
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত হত্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(বিজিবি)। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক লে. কর্নেল সৈয়দ আশিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি অনাকাঙ্খিত নিহতের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সীমান্ত হত্যাকে ‘অনাকাঙ্খিত’ উল্লেখ করে লে. কর্নেল সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ১১ জন নিহত হয়েছেন। সীমান্ত ব্যবহার করে অনেকে অবৈধভাবে গরু আনা-নেয়া করে। নিহতদের মধ্যে গরু ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেশি।
সীমান্ত এলাকা সব সময়ই স্পর্শকাতর। যারা এখানে অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সীমান্ত হত্যা বন্ধ কিংবা কমিয়ে আনতে বিজিবির পক্ষ থেকে শিশুদের জন্য দিনে স্কুলে এবং বয়স্কদের জন্য সন্ধ্যায় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান লে. কর্নেল সৈয়দ আশিকুর রহমান।
তবে, বিজিবি পরিচালক ২৫ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত ১১ জন নিহতের কথা বললেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, শুধুমাত্র নতুন বছরের প্রথম ২৩ দিনে সীমান্তে বিএসএফের হাতে খুন হয়েছেন ১৫ বাংলাদেশি। আর গুম হয়েছেন ২০ জন।
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসেবে ২০১৯ সালে সীমান্তে ৪৩ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুলিতে ৩৭ জন এবং নির্যাতনে ছয় জন। আহত হয়েছেন ৪৮ জন। অপহৃত হয়েছেন ৩৪ জন। অথচ এর এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৮ সালে সীমান্তে এমন প্রাণহানির সংখ্যা ছিল ১৪ জন। সে হিসেবে এক বছরের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। আর ২০১৭ সালে ২৪ জন। ২০১৬ সালে ২৫ জন। ২০১৫ সালে ৩৮ জন। ২০১৪ সালে ২৪ জন। ২০১৩ সালে ১৮ জন। ২০১২ এবং ২০১১ সালে ৪৮ জন নিহত হয়। ২০১০-এ ছিলো ৫৫ জন। তবে সবছেয়ে বেশি নিহত হয়েছে ২০০৯ সালে ৬৬ জন।

পাঠকের মতামত