প্রকাশিত: ০৭/০৩/২০১৭ ১১:২২ এএম

ঢাকা: ৭ মার্চের ভাষণ আজ ইতিহাসের অংশ। সেই ঐতিহাসিক ভাষণের আগের রাতটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্ঘুম কেটেছিল। ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ গভীর রাত পর্যন্ত রাজনৈতিক সতীর্থদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।

পরদিন রেসকোর্সে কী বলবেন, তা নিয়ে রীতিমতো ‘হোমওয়ার্ক’ করেছিলেন। ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে আগের রাতে দীর্ঘক্ষণ পায়চারি করে, ভাষণের মূল বিষয়গুলো মনের ভেতরে গেঁথে নিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। জ্বর থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত বিশ্রাম করেননি।

৭ মার্চের ভাষণের প্রস্তুতি এবং সেই সময়ের পারিপার্শ্বিক অবস্থার কথা তুলে ধরেছেন তৎকালীন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের দুই প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদ ও আসম আব্দুর রব।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) সভাপতি আব্দুর রব বলেন, ৬ মার্চ রাতে বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে দীর্ঘ সময় বৈঠক হয়। গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠক করেন তৎকালীন ছাত্র-যুব নেতা সিরাজুল আলম খান, শেখ ফজলুল হক মনি, আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদ।

সেই বৈঠকে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমার নেতৃত্বে হাই কমান্ড গঠিত হয়েছে ৪ মার্চ। চার নেতা বলেন, বক্তব্যের শেষে এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম ও জয় বাংলা বলে বক্তব্য শেষ করবেন। বঙ্গবন্ধু তার বক্তব্য কিছুটা দিয়ে বললেন, দেখ তো সিরাজ, ঠিক হচ্ছে কিনা?

বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য এই নেতা আরও বলেন, গভীর রাতে সভা শেষ হয়। বঙ্গবন্ধু ওই রাতে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণে কী বলবেন তা মোটামুটি ঠিক হলে বঙ্গবন্ধু বললেন, তোমরা যাও, আমি বিশ্রাম নেব।

তারপর আমরা চলে গেলেও তিনি আর ঘুমাননি। ৩২ নম্বরের বাসায় পায়চারি করেন, আর পরের দিনের বক্তব্য আওড়াতে থাকেন। ওই বৈঠকে ঠিক হয়, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম এসব বলার।

ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের নেতা রব বলেন, ‍গুঞ্জন ছিল, ৭ মার্চ জনসভায় হেলিকপ্টার থেকে গুলি বর্ষণ হতে পারে। তাই খসরু, মন্টু, মহিউদ্দিন ও আমি কর্ডন করে বঙ্গবন্ধুকে জনসভাস্থলে নিয়ে যাই।

বঙ্গবন্ধু তার স্বভাবসুলভ ভাবে সিঁড়ি বেয়ে মঞ্চে উঠলেন, আমরাও তার সঙ্গে মঞ্চের উপরে উঠলাম। আমরা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ৪ নেতা স্লোগান দিচ্ছিলাম। লাখ-লাখ জনতার করতালি ও স্লোগানে এক অবিস্মরণীয় দৃশ্যের অবতারণা হয় সেখানে। বঙ্গবন্ধুকে পেয়ে উপস্থিত জনতার মাঝে যেন উত্তেজনার ঢেউ বইতে থাকে।

স্লোগান দিতে দিতে অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে একবার দেখার জন্য লাফিয়ে উঠছিলেন। কেউ কেউ মাটিতে পড়ে জ্ঞান হারাচ্ছিলেন। কিন্তু মাইকে যখন বঙ্গবন্ধুর কণ্ঠে ‘ভায়েরা আমার’ ভেসে আসে, ঠিক তখন পুরো জনসভাস্থলে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করে।

তোফায়েল বলেন, আজ পৃথিবীর ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ শ্রেষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে তিনি সমস্ত নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র বাঙালি জাতিতে রূপান্তরিত করেছিলেন। তিনি ছিলেন বিচক্ষণ নেতা।

পাঠকের মতামত

 

বাংলাদেশ-চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে রোহিঙ্গা ও করিডোর নিয়ে আলোচনা

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ক‌রে‌ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তারা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, পরিবহন ...

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ...

মিয়ানমারের নতুন বাস্তবতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মধ্যস্থতা করবে চীন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি ...

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল কমিটি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ১১ সদস্যের ‘রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি’ গঠন করেছে সরকার। ...