
সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে নির্যাতনে রায়হান আহমদের মৃত্যুর ঘটনার মামলায় প্রধান অভিযুক্ত সাময়িক বরখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়ার পক্ষে আদালতে লড়বেন না আইনজীবী মো. মিসবাউর রহমান আলম।
গত ১০ ডিসেম্বর আকবরের পক্ষে আইনী লড়াই করতে তিনি ওকালতনামা দাখিল করলেও জনসাধারণের বিরূপ মন্তব্য ও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে শেষ পর্যন্ত নিজেকে এ মামলা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।
শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) তিনি নিজে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘হেফাজতে মৃত্যু নিবারন আইনের মামলাটি আমার কাছে ছিল একেবারেই নতুন ধরনের এবং চ্যালেঞ্জিং। এ কারণে অধিক অর্থ প্রাপ্তি নয়, বরং পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকেই আমি মামলাটি গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে কিছু মানুষের চরম নেতিবাচক ও অশালীন মন্তব্য আমাকে হতাশ করেছে। আমার কারণে আমার সিনিয়র আইনজীবী বা আমার পরিবার স্থুল আক্রমণের শিকার হোক তা কখনই কাম্য হতে পারে না। তাই আকবরের পক্ষে আইনী লড়াই হতে বিরত হলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনী সেবা পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে তাকে দণ্ডিত করা যায় না। এরকম মামলায় আসামি আইনজীবী নিয়োগে অক্ষম হলে রাষ্ট্র তার পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে বাধ্য। কোন কারণে যদি আসামিপক্ষ আইনজীবী পেতে ব্যর্থ হয়, তবে পুরো বিচার প্রক্রিয়াই আটকে যাবে। বিচার প্রার্থীই তাতে বরং ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আকবরের পক্ষে আইনজীবী নিযুক্ত হতে সম্মত হয়েছিলাম।’
উল্লেখ্য, গত ১১ অক্টোবর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে টাকার জন্য রায়হানকে (৩৩) নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সিলেট কোতয়ালী থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।
মামলায় ফাঁড়ির পুলিশের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে নির্যাতন করে মেরে ফেলার অভিযোগ করেন তিনি। আলোচিত এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রধান অভিযুক্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চারজন পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গত ৯ নভেম্বর দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ভারত সীমান্তে আকবর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন ১০ নভেম্বর সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক মো. আবুল কাশেমের তার সাতদিনের রিমান্ড মন্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১৭ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
আলোচিত এ ঘটনায় আসামিদের পক্ষে সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির কোন সদস্যই ওকালতনামা দেননি। এমনকি নিহত রায়হানের বাড়িতে গিয়েও এ কথা জানিয়েছিলেন সমিতির নেতারা। তাদের এমন উদ্যোগ দেশব্যাপী প্রশংসনীয়ও হয়েছিল।

পাঠকের মতামত