প্রকাশিত: ২৪/০৫/২০২১ ৫:০৬ পিএম

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার::
করোনাভাইরাসের দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিকখাতের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। সৈকত ও বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে বিধি-নিষেধের কারণে পর্যটকের আনাগোনা নেই। এ কারণে দিনের পর দিন খালি পড়ে আছে সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল। একই অবস্থা কক্সবাজারের দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোর।

পর্যটনের এ স্থবিরতায় ৩০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। কর্মহীন  হয়ে পড়েছে এ খাতের ওপর নির্ভরশীল অর্ধলক্ষাধিক মানুষ। কেউ কেউ এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি বলে মনে করেন। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামীতে হাজার কোটি টাকারও বেশি লোকসানের কথা বলছেন পর্যটনের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউতে দেশের জেলাগুলোর মধ্যে আক্রান্তের দিক দিয়ে বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পাঁচ নম্বরে রয়েছে। একদিকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সংক্রমণ বৃদ্ধি, অন্যদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন।

এছাড়া এর আগে অর্থাৎ গত ৫ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে পর্যটন নগরী কক্সবাজার। বন্ধ রয়েছে কক্সবাজারের সাড়ে চার শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস। তিন শতাধিক রেস্টুরেন্ট, বিপণিবিতান, সৈকত সংলগ্ন শপিংমল, ট্যুর অপারেটরদের কার্যক্রম, বিচ বাইকসহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা বন্ধ থাকলেও সেগুলো সচল রাখতে খরচ হচ্ছে অর্থ। এতে দিনদিন লোকসানের পরিমাণ বাড়ছে।

অসহায় সৈকতের কিটকট ব্যবসায়ীরা

কক্সবাজার বীচ কিটকট মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “দীর্ঘ দুই মাস সৈকতে কোনো মানুষ প্রবেশ করতে দেয়নি প্রশাসন। কাজেই কিটকট ব্যবসায়ীরা ভাল থাকার কথা না। সৈকতে কিটকট মালিক -কর্মচারীসহ ১ হাজার মানুষ এই দুই মাস ধরে বেকার। তাদের কোনো প্রকার আয় রোজগার নেই। ইতিমধ্যে অনেকেই অর্থসংকটে পড়েছেন। ফলে আমরা সবাই অসহায় হয়ে পড়েছি।”

হোটেল-মোটেল সংশ্লিষ্ট ১ লাখ শ্রমিক বেকার 

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল গেস্টহাউস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ বলেন, “করোনার কারণে দফায় দফায় লকডাউনে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প। এবারও এর কোনো ব্যতিক্রম হয়নি। করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে পর্যটন বন্ধ থাকায় কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউসগুলোতে কর্মকর্তাসহ ১ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এরা সবাই প্রশিক্ষিত এ পর্যটন শিল্পের জন্য। পরবর্তীতে এই শিল্পে নতুন শ্রমিক তৈরি করতে অনেক বেগ পেতে হবে। তাই এসব শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখতে কিছু একটা করা প্রয়োজন। এসব বিষয়ে নিয়ে গত শনিবার বিকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠকে আমাদের দুর্দশার কথা জানিয়েছি। তাই, স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন খুলে দিলে আমরা উপকৃত হব।”

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ট্যুয়াকের সভাপতি তোফায়েল আহমদ বলেন, “করোনায় সারাবিশ্বের মত আমাদের দেশও নিস্তব্ধ। এ কারণে দেশের অর্থনৈতিকখাতে নেমে এসেছে স্থবিরতা। বিশেষ করে পর্যটনখাতে যে স্থবিরতা নেমে এসেছে তা পুষিয়ে উঠতে অনেক বছর সময় লেগে যাবে। তাই, করোনা পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে যতদ্রুত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন চালু করতে পর্যটন শিল্পে জড়িতরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে। পাশাপাশি সরকার রাজস্ব আদায়ে সেই আগের অবস্থা ফিরে পাবে।”

২ মাসে লোকসান ৩০০ কোটির বেশি 

কক্সবাজার কলাতলী মেরিনড্রাইভ রোড হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুখিম খান বলেন, “কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে প্রতিদিন ৫ কোটি টাকারও বেশি লোকসান হচ্ছে। সে হিসাবে গত দুই মাসে ৩০০ কোটি টাকারও বেশি লোকসান হয়েছে। এতে বেকার হয়ে পড়ছে অন্তত অর্ধলাখ মানুষ। করোনা অস্বাভাবিক থাকলে লোকসানের মাত্রা আরও ভয়াবহ হবে।”

কক্সবাজার হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম সিকদার বলেন, “করোনার দ্বিতীয় ঢেউতে কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেলসহ সবকিছু বন্ধ রয়েছে। এসব হোটেলের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও হোটেল সচল রাখতে আমাদের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে রেখে দিতে হয়েছে। সেই সাথে রয়েছে বিদ্যুৎ বিল ব্যাংক ঋণ। এখন আমরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি। আমাদের সংগঠনের ২৬০টি হোটেলে প্রতি মাসে ৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হচ্ছে। ৩০০ কোটি নয়, সব মিলিয়ে গত দুই মাসে কক্সবাজার পর্যটন শিল্পে ৫০০ কোটিরও বেশি লোকসান হয়েছে। এ শিল্পের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ অর্ধলাখ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে।”

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশায় প্রশাসন 

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আমিন আল পারভেজ বলেন, “শনিবার (২২ মে) হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও পর্যটন শিল্পে জড়িত সংশ্লিষ্টদের সাথে জেলা প্রশাসনের একটি বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তাদের কথাগুলো আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। তবে এই মূহুর্তে আমাদেরও করার কিছু নেই। করোনায় আমাদের সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটন খুলে দেওয়া হবে।”

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. আবু সুফিয়ান বলেন, “কক্সবাজারে এখন করোনার উর্ধ্বগতি। আগামী ৩০ মে পর্যন্ত কক্সবাজারে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এ কারণে কক্সবাজার পর্যটন খুলে দেওয়ার কোনো চিন্তাভাবনা নেই। যদি করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়, তাহলে পর্যটন খুলে দিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা আবেদন করবো। বিশেষ করে আগামী ৩০ মে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। পর্যটন শিল্পে ক্ষতি দিকটি অবশ্যই সরকারে বিবেচনায় রয়েছে।”

পাঠকের মতামত

 

ইষ্ট বেকারের জ্যাম-ফিল্ড ব্রেডে স্বাস্থ্যঝুঁকি, বিক্রি বন্ধের নির্দেশ

মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ব্যবহারের অভিযোগে তিনটি প্রতিষ্ঠানের তিন ধরনের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের ...

আর্জেন্টিনার জয়োল্লাসের ভিডিও করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষার্থীর মৃত্যু

বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের জয়ে আনন্দ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নেত্রকোনায় একটি ভবনের ছাদে ...

জরুরি ত্রাণ সহায়তা নিয়ে কক্সবাজারের বন্যাদুর্গতদের পাশে আইআরসি

কক্সবাজারে ভয়াবহ বন্যায় দুর্গতদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি)। আইআরসির পক্ষ থেকে কক্সবাজারের ...