ ব্রিটিশ নকশার বাড়ি দেখবেন, সেটিই হিরাম কক্সের বাংলো। বাংলোর চারপাশে শত শত মেহগনি আর কাঁঠালগাছ। ষাটোর্ধ্ব মো. বদিউজ্জামান ৩০ বছরের বেশি সময় এই ডাকবাংলোর দেখাশোনা করছেন।

এখানে রাতে থাকা যায়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে। ভাড়া ৪০০ টাকা।

বাংলোর ভেতরে বিশাল এক বারান্দা। হিরাম কক্স এখানে বসে অবসর সময় কাটাতেন। বারান্দার ডান পাশের ঘরে দুটি কাঠের খানদানি খাট। একটি সংযুক্ত টয়লেট। বারান্দার বাঁ পাশের ঘরটি বড়। এই ঘরে আছে একটি খাট আর সোফা। বদিউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে জানান, সম্প্রতি জেলা পরিষদ থেকে এসব আসবাব দেওয়া হয়েছে।

হিরাম কক্সের সময়ের ভবনটি ছিল পুরো কাঠের তৈরি। জেলা পরিষদের মাধ্যমে নিয়মিত এই ভবনটি শক্ত-পোক্ত করা হচ্ছে। ডাকবাংলোর আসল কাঠের ভবনটি বর্তমান ভবনের মতোই দেখতে ছিল।

দুঃখ একটাই। ঐতিহাসিক বাড়িটি এখনো পর্যটক টানতে পারছে না। পারবে কী করে, এলাকার কোথাও কোনো পরিচিতি-সাইনবোর্ড নেই, কে জানবে এটা হচ্ছে সেই বাংলো, যে বাংলোয় থাকতেন হিরাম কক্স, যাঁর নামে কক্সবাজারের নামকরণ হয়েছে?

পাঠকের মতামত

সেন্টমার্টিন মাস্টার প্ল্যানের খসড়া প্রকাশ, মতামত পাঠানোর আহ্বান

সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটন নিয়ন্ত্রণ, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রস্তুতকৃত সেন্টমার্টিন মাস্টার ...

পর্যটন সম্ভাবনায় ভরপুর মহেশখালীর ধুইল্যাজুড়ি পাহাড়

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের ‘ধুইল্যাজুড়ি পাহাড়ি ঢালা’ পর্যটন সম্ভাবনায় ভরপুর। সুউচ্চ পাহাড়, ...

একসাথে পাহাড় ও সমুদ্র দেখতে চাইলে ঘুরে আসুন পাটুয়ারটেক সমুদ্র সৈকত

ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন দেশের ভ্রমণপিপাসু অনেকের প্রথম পছন্দের জায়গা হল কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত। দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের ...
Single Page Footer