প্রকাশিত: ২০/০৭/২০২০ ৮:৪৫ এএম , আপডেট: ২০/০৭/২০২০ ১১:৪৪ এএম

সরওয়ার আজম মানিক, কক্সবাজার ::
দেশের পর্যটনের রাজধানীখ্যাত কক্সবাজার নানা কারণে বিশ্বে আলোচিত। এখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি শরণার্থী ক্যাম্পে রয়েছে ১১ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক (রোহিঙ্গা)। সব মিলে কক্সবাজারে স্থানীয় এবং রোহিঙ্গাসহ ৩৫ লাখ লোকের বসবাস। রয়েছে বিশাল সাগর, মিয়ানমারের সঙ্গে সীমান্ত। চলমান রয়েছে এ দুটি দেশের বাণিজ্য। ফলে কক্সবাজার একটি জেলা হলেও এর গুরুত্ব অনেক। এসব গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে মহামারী করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই তা প্রতিরোধে নানামুখী কাজ করে যাচ্ছেন জেলা পুলিশের সদস্যরা। করোনা প্রতিরোধের সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে তারা মানুষকে যেমন সচেতন করে তুলছেন, তেমনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, অন্য জেলা ও বিদেশ ফেরতদের কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করা এবং বিনা কারণে মানুষকে ঘর থেকে বের হওয়া থেকে বিরত রাখতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি মানবিক কর্মকা-ও পরিচালনা করছেন পুলিশ সদস্যরা।

advertisement
করোনা আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে কক্সবাজার এখন দেশের জেলাগুলোর মধ্যে চার নম্বরে আছে। তবে সংক্রমণের হার কমছে। এ প্রতিবেদন তৈরি পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৩ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। আর মারা গেছেন ৬ রোহিঙ্গা ও ১ পুলিশ সদস্যসহ ৪৯ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৯০০ জন। শুধু পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন ১৩৮ জন। সুস্থ হয়ে ফের কাজে যোগদান করেছেন ৫০ জন।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বার জানিয়েছেন, পুলিশে আক্রান্তদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পদের সদস্য রয়েছেন। পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম বার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইনের নেতৃত্বে মার্চ মাসের শুরু থেকে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে নানা সচেতনতামূলক কর্মকা- শুরু করে জেলা পুলিশ।

advertisement
পুলিশ সুপার বলেন, কক্সবাজার একটি পর্যটন এলাকা, তাই মানুষের সমাগম কমাতে প্রথম থেকেই সমুদ্রসৈকতে পর্যটক আসা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া করোনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতে লিফলেট, হ্যান্ডবিল বিতরণ, মাইকিং ও যানবাহনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচার অভিযান চালানো হয়। কক্সবাজার জেলার প্রবেশমুখ, শহরের মূল প্রবেশপথ, মেরিন ড্রাইভ সড়ক, বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ নানা স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করে করোনা সংক্রমণের শুরুতেই মানুষকে সচেতন করে আসছে জেলা পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোছাইনের নেতৃত্বে ‘মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য’ সেøাগানে কক্সবাজার জেলায় প্রথম করোনা সহায়তা তহবিল গঠন করা হয়। সেই তহবিল থেকে কর্মহীন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহায়তা করা হয়। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি টিম বাজার মনিটরিং করে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখে, যা এখনো অব্যাহত আছে।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ করোনা আক্রান্তদের জন্য বিনামূল্যে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালু করেছে। প্রতিদিন গরিব ও অসহায় রোগীদের এই সেবা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশ সুপার মাসুদ হোসেন। তিনি আরও বলেন, রেড জোন চিহ্নিত করে লকডাউনের কারণে কক্সবাজারে দিন দিন সংক্রমণের হার নিম্নমুখী হচ্ছে। পুলিশ সদস্যরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লকডাউন বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। যার সুফল এখন কক্সবাজারবাসী ভোগ করছে।

পুলিশ সুপার বলেন, কক্সবাজার জেলা পুলিশের নেতৃত্বে একটি প্লাজমা ব্যাংক করার পরিকল্পনা থাকলেও এখানে প্লাজমা দেওয়ার সুবিধা না থাকায় তা করতে পারছি না। তবে যারা করোনা আক্রান্ত হয়ে এখন সুস্থ হয়ে প্লাজমা দিতে চায় তাদের তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। কারও প্লাজমা প্রয়োজন হলে আমরা সহযোগিতা করতে পারব।

জেলা পুলিশের দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের করোনা থেকে বাঁচাতে ডিউটিতে বেশকিছু পরিবর্তন আনার কথা জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, মাঠে দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের সার্বক্ষণিক জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে মনিটরিংয়ে রাখা হয়েছে। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। যার কারণে সুস্থ হয়ে ৫০ জন পুলিশ সদস্য কাজে যোগদান করেছে। করোনা আক্রান্ত হয়ে জেলা পুলিশের সদস্য ছোটন দেবের মৃত্যুতে পুলিশ সুপার দুঃখ প্রকাশ করেন।

পাঠকের মতামত

টেকনাফে মাদক গডফাদারদের ১৮২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ক্রোকের প্রক্রিয়া,তালিকায় আছে যারা

মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়া ১১৬ জন গডফাদারের ১৮২ কোটি টাকার সম্পদ ক্রোকের ...
Single Page Footer