উখিয়া নিউজ ডটকম
প্রকাশিত: ০৯/০৯/২০২৬ ৯:২২ এএম

আজ আমার সকালটা শুরু হয়েছে অভিযোগ জানানোর মধ্য দিয়েই। ঘুম থেকে উঠেই হোয়াটসঅ্যাপে এক ব্যাংকের অপারেশন ম্যানেজারকে লিখলাম বিগত এক মাস যাবত ঝুলে থাকা একটা সেবার বিষয়ে। বিষয়টি সবিস্তারে লিখে আজকের মধ্যে অন্তত সফট কপিটি শেয়ার করার বিনীত অনুরোধ জানালাম।

​তারপরই মনে পড়ে গেল বিগত জুলাই মাসে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) বরাবর করা অভিযোগের অদ্যাবধি কোনো সুরাহা না হওয়ার কথা। ঘটনাটি বর্তমান যুগে খুবই সাধারণ ও মামুলি ব্যাপার বটে, তবে তা আমার মতো সাধারণ মানুষের জন্য বেশ বড় বিষয়। শেয়ারবাজারে টুকটাক বিনিয়োগ করতাম।
সেই ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর থেকে লাভ তো দূরের কথা, ক্রয়মূল্যের এক-পঞ্চমাংশের মতো মূল্যের কিছু শেয়ার অবশিষ্ট ছিল। দীর্ঘদিন ধরে একই ব্রোকার হাউজের কাস্টমার হওয়ায় অফিসারদের সাথেও কিছুটা জানাশোনা ছিল।
​চলতি বছরের শুরুর দিকে জানতে পারলাম, আমাদের ব্রোকার হাউজ ছেড়ে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজারসহ সব অফিসার অন্য একটি নতুন ব্রোকার হাউজে যোগদান করবেন। ফলে বর্তমান হাউজটি অচিরেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এখন উপায়? উনারা বললেন, “একটি বিও (BO) ট্রান্সফার ফর্মে সই করে দিয়ে যান, তাতেই কাজ হয়ে যাবে।” কথামতো ফর্ম সই করলাম, চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্রও দিলাম। আমার বিও অ্যাকাউন্টে থাকা সব শেয়ার সেদিনকার বাজারদরে নতুন হাউজে আমার নতুন কোডে ট্রান্সফারও হয়ে গেল।
​কিন্তু কিছুদিন পর যখন স্টক ব্যালেন্স চেক করতে গেলাম, দেখি ক্যাশ ব্যালেন্স একদম শূন্য! অথচ আমার পুরোনো কোডে প্রায় এক লাখ টাকার মতো জমা ছিল। অফিসারদের জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, শেয়ার ট্রান্সফার হলেও নগদ টাকা নাকি এভাবে ট্রান্সফার হয় না! অথচ এই মহৎ তথ্যটি আমাকে আগে জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি কেউ। এখন উপায় হচ্ছে, ওই টাকা আমাকে পুরোনো কোম্পানির হেড অফিসে গিয়ে উদ্ধার করতে হবে—যেখানে আমার চেনা-জানা কেউ নেই, এমনকি ফোন করলেও কেউ ধরে না। শেষ পর্যন্ত গত জুলাই মাসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বরাবর অভিযোগ দায়ের করলাম। কিন্তু আজও কোনো ইতিবাচক ফলাফল আসেনি। জানি না আদৌ কোনোদিন আসবে কিনা!

​গত মাসে দেশের এক শীর্ষস্থানীয় সুপারশপ থেকে দুটি মোটামুটি মানের ও ওয়ারেন্টিসহ সিলিং ফ্যান কিনলাম। কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই দেখি ফ্যানের ডানার কারুকার্যকৃত অংশগুলো খসে পড়া শুরু করেছে! শুক্রবার সকালে উপযুক্ত প্রমাণসহ অভিযোগ নিয়ে হাজির হলাম শোরুমে। বিক্রেতার সাফ জবাব—আজ শুক্রবারে শোরুমের ম্যানেজার থাকেন না, তাই পরদিন শনিবারে আসতে হবে। কথা অনুযায়ী শনিবারে গিয়ে দেখি, মরিচা ধরা পুরোনো কতগুলো ডানা সামনে এনে বললেন, “স্যার, এখান থেকে যেটা ভালো মনে হয় বেছে নিন।” একই অবস্থা! সবই তো মরিচা ধরা! অথচ ফ্যান কেনার সময় ১০ বছরের ওয়ারেন্টি দিয়েছিলেন! জানি না আগামী দশ বছর ওই কোম্পানি কিংবা তাদের ওই শোরুমের আদৌ কোনো অস্তিত্ব থাকবে কিনা!

​তার কিছুদিন আগের ঘটনা। বাসার নতুন কেনা ফ্রিজটি হঠাৎ অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করায় ওয়ারেন্টি কার্ডে দেওয়া নম্বরে কল দিলাম—একটু অভিযোগ জানিয়ে মনের ঝাল মেটানোর জন্য। কাস্টমার কেয়ারের প্রতিনিধি আমাকে অন্য এক কাস্টমার কেয়ারের নম্বর পাঠিয়ে বললেন, “আপনার প্রোডাক্টটি ওই কোম্পানির, তাই ওয়ারেন্টি উনারাই নিশ্চিত করবেন।” কিন্তু আমি তো জিনিসটি আপনাদের শোরুম থেকেই কিনলাম, কেনার সময় তো কেউ এই মারপ্যাঁচের কথা বলেননি! জানি না ভবিষ্যতে এই ফ্রিজের কপালে কী রয়েছে, আর আমার কপালেই বা কী আছে!

​তারও কিছু দিন পূর্বে পরিচিত এক বড় ভাইয়ের রেস্তোরাঁয় পরিবারসহ খেয়ে কার্ডে বিল পরিশোধ করলাম। কিন্তু রেস্তোরাঁর ম্যানেজার ট্রানজেকশন সমস্যা দেখিয়ে কার্ডে পরপর একই বিল দুবার কাটলেন, তারপর আবার বিকাশেও একবার নিলেন! আমাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হলো, ক্রেডিট কার্ডের বাড়তি টাকা নাকি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ফেরত চলে আসবে। শেষমেশ একই বিল তিনবার নেওয়া হলো, কিন্তু সেই টাকা আর কোনোদিন ফেরত এলো না। রেস্তোরাঁ মালিকের ও আমার অতি ঘনিষ্ঠ এক ছোট ভাইকে দিয়ে অনুরোধ ও অভিযোগ পাঠিয়েও কোনো কাজ হয়নি।

​মানুষ হিসেবে আমরা অভিযোগ জানাতে হয়তো ভালোবাসি, কিন্তু এই দেশে সব অভিযোগ আমলে নেওয়া হয় না। বরং বহু ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানোর অপরাধে অভিযোগকারীকেই উল্টো অভিযুক্ত হতে হয়!

​এসব আকাশ-পাতাল ভাবতে ভাবতেই অফিসে যাওয়ার সময় হয়ে এলো। আমার সদ্য স্কুলগামী ছেলেকে ডেকে বললাম, “বাবা, ঠিকমতো স্কুলে যেও, মায়ের কথা শুনবে। আর সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকবে না। আমি অফিস থেকে ফিরে যেন তোমার নামে কোনো অভিযোগ না শুনি। অভিযোগ শুনতে আমার একদমই ভালো লাগে না!”
​আসলে এ দেশে অভিযোগের কোনো শেষ নেই, আর এসব দেখারও কেউ নেই। তবুও জীবন তো কেটে যাচ্ছে—জীবনের নিয়মে।

লেখক,
জিয়াউর রহমান মুকুল,
মানবিক ও উন্নয়ন কর্মী।
০৭/০৯/২০২৬ইং,

পাঠকের মতামত

“​মুদ্রাস্ফীতির জাঁতাকল ও নবম পে স্কেল: সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস এবং অর্থনৈতিক চরম বাস্তবতা”

​সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা অধিকতর যৌক্তিক ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে গত ৩১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ...

গণভোটে “হ্যাঁ” জয়যুক্ত হলে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে:মেয়াদ হবে চার বছর

​২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় সময়। একটি বৈষম্যহীন এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক ...

“বিগত প্রতিশ্রুতির রাজনীতি নয়, বাস্তবায়নই হোক উখিয়া-টেকনাফের আগামী”

“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত  উপজেলা—উখিয়া ও টেকনাফ। এই জনপদ আজ মাদক, ...

ভুল হোক ফুল

আমাদের এই ছোট্ট জীবনটার পুরোটাই হচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্র।যত সময় যাচ্ছে, ততই যেন আমরা নতুন বিষয় ...
Single Page Footer