প্রকাশিত: ০৫/০১/২০২০ ৯:৫১ এএম

রোহিঙ্গার ঢল নামার পর অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণে বালু সরবরাহ দিচ্ছে একটি সিন্ডিকেট। এদের কার্যক্রম রোধ করতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা বালু উত্তোলনে মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে।

উখিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের লোকজন বার বার অভিযান চালিয়ে অবৈধ মেশিন উপকরণ ইত্যাদি জব্দ ও বালু উত্তোলনকারী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে নগদ অর্থদন্ড করলেও থামানো যাচ্ছে না বালু লুটের প্রতিযোগিতা। সরকারি ভাবে উখিয়ায় ১০টি বালু মহালের ইজারা প্রদান করা হলেও দাপট দেখিয়ে অন্তত ২৫টি পয়েন্ট থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট।

সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরের জন্য পালংখালী ৪টি ও উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে ৬টি সহ ১০টি বালু মহালের ইজারা দেয়া হয়েছে। এসব বালু মহাল থেকে সরকার নির্ধারিত অঙ্কের রাজস্ব আদায় করতে সক্ষম হলেও বহু পয়েন্ট থেকে অবৈধ ভাবে উত্তেলিত বালুর বিপরীতে সরকার কানাকড়িও পাচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে জমিজমা ক্ষেত খামার দীর্ঘদিনের বসতভিটা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। গ্রাম্য রাস্তায় বালু ভর্তি যানবাহন চলাচলের কারণে সড়ক, কালভার্ট, ব্রিজ নড়বড়ে সহ ধ্বসে পড়ার ভয়ে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

পালংখালীর মোহাম্মদ আলী, বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার অভিযোগ করে জানান, থাইংখালী থেকে তেলখোলা বাজার পর্যন্ত খালের ১৫টি অংশে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করছে এলাকার কতিপয় জনপ্রতিনিধি সহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এছাড়াও পালংখালী খালের ৫টি পয়েন্টে বালুখালীর ছড়া, বালূখালী খাল, দোছরী, হাজিরপাড়া, হরিণমারা, হিজলিয়া, গয়ালমারা, তুতুরবিল, খয়রাতি, রেজুখালের মনির মার্কেট থেকে শুরু করে ছোটখাল পর্যন্ত ৬টি পয়েন্ট, মনখালী, মাদারবনিয়া, চেপটখালী ও মরিচ্যা, ধুরুংখালী খালের ৪টি পয়েন্ট সহ প্রায় ২৫ খালের পয়েন্ট থেকে প্রতিনিয়ত টনটন অবৈধ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

থাইংখালী ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার মানিক চাকমা, স্থানীয় পরিবেশবাদী সমাজসেবক মো: শাহজাহান সহ একাধিক গ্রামবাসী অভিযোগ করে জানান, উখিয়ার অবহেলিত নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত গ্রাম তেলখোলা, মোছারখোলাসহ ৫টি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। স্থানীয় অধিবাসী বাওনো চাকমা জানান, থাইংখালীর প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট তাদের নিজস্ব যানবাহন দিয়ে বালু উত্তোলন ও অন্যত্র সরবরাহ করার কারণে থাইংখালী হয়ে তেলখোলা পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ এখন সম্পূণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যোগাযোগের অব্যবস্থা ও নাজুক পরিস্থিতির কারণে ছাত্রছাত্রীরা তেলখোলা মোছার খোলার শিক্ষার্থীদের ৭ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে বলে উখিয়া থেকে সংবাদদাতা জানান।

নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উৎপাদিত পণ্য সামগ্রী সময়মত বাজারজাত করতে না পারায় অনেকেই অনাহারে অর্ধহারে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার এহেন নাজুক পরিস্থিতির নেপথ্যে বালু উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটকে দায়ী করে স্থানীয় অধিবাসীরা অবিলম্বে থাইংখালী খালের বালু উত্তোলন বন্ধ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করার দাবী জানিয়েছেন।

উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি আমিমুল এহসান খান সাংবাদিকদের জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনের দায়ে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রেখে খুব শীঘ্রই থাইংখালী খালসহ উখিয়ার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনকন্ঠ

পাঠকের মতামত

জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে সুযোগ পেলেন কক্সবাজারের ইয়াশনা

​চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্রী ইয়াশনা ইকতার জাপানের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ...

বিলাসবহুল গাড়ি, তরুণ সিন্ডিকেট ও রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে বিস্তৃত ইয়াবা নেটওয়ার্ক

কখনো বিলাসবহুল প্রাইভেটকার, কখনো সুন্দরী নারী, কখনো পেটের ভেতর, কখনো শরীরের বিভিন্ন অংশে, আবার কখনো ...
Single Page Footer