সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া নিউজ ডটকম।
প্রকাশিত: ১৫/০৭/২০২৬ ১২:০১ পিএম

কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা উখিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক বিলাসবহুল ও নতুন মডেলের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কোটি টাকার এসব গাড়ির মালিকানা, অর্থের উৎস এবং অল্প সময়ে কিছু ব্যক্তির দৃশ্যমান আর্থিক উত্থান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তের ফল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা অবৈধ সম্পদের প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কয়েক বছর আগেও এলাকায় এমন ব্যয়বহুল গাড়ির সংখ্যা খুবই কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন দামি গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, যেসব ব্যক্তি স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন, তাদের সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন।

স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিক জানান, সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় উখিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা পাচার, চোরাচালান এবং অন্যান্য সংঘবদ্ধ অপরাধের ঝুঁকিতে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে প্রায়ই বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার ও বিভিন্ন ব্যক্তি গ্রেপ্তারের ঘটনা সামনে আসছে। এমন বাস্তবতায় এলাকায় দৃশ্যমান অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

সচেতন মহলের মতে, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মাদকের অর্থ দিয়ে গড়ে ওঠা অবৈধ অর্থনীতি অপরাধ, সহিংসতা, দুর্নীতি ও সামাজিক অস্থিরতা বাড়িয়ে তোলে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সক্রিয় হতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, যাদের সম্পদের উৎস নিয়ে যৌক্তিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, তাদের বিষয়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন, সম্পদের হিসাব ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য যাচাই করতে পারে। তদন্তে যদি কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে তার সম্মান অক্ষুণ্ন থাকবে। আবার অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

এলাকাবাসীর আরও দাবি, মাদকবিরোধী অভিযানে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া যাবে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার রাজনৈতিক, সামাজিক বা অর্থনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা উখিয়ায় মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অর্থের বিরুদ্ধে কার্যকর জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে উখিয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, অপরাধীরা কোনো ধরনের প্রশ্রয় পাবে না এবং আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত হবে। তাদের মতে, স্বচ্ছ তদন্ত, জবাবদিহি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই সীমান্ত উপজেলা উখিয়াকে মাদক ও অবৈধ অর্থনীতির প্রভাব থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

পাঠকের মতামত

উখিয়া-টেকনাফে জমি রেজিস্ট্রেশনে ‘অনুমতি’ প্রথা বাতিলের দাবি

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ক্রয়-বিক্রয় ও রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পূর্বানুমতি ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীতকরণে এগোচ্ছে সমীক্ষা

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর নতুন গতি পেয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ। প্রাকৃতিক ...
Single Page Footer