উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩/০৯/২০২৬ ৫:১৯ পিএম

নরমাল ডেলিভারির আশ্বাসে সারারাত বসিয়ে রেখে প্রতারণা, অগ্রিম টাকা না পেয়ে চিকিৎসায় বিলম্ব। টাকা পাওয়ার পর নামেমাত্র চিকিৎসা শুরু হলেও ততক্ষণে মারা যায় গর্ভের শিশু।

পরে ভোররাতে নাটকীয়ভাবে রোগীকে রেফার। এভাবেই এক গর্ভবতী নারীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ উঠেছে ‘হ্যাপি মাদার কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’-এর বিরুদ্ধে।

গত ১৬ আগস্ট রাতে কক্সবাজার সদরের লিংকরোডের মহুরীপাড়ায় সাউথ সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত হ্যাপি মাদার কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী সারজিনা আক্তার। তিনি উখিয়ার রাজাপালং এলাকার ইফতেখারের স্ত্রী।

গর্ভের সন্তান হারিয়ে সারজিনা এখন অনেকটা বাকরুদ্ধ। তার অভিযোগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার টাকা আয় করার জন্য আমার গর্ভের শিশুর প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। টাকা অগ্রিমের জন্য চিকিৎসায় বিলম্ব করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সময়ে চিকিৎসা দেওয়া হলে আমার সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব ছিল।

সারজিনা বলেন, তিনি আগে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। সেখান থেকে নরমাল ডেলিভারি করানোর আশ্বাস দিয়ে হ্যাপি মাদার কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী তার স্বামীকে ফোন করে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান।

‘হাসপাতালে যাওয়ার পর বলা হয়, আগে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দিতে হবে, তারপর চিকিৎসা শুরু হবে। এর মধ্যে আরও প্রায় ৩ হাজার টাকার বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। হাসপাতালের পরিবেশ দেখে রোগী চলে যেতে চাইলে পরিচালক হ্যাপী ও তার সিনিয়র সহকর্মী সেলিনা আমাদের বুঝিয়ে অনেকটা জিম্মি করে হাসপাতালে রেখে দেন। তারপরেও চলে যেতে চাইলে পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে গড়িমসি করা হয়।’

সারজিনা বলেন, রাত ১২টার দিকে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়ার পর চিকিৎসা শুরু করা হয়। রাত ২টার দিকে তার প্রসবব্যথা শুরু হলে পরীক্ষা করে শিশুর নড়াচড়া কমে যাওয়ার কথা জানানো হয়। একপর্যায়ে পেট শক্ত হয়ে যায় এবং শিশুর নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও তাকে নরমাল ডেলিভারি করানোর আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছেন হ্যাপী।

তিনি বলেন, ‘রাত সাড়ে ৩টার দিকে হ্যাপী এসে বলেন, সিজার করতে হবে। তিনি রেফার লিখে দেবেন, অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এ পরিস্থিতিতে অক্সিজেন ও সিলিন্ডারের টাকা পরিশোধ ছাড়া যেতে দেয় না হ্যাপী । পরে টাকা দিতে না পারায় রোগীর মোবাইল ফোন রেখে দেন হাসপাতাল পরিচালক হ্যাপী।

পরে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তাকে কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সারজিনার দাবি, সেখানে চিকিৎসক তাকে জানান, তার গর্ভের সন্তান অন্তত ৪ ঘণ্টা আগেই মারা গেছে।

কক্সবাজার ডিজিটাল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আরেফা মেহের রুমী বলেন, ভোর ৫টার দিকে রোগীকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তখন তার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল এবং রক্তচাপও বেড়ে গিয়েছিল। পরীক্ষায় শিশুর হার্টবিট পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, রোগীকে তাৎক্ষণিক ইমার্জেন্সি সিজারে নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, শিশুটি পেটে পায়খানা করে দিয়েছে এবং মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। হাসপাতালে আনার অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আগে শিশুটির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।

রোগীর স্বজন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, সেদিন তাদের কাছে মনে হয়েছে, রোগীর চিকিৎসার চেয়ে টাকা আদায়ই তাদের কাছে বড়। মনে হয়েছে, টাকা তারা জীবনে দেখেনি।

তিনি বলেন, দাবিকৃত টাকা দিতে দেরি হওয়ায় রোগীকে ছুঁয়ে দেখেনি তারা। ১০ হাজার টাকা নেওয়ার পর নামেমাত্র চিকিৎসা শুরু করা হয়। নরমাল ডেলিভারি করানোর কথা বলে সারারাত অপেক্ষা করিয়ে ভোররাতে বলা হয় সিজার করতে হবে এবং অন্য হাসপাতালে যেতে হবে। ততক্ষণে গর্ভের সন্তান মারা যায়। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হ্যাপি মাদার কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি বাহ্যিক চাকচিক্য ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় প্রচারণার মাধ্যমে রোগী আকৃষ্ট করছে। বিশেষ করে গ্রামের সাধারণ মানুষকে নরমাল ডেলিভারির আশ্বাস দিয়ে এখানে আনা হয়। পরে টাকা আদায় করে তাদের অন্যত্র পাঠিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন , প্রসবসংক্রান্ত চিকিৎসা অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা না থাকলে এমন প্রতিষ্ঠানে রোগী রাখা বড় ধরনের ঝুঁকি হতে পারে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হ্যাপি মাদার কেয়ার অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপী বলেন, ‘আমি এ সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাই না। আমি শুধু সিভিল সার্জনকে বলব।’

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের বলেন, এটা কারা করছেন বিষয়টি আমরা খোঁজ নিচ্ছি। ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেলে আমাদের কাজ করতে সুবিধা হয়। এব্যাপারে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। এই প্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে বক্তব্য নিতে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তারের সরকারি নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশ

পাঠকের মতামত

উখিয়ায় সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, যুবক গ্রেপ্তার

কক্সবাজারের উখিয়ায় সিআইডি কর্মকর্তা পরিচয়ে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোটরসাইকেল আত্মসাতের চেষ্টার অভিযোগে মোহাম্মদ হাসান ...

উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গোলাগুলি, সতর্ক থাকতে মাইকিং

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গোলাগুলির পর সবাইকে সতর্ক থাকতে মাইকিং ...

উখিয়ার শিক্ষাবিদ নাজের হোসাইন মাস্টারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

উখিয়ার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রবীণ সমাজসংস্কারক ও সমাজসেবক মরহুম নাজের হোসাইন মাস্টারের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১১ ...
Single Page Footer