ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ১০/০৯/২০২৫ ১০:১৮ এএম

বাংলাদেশের একমাত্র পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালীর শাপলাপুর ইউনিয়নের ‘ধুইল্যাজুড়ি পাহাড়ি ঢালা’ পর্যটন সম্ভাবনায় ভরপুর। সুউচ্চ পাহাড়, সবুজ গালিচায় মোড়া টিলা আর আঁকাবাঁকা মেঠোপথ মিলিয়ে এখানকার দৃশ্য যেন এক অপূর্ব নৈসর্গিক মায়াজাল। পাহাড় আর সড়কের মিতালিতে সৃষ্টি হয়েছে এক অন্যরকম ভ্রমণ-আবহ। তবে দুর্গম পথের কারণে এখনও দূর-দূরান্তের পর্যটকদের কাছে পুরোপুরি পরিচিত হতে পারেনি এ স্থানটি। ফলে স্থানীয়দের পদচারণাই এখানে বেশি।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও পর্যটনবান্ধব উদ্যোগ পাওয়া গেলে ধুইল্যাজুড়ি পাহাড়ি ঢালা হয়ে উঠতে পারে দেশের এক আকর্ষণীয় ভ্রমণ স্পট। মহেশখালী সদর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তরে শাপলাপুরে এর অবস্থান। চকরিয়া-বদরখালী সেতু থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে সড়কপথে মাত্র ১০ মিনিটে পৌঁছানো যায় শাপলাপুরের মুদিরছড়া বাজারে। বাজারসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পেরিয়ে আধা কিলোমিটার হাঁটলেই চোখে পড়ে মনোমুগ্ধকর এ পাহাড়ি সৌন্দর্য। সহজ যাতায়াতের সুযোগ থাকায় দিন দিন স্থানীয় ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতি বাড়ছে।

অনেকে ইতোমধ্যেই ধুইল্যাজুড়িকে ‘মিনি শাপলাপুর’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। আবার কারও কাছে এটি পরিচিত হচ্ছে ‘মহেশখালীর উঁচু পাহাড়ের এলাকা’ নামে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে ভিড় করছেন। ঘুরতে আসা স্থানীয়রা জানান, নির্ভেজাল প্রাকৃতিক পরিবেশে নিজেকে মেলে ধরতে চাইলে এ পাহাড়ি ঢালার কোনো বিকল্প নেই। পাহাড়ের শান্ত-নিবিড় পরিবেশও দর্শনার্থীদের মনে প্রশান্তি জাগায়।

পাশের মাতারবাড়ী ইউনিয়ন থেকে পরিবার নিয়ে ভ্রমণে আসেন মোহাম্মদ সোহেল। ধুইল্যাজুড়ির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তিনি বলেন, রাঙামাটি বা বান্দরবানের ঝুলন্ত সেতু দেখার শখ ছিল বহুদিনের। কিন্তু এখানে এসে যেন এক নতুন বিস্ময়ের দেখা মিলেছে। তিনি মনে করেন, ধুইল্যাজুড়ি পাহাড় এক অনন্য প্রাকৃতিক ভ্রমণ-স্বর্গ, যেখানে না এলে পর্যটনের আনন্দ অপূর্ণ থেকে যাবে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী হোবাইব সজীব জানান, মহেশখালীতে দীর্ঘদিন থাকলেও তিনি আগে এত সুন্দর জায়গার সন্ধান পাননি। সবুজে ঘেরা পাহাড়ের বুকজুড়ে ডালপালা মেলে গাছের দৃশ্য দেখে তিনি অভিভূত। তার মতে, ধুইল্যাজুড়ি দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এটি সংরক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে এক নতুন পর্যটন সম্ভাবনা সৃষ্টি সম্ভব।

স্থানীয়রা বলছেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ থাকলে পাহাড়ের এ অঞ্চলকে ইকোপার্কে রূপান্তর করা যেতে পারে। এতে কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে দ্বীপবাসীর জন্য।

পাঠকের মতামত

 

জাইকার অর্থায়নের ফিলেপ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়িত ফিলেপ (ফরেন এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ...

​পাহাড় কেটে মাটি পাচার করলেন জামায়াত নেতা, ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের বসতি

সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে যেখানে আতঙ্ক কাজ করছে, এমন ...

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...