
সিরাজগঞ্জে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ১২০ জন আত্মহত্যা করেছেন। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে ৬৮ জন পুরুষ এবং ৫২ জন নারী রয়েছেন। গড়ে প্রতি মাসে ২০ জন এবং প্রতি সপ্তাহে প্রায় পাঁচজন আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যাকারীদের অধিকাংশই তরুণ-তরুণী। ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ আত্মহত্যাকারী রয়েছেন, তবে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোরীরাও আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। পারিবারিক কলহ, অর্থনৈতিক সংকট, মানসিক চাপ এবং প্রেমঘটিত জটিলতা এসব ঘটনার পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ রজব আলী মেমোরিয়াল বিজ্ঞান কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. বাবুল হোসেন বলেন, বর্তমানে পরিবারগুলো ছোট হয়ে যাওয়ার কারণে মানসিক সমর্থন কমে গেছে। তিনি বলেন, সন্তানদের মানসিক অবস্থার প্রতি নজর দেওয়া এবং খোলামেলা আলোচনা করা জরুরি।
সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবির কর্নেল জানান, পারিবারিক অশান্তি ও অর্থনৈতিক সংকট আত্মহত্যার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, সমস্যা সমাধানে আলোচনার মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সিরাজগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাজরান রউফ জানান, আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সময়মতো সহায়তা পেলে অনেক আত্মহত্যার ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, আত্মহত্যা এখন একটি সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা গেলে এই উদ্বেগজনক প্রবণতা কমানো সম্ভব।

পাঠকের মতামত