প্রকাশিত: ০৪/১০/২০১৮ ২:০০ পিএম

বাংলার অর্জন ডটকম::
কক্সবাজার জেলা পুলিশের দুর্নাম না গোছাতে বির্তকিত ইন্সপেক্টর ইকরামকে নিয়ে ফের বির্তকে পড়ার আশংকা করছে সচেতন মহল। বির্তকিত ইন্সপেক্টর একরাম ঈদগাঁও ফাঁড়িতে পোষ্টিং নিতে ব্যার্থ হয়ে এবার হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে যোগদানের গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে। তার যোগদানের এমন গুঞ্জনে এলাকাজুড়ে অজানা আতংক বিরাজ করছে বলে সচেতন মহলের অভিযোগ। তিনি এর পূর্বে ঈদগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির আইসি হতে মোটা অংকের মিশনে নামার অভিযোগ উঠেছিল।

এমন খবরে পুরো জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠায় উক্ত ফাঁড়ির আইসি হতে ব্যার্থ হন তিনি। পরে তার শেষ মিশন ছিল হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ি। অদৃশ্য ক্ষমতা ধর এই ইন্সপেক্টর উক্ত ফাঁড়িতে আইসি হিসেবে যোগদানের খবর ছড়িয়ে পড়লে অশান্ত হয়ে উঠে উক্ত এলাকার পরিবেশ। নানা অপকর্মের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ভূক্তভোগীদের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে একের পর এক শাস্তিমুলক বদলি হয়। এত অপকর্মের পরেও কেন বির্তকিত এই ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে ভূক্তভোগীদের মাঝে। এর আগে মহেশখালী সার্কেল অফিসে যোগদানকৃত এবং মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন তিনি।

সূত্র মতে, ২০১০ সালে কক্সবাজার মডেল থানায় এসআই ও ২০১৭ সালের একই থানায় ইন্সপেক্টর কমিউনিটি পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার হাতে নির্যাতিত হয়েছে অসংখ্য নিরীহ লোকজন। আটক বাণিজ্য, প্রেমিক জুটি ধরে ধর্ষণের মামলা, চার্জসিট বাণিজ্যসহ অহরহ ঘটনার জন্ম দিয়েছে এই একরাম। পাশাপাশি একই অবস্থা ছিল চট্রগ্রাম বায়েজিদ থানায় থাকাকালীন অবস্থায়ও। তার নানা অপকর্মে তার বিরুদ্ধে ডজনের অধিক জিডি, আদালতে মামলা ও পুলিশের বিভাগীয় মামলা রুজু হয়েছে। যে কারনে তার অপকর্ম থেকে সাধারণ লোকজনদের বাচাঁতে দীর্ঘদিন ধরে তাকে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পে সংযুক্ত করে রাখা হয়। কিন্তু সম্প্রতি পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বদলি হওয়ার পর পরেই নবাগত দুই কর্মকর্তা তার অপকর্ম বুঝে ওঠার পূর্বে মোটা অংকের মিশন ও নানা তদবিরে ঈদগাঁও পুলিশ ফাঁড়ির আইসি হতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে।
এদিকে তার অপকর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০১০ সালের মাঝামাঝি সময়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় এসআই হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় দু’পক্ষের জমির বিরোধের ঘটনা নিয়ে ৮ লাখ টাকায় এক পক্ষের কাছে ম্যানেজ হয়ে কলাতলীর সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে সমুদ্র বিলাস থেকে এক প্রেমিক জুটি ধরে কটেজ মালিক(জমির বিরোধের অপর পক্ষ) বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টার মামলা রুজু করে। পরে ওই ঘটনায় ক্লোজড হয় একরাম। এছাড়া ওই সময় কটেজে পতিতা ব্যবসা, জুয়ার বোর্ড, মাদক ব্যবসা, আচার ব্যবসাসহ আরো অহরহ অপকর্ম থেকে মাসিক ও দৈনিক উৎকুচ আদায়ের অভিযোগ ছিল একরামের বিরুদ্ধে।

পরে নানা তদবিরে চট্রগ্রাম চলে যায় এই অপকর্মকারি। এক পর্যায়ে বায়েজিদ থানায় যোগদান করেন। সেখানেও ঘটায় একের পর এক ঘটনা। তৎমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ২০১৬ সালে মার্চ মাসে ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এলাকায় সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের ভুক্তভোগী সঞ্জয় সেন এর জমি দখলের ঘটনা। এই ঘটনায় ভুক্তভোগিরা তৎকালীন এসআই একরামের বিরুদ্ধে পুলিশের তৎকালীন মহাপরির্দশক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আইজিপি তখনকার সময়ে ঘটনাটি তদন্তের দায়িত্বভার দেন অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) তারেক আহমেদকে। যাহার অভিযোগের বায়েজিদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ৪৩৯)। তদন্তকারি কর্মকর্তা তারেক আহমেদ দু’পক্ষকে ডেকে সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং এসআই একরামকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।

একই ভাবে ২০১৬ সালে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও ওঠে একরামের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, এসআই একরাম ও সহযোগীরা ড্রিমল্যান্ড আবাসিক এলাকার সংখ্যালঘু স¤প্রদায়ের ২১ জনের ক্রয় করা সম্পত্তি জবরদখল করে নগদে ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা লেনদেন পূর্বক বেনামিতে ছোট বোনের স্বামী শফিউল আলমের নামে বায়না দলিল রেজিস্ট্রি করেন। এত বড় অঙ্কের টাকা নগদ লেনদেন করা আইনত অপরাধ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছিল। যা ওই সময় একাধিক বিভাগীয় ও জাতীয় পত্রিকায় শিরোনাম হয় এসআই একরাম।

এছাড়াও ২০১৫ সালের ৪ আগস্ট চট্রগ্রাম বায়েজিদ থানাধীন এলাকায় ৯ হাজার লিটার জ্বালানি তেল ভর্তি একটি বৈধ ট্যাংকারকে অবৈধভাবে তেল পাচারের অভিযোগে তুলে আটক করে। এ ঘটনায় সুপার রিফাইনারি কোম্পানির চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম আহমেদ ও অন্য কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানার এসআই সুজন বিশ্বাস বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করেন। এই মামলা তদন্ত করেন থানার এসআই একরামুল হক। পরে বৈধ তেল ও নিজেকে নির্দোষ দাবী করে আইজি শহীদুল হকের বরাবরে অভিযোগ করেন তেল মালিক। পরে অভিযোগের পর ঘটনা তদন্তে পুলিশের আইজি শহীদুল হকের নির্দেশে সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আলমগীরকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্দ কমিটি তদন্ত শেষে বায়েজিদ থানার এসআই একরামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেন এবং তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেয়া দেন।

এদিকে অপকর্মের বুঝা টানতে টানতে সর্ব শেষ পদন্নোতি নিয়ে ইন্সপেক্টর হিসেবে ২০১৭ সালের মাঝামাঝির দিকে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমের ইন্সপেক্টর পদে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় যোগদান করেন। সেখানে যোগদানের এক মাসের মাথায় তার অপকর্ম বুঝতে পেরে তার হাতে তদন্তের কাগজ বন্ধ করে দেন তৎকালীন ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া। পরে কৌশলে থানার এসআই’দের চাপসৃষ্টি করে তাদের কাগজ নিজেই তদন্ত করতেন এই একরাম। সেখানেও ঘটায় আরেক অহরহ অপকর্ম। ২০১৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কুতুবদিয়ার দক্ষিন ধুরুং, নুরার পাড়া এলাকার জামায়াত ক্যাডার সহিংসতা, পুলিশ এসল্ট, হত্যাসহ ৭টি মামলার পলাতক আসামী বায়েজীদে থাকাকালীন একই বাসায় বসবাসরত মোঃ ফেরদাউসকে দিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট একটি অভিযোগ করান শহরের মধ্যম কুতুবদিয়া পাড়ার আছাহাব উদ্দিন, রফিক সাঃ, সিরাজ সাঃ ও জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগটি তৎকালীন ওসি তদন্তভার দেন এসআই মনিরকে। কিন্তু মনিরের কাছ থেকে অভিযোগটি ইন্সপেক্টর একরামুল হক নিয়ে শহরের একটি আবাসিক হোটেলে বিবাদীদের ধরে আনে। পরে নগদে ৭০ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়।

এছাড়া ওই সময় পর্যটন এলাকাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরাতে কটেজে পতিতা ব্যবসা, জুয়ার বোর্ড, মাদক ব্যবসা, আচার ব্যবসাসহ আরো অহরহ অপকর্ম থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগে তাকে কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পস্থ রাস্তায় রাতের চেকপোষ্ট ডিউটিতে সংযুক্ত করেন তৎকালীন পুলিশ সুপার ড.একেএম ইকবাল হোসেন। সেখানেও ডিউটি ফাঁকি দেয়ার অপরাধে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন দেন ওই সময় দায়িত্বরত টিম লিডার সহকারি পুলিশ সুপার আবদুল মালেক। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিত্বে তাকে উখিয়া সার্কেল অফিসে বদলি করা হয়। পরে সেখানেও বেশি দিন ঠিকতে পারেনি এই অপকর্মকারি ইন্সপেক্টর একরাম। সর্বশেষ মহেশখালীর সার্কেল অফিসে বদলি করে সংযুক্ত করা হয় মাতারবাড়ির কয়লা বিদ্যু’ প্রকল্পে। বর্তমানে হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে আইসি হিসেবে যোগদানের জন্য মোটা অংকের মিশনে নেমেছে বলে জানা গেছে। এদিকে তার হিমছড়ি যাওয়ার খবরে পুরো জেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে। পাশাপাশি হিমছড়ি বাসীর মাঝেও চলছে চরম আতংক।

সচেতন মহলের দাবী, নবাগত পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তার ব্যাপারে অবগত নেই বলেই এমন সিন্ধান্তে যাচ্ছে। হিমছড়ির মত স্থানে তাকে দেয়া হলে বড় ধরণের সমস্যার সম্মুখিন হতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের দাবী, ইন্সপেক্টর একরামুল হকের ব্যাপারে জেনে শুনে বদলির আদেশ করা হলে একদিকে যেমন রক্ষা পাবে পুলিশের ভাবমূর্তি, ঠিক অন্যদিকে তার অমানবিক নির্যাতন থেকে রেহায় পাবে পর্যটকসহ হিমছড়ির সাধারণ মানুষ।

সুত্র::বাংলার অর্জন ডটকম::

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে প্যারাসাইলিং থেকে ছিটকে পানিতে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর এলাকার সি স্পোর্টস প্যারাসাইলিং পয়েন্টে প্যারাসাইলিং করার সময় ছিটকে পানিতে ...

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাচ্ছে কক্সবাজার রেল স্টেশন: প্রতিমন্ত্রী

রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেছেন, ‘চলতি আগস্ট মাসেই ঢাকা–কক্সবাজার রুটে আরও একজোড়া নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ...

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল, প্রত্যাবাসন দাবিতে প্ল্যাকার্ড

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের ...
Single Page Footer