
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় জনসংখ্যার ভারসাম্যহীনতা, নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণÑ এই তিনটিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ক্যাম্প এলাকায় আরও একটি ব্যাটালিয়ন বাড়ানোর পরামর্শ সরকারকে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরায় এপিবিএন হেডকোয়ার্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এপিবিএন হেডকোয়ার্টার্সের ডিআইজি (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান।
তিনি বলেন, বর্তমানে ক্যাম্প এলাকায় রোহিঙ্গাদের সংখ্যা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ফলে জনসংখ্যার ভারসাম্য আনা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৭৯ সালের পুরনো অধ্যাদেশ বাতিল করে গত মঙ্গলবার গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইন, ২০২৬।
নতুন আইনে ফৌজদারি অপরাধের সরাসরি তদন্তসহ এপিবিএনের ক্ষমতা বিস্তৃত হয়েছে। ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এর ফলে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন বিষয়ে তদন্তের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মানব পাচার, মাদক ও স্বর্ণ পাচারের মতো অপরাধ তদন্তের আওতায় আসবে।
এয়ারপোর্টে এভিয়েশন সিকিউরিটি টিম ও এপিবিএনের মধ্যে বিরোধের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই; তবে বাস্তব কিছু সমস্যা ছিল। কোনো বাহিনী বা কর্মকর্তা অপরাধে জড়িত থাকলে পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করবে বলেও জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন সদস্যদের বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এমন একটি অভিযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কর্মকর্তাদের অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। নতুন আইনের পর সাইবার সেল গঠন করা হয়েছে।
এদিকে আগস্টে এপিবিএনের অভিযানে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা। এ ঘটনায় ১৭ মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে ২৭ জন। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মুদ্রা, অস্ত্র ও মাদক।
এ ছাড়া ৭৮৪টি হারানো মোবাইল ফোন, হ্যাকড ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমেইল ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধার করা হয়েছে। বিকাশ-নগদ প্রতারণায় আত্মসাৎ করা ৭ লাখ ৪৯ হাজার ৭১৮ টাকা উদ্ধার করে ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে। ৯৯৯-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সেবা পেয়েছেন ৫৭২ জন।
আগস্টে অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৬৫২ পিস ইয়াবা, ৩.৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩.৭৫ লিটার মদসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযানে জরিমানা আদায় হয়েছে ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭২ টাকা এবং গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৩৯ জনকে।

পাঠকের মতামত