সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া নিউজ ডটকম।
প্রকাশিত: ২২/০৭/২০২৬ ১০:২৪ এএম
সরকারি বিধিনিষেধ থাকলেও কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ক্যাম্পের ভেতরে ও আশপাশে হাজার হাজার সংযোগ ব্যবহার হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য, অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ক্যাম্পে মোবাইল ইন্টারনেটের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ থাকলেও কিছু ব্যক্তি ও চক্র ফাইবার অপটিক লাইনের মাধ্যমে ওয়াই-ফাই সংযোগ পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতি মাসে এসব সংযোগ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, উখিয়ায় বিটিআরসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত কয়েকটি বৈধ ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থাকলেও তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বা অবৈধ রিসেলার তৈরি করে অনেক এলাকায় অনুমোদনহীনভাবে সংযোগ বিক্রি হচ্ছে। এ নিয়ে বৈধ ব্যবসায়ীরাও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, ক্যাম্পভিত্তিক বিভিন্ন অপরাধী চক্র ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ রক্ষা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বিভিন্ন সময়ে এসব প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার সামনে এসেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত ইন্টারনেট সংযোগ অপরাধ দমনে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্পের কিছু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং নিজস্ব অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও প্রচারণাও পরিচালনা করছেন। এসব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে আরও কার্যকর মনিটরিং প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান উখিয়া নিউজ ডটকমকে বলেন,
“রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অনুমোদনহীনভাবে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোথাও এ ধরনের কার্যক্রম হয়ে থাকলে সেটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই।
দ্রুতগতির সংযোগে বাড়ছে নিরাপত্তা ঝুঁকি, মাসে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক মোহাম্মদ সিরাজ আমিন উখিয়া নিউজ ডটকমকে বলেন,
“ক্যাম্পে সংঘটিত অপরাধে প্রযুক্তির ব্যবহার একটি বাস্তবতা। কোনো অবৈধ ইন্টারনেট সংযোগ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেটি নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয়। আমরা নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি চালাচ্ছি। সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়,এমন কোনো কার্যক্রমকে ছাড় দেওয়া হবে না।
উখিয়ার সচেতন মহল মনে করছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রকৃত চিত্র, কতটি সংযোগ সক্রিয়, কারা সংযোগ দিচ্ছে এবং গ্রাহক নিবন্ধন (KYC) ও আইপি লগ সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে বিটিআরসি, আরআরআরসি, এপিবিএন ও জেলা প্রশাসনের সমন্বিত তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ বন্ধ করে বৈধ ইন্টারনেট ব্যবস্থাকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

পাঠকের মতামত

 

হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজন পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কক্সবাজারের উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিভাজনের প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ। এতে বক্তারা ...

ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়াই অস্ত্রোপচারে কলেজছাত্রীর মৃত্যু

ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করার পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক ...

দুর্গম পাহাড়ি পথে বাংলাদেশে আসছেন রোহিঙ্গারা

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত পথ ব্যবহার করে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি ...