
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জয়ে আনন্দ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নেত্রকোনায় একটি ভবনের ছাদে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে নিচে পড়ে দীপ্ত চৌধুরী (২৩) নামে এক কলেজশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত ৩টার দিকে শহরের ছোটবাজার এলাকায় শহীদ মিনারের সামনের এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দীপ্ত চৌধুরী শহরের মালিনী রোড এলাকায় বাদল চৌধুরী ও শিউলী রায় দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। রাত ১টার দিকে শুরু হওয়া খেলা দেখতে দীপ্ত চৌধুরী বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেন। রাত ৩টার দিকে শহরে আনন্দ মিছিল বের হলে দীপ্ত চৌধুরী ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে শহীদ মিনার মোড় এলাকার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে উঠেন। সেখানে অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সংস্কৃতিকর্মী পল্লব চক্রবর্তী বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বিজয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী মিছিলের প্রস্তুতি নেয়। মিছিলের ছবি, ভিডিও ধারণ করার উদ্দেশে দীপ্ত শহীদ মিনার মোড়ে অবস্থিত সিঙ্গার শোরুমের দ্বিতীয় তলায় ওঠে। ভিডিও ধারণ করার সময় পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে নিচে পড়ে যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ বলেন, রাত প্রায় সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন যুবক অজ্ঞান অবস্থায় এক রোগী নিয়ে আসে। এ সময় রোগীর নাক ও কান দিয়ে রক্ত ঝরছিল। পরে আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রোগীকে মৃত পাই। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পারি, বিদ্যুৎস্পর্শ হয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ এসে তার পরিচয় শনাক্ত করে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ না থাকায় আবেদনের প্রেক্ষিতে মারা যাওয়া কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


পাঠকের মতামত