প্রকাশিত: ২১/০৫/২০১৬ ১০:৩৮ এএম , আপডেট: ২১/০৫/২০১৬ ১০:৫০ এএম
সেন্টামার্টিন

সেন্টামার্টিনউখিয়া নিউজ ডটকম :

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ আরো এগিয়েছে। শনিবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিমমধ্য বঙ্গোসাগর এলাকা থেকে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ বর্তমানে চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

শনিবার সকাল ৮টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিন ১৭- তে এ তথ্য জানানো হয়।

বুলেটিনে বলা হয়, শনিবার ভোর ৬ টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ২৩০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিম এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

ঘূর্ণিঝড়টি ঘণীভূত হয়ে পূর্ব-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শনিবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ বরিশাল-চট্রগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৬২ কি.মি. যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড বাতাস শুরু হয়েছে। শনিবার ভোর থেকে চট্টগ্রামে মাঝারি বৃষ্টি ঝরছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা সম্পর্কে আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। চট্টগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ খুব দ্রুত বেগে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে। এ কারণে পূর্বে জারি করা এলার্ট-টু নামিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শুক্রবার বিকেল থেকে এলার্ট-থ্রি জারি করেছে। বন্দরের সব ধরনের পণ্য ওঠানামা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দরের সব ধরনের যন্ত্রপাতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (২০ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম  এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, ‘বন্দরের জরুরি সভায় ঘূর্ণিঝড় “রোয়ানু” মোকাবেলা কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থানরত সকল লাইটারেজ জাহাজকে বাংলাবাজার জেটির নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে অবস্থানরত সকল পণ্যবাহী জাহাজকে ২ ঘণ্টার নোটিশে বঙ্গোপসাগরের বর্হিনোঙ্গরে নোঙ্গর করতে বলা হয়েছে। সমুদ্র বন্দরে ৭ নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করায় বন্দরে  এলার্ট-২ এর পরিবর্তে এলার্ট-৩ জারি করা হয়েছে।’

উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৭ নম্বর বিপদ সংকেত বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ০৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৬ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে জানানো হয়, উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, পিরোজপুর জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোতে ভারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ সহ ঘন্টায় ৬২-৮৮ কি.মি. বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এদিকে শুক্রবার দুপুর থেকেই মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেয়া শুরু হয়েছে। ১৮টি জেলার ৩ হাজার ৮৫১টি আশ্রয়কেন্দ্রে এসব মানুষকে আনা হয়। তাদের থাকা, খাওয়া ও চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রস্তুত রয়েছেন ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কমিটির (সিপিপি) ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক। মাঠে থাকবেন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, রোভার স্কাউট ও আনসার ভিডিপি সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ ও সচিব মো. শাহ কামালসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে ১৮ জেলার প্রায় সাড়ে ২১ লাখ মানুষকে। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীন রুটের নৌ চলাচল। ঘূর্নিঝড়টির প্রভাবে গত দু’দিন ধরে দেশের সব অঞ্চলেই বৃষ্টি হয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি মোকাবেলায় ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকসহ সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

রোয়ানুর প্রভাবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সব ধরনের নৌ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল কর্তৃপক্ষ (বিআইডাব্লিউটিএ)। সংস্থাটির পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মফিজুর রহমান জানান, খারাপ আবহাওয়ার কারণে শুক্রবার বিকাল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না পর্যন্ত সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু’র সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় চট্টগ্রামে ৪৭৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোজবাহ উদ্দিন।  দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চট্টগ্রামে ২৪২টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সাথে ঘূর্ণীঝড় পরবর্তী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড় ধস ঠেকাতে ইতোমধ্যে মাইকিং শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে বৃহস্পতিবার থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী শনিবার ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

পাঠকের মতামত