ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৪/০১/২০২৬ ৮:০১ এএম

ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেও যখন আশার আলো জ্বলে ওঠে, তখন সেটিই হয়ে ওঠে ইতিহাস। ঠিক এমনই এক হৃদয়স্পর্শী ও অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্যের সাক্ষী হলো গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের আল-শাতি শরণার্থীশিবির। সেখানে আয়োজিত এক কোরআন মিছিল ও সম্মাননা অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআনের প্রায় ৫০০ জন পুরুষ ও নারী হাফেজকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞে ক্ষতবিক্ষত গাজা উপত্যকায় টানা দুই বছরের দুঃসহ বাস্তবতার পর এই অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় আনন্দ, দৃঢ়তা ও আত্মিক পুনর্জাগরণের এক শক্তিশালী প্রতীকে।

‘কোরআন তিলাওয়াতকারীদের সঙ্গে গাজা ফুলে ওঠে’—এই প্রেরণাদায়ক স্লোগানের অধীনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন ও বাস্তবায়ন করে একটি জরুরি কমিটি। আয়োজকদের ভাষায়, কঠোর অবরোধ ও মানবিক সংকটের মাঝেও এটি ছিল ফিলিস্তিনি জনগণের ধর্মীয় পরিচয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও বিশ্বাসের প্রতি অটল থাকার স্পষ্ট বার্তা। শিবিরের ভেতর দিয়ে কোরআনের মিছিল শুরু হয় তাকবির ও তাহলিলের ধ্বনিতে। সারিবদ্ধভাবে অগ্রসর হন পুরুষ ও মহিলা হাফেজরা—শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও দৃঢ়তার এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে।

এটি যেন কোরআনকে জীবন ও আশার পথ হিসেবে বেছে নেওয়া এক প্রজন্মের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এই মিছিলে অংশ নেন শিশু, কিশোর, যুবক ও তরুণ-তরুণী—পুরুষ ও নারী-নির্বিশেষে। তাঁদের হাতে ছিল পবিত্র কোরআনের কপি, ফিলিস্তিনি পতাকা ও বিভিন্ন বার্তাবাহী ব্যানার। রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পরিবারগুলো করতালি, দোয়া ও আবেগভরা চোখে এই দৃশ্য উপভোগ করে।
এক অনন্য মুহূর্তে হাসি ও অশ্রু একাকার হয়ে যায়। যে রাস্তাগুলো এত দিন বোমা হামলা ও ধ্বংসের চিহ্ন বহন করছিল, সেগুলোই সেদিন রূপ নেয় শান্তি ও উৎসবের প্রাঙ্গণে। ক্যাম্পজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ ও আত্মিক প্রশান্তির আবহ—যেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা কিছুক্ষণের জন্য হলেও তার যন্ত্রণা ভুলে যায়। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে কোরআনের হাফেজদের হাতে প্রশংসাপত্র ও প্রতীকী উপহার তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, এই উদ্যোগ গাজা উপত্যকার কঠিন মানবিক বাস্তবতার মাঝেও ধর্মীয় পরিচয় সংরক্ষণ এবং নৈতিক ও চারিত্রিক মূল্যবোধকে জীবিত রাখার একটি চলমান প্রচেষ্টা।

ধ্বংসের মধ্যেও কোরআনের আলোয় যে গাজা আজও দাঁড়িয়ে আছে—এই অনুষ্ঠান তারই এক উজ্জ্বল সাক্ষ্য।

পাঠকের মতামত

এবার বাংলাদেশি হাফেজের আমেরিকা জয়!

যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারের বোল্টনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা-২০২৬-এ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ শেখ ...

আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হলেন বাংলাদেশি হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া

সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায়’ প্রথম স্থান ...
Single Page Footer