প্রকাশিত: ০৯/০৭/২০১৭ ১০:৪৩ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ৫:০০ পিএম

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া ::
উখিয়ায় স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে প্রায় প্রতিটি পরিবার। এই বন্যায় স্কুল মাদ্রাসার ছাত্র,ছাত্রী শিশু বৃদ্ধসহ পাঁচজনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এসব পরিবারের মা-বাবা আতœীয় স্বজনদের আহাজারিতে এখনো আকাশ ভারি হয়ে আছে। উখিয়া জালিয়া পালং ইউনিয়নের উত্তর সোনাইছড়ি গ্রামের নিজের বাড়িটি ডুবে গেলে পার্শ্ববর্তী বাড়িতে বাবার হাত ধরে আশ্রয় নিতে যায় ছমিরা আক্তার (১৪)। পিতা জাফর আলম এক হাতে তার মেয়ে ও অন্য হাতে আদরের দুই নাতিকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পানির স্রোতে এক হাতে থাকা ছোট দু নাতিকে আর রাখতে পাচ্ছিলেন না। এমন সময় ছোট্র দুই নাতিকে বাচাঁতে দু হাতে শক্ত করে ধরে আপন কলিজার টুকরো মেয়েকে ছেড়ে দেন। ততক্ষণে সর্বনাশা পানির প্রচন্ড স্রোত বাবার চোখের সামনেই ডুবাতে ডুবাতে নিয়ে যায় ১৪ বছরের কিশোরী মেয়ে ছমিরা আক্তারকে। অনেক খোঁজাখুজির পর পরের দিন নদীর ধারে ছমিরা আক্তারের লাশ পাওয়া যায়। একই দিন পাহাড় ধ্বসে পালংখালী ইউনিয়নের আনজুমান পাড়া গ্রামের সরওয়ারের সাত বছরের ছেলে শাহরিয়ার হোসেন রাব্বি,ঘুমধুম আজুখাইয়া ফকির পাড়ার ছমুদা বেগমসহ পাঁচ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও এখনো পর্যন্ত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের সমবেদনা জানাতে যাননি। ক্ষতিগ্রস্থ কোনো পরিবারে তারা না যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ। ক্ষোভের বহিপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্টাডার্স লিখে। তবে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহ আলম চৌধুরী রাজাকে দূর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা গেছে। পাশাপাশি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হক চৌধুরী, রতœা পালং ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী ও জামায়াতের উখিয়া উপজেলা আমির মাওলানা আবুল ফজল তাদের ক্ষুদ্র প্রয়াসে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন। মূলত, বর্তমান সাংসদ আবদুর রহমান বদি এবং সাবেক সাংসদ শাহ জাহান চৌধুরীকে এই দুর্যোগকালীন সময়ে মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়াতে না দেখে চরম হতাশার কথা জানিয়েছেন এখানকার মানুষ। তাছাড়া সরকারি কোনো ত্রাণ এখনো পর্যন্ত না পৌঁছায় জনপ্রতিনিধিরা নানান কথার সম্মুখিন হচ্ছেন। উখিয়া সদর ঘিলাতলি পাড়া এলাকার মোহাম্মদ হোছন জানান, আমার ৭০ বছর বয়সে এই ধরণের বন্যা উখিয়ায় আর দেখিনি। ভৌগলিকগত কারণে আমরা গর্ব করে আগে বলতাম, উখিয়ায় যেদিন বন্যা হবে সেদিন কিয়ামত হবে। কিন্তু আমাদের কথাকে ভুল প্রমাণিত করে আল্লাহ বন্যা দিয়ে কিয়ামতের কথা স্বরণ করিয়ে দিয়েছেন। যে আল্লাহ বন্যা দিয়েছেন সেই আল্লাহই বিপদ থেকে আমাদের রক্ষা করবেন। কোন নেতার ধার ধারি না।

পাঠকের মতামত

 

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...

রাজাপালং ভেঙে হচ্ছে ‘উয়ালাপালং’ ইউনিয়ন, গণশুনানির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়ন বিভক্ত করে ‘উয়ালাপালং’ নামে নতুন একটি ইউনিয়ন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে ...

টেকনাফে ইউনিয়ন বিভক্তি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি; নেতৃত্বের দ্বন্ধে বাড়বে জন ভোগান্তি

কক্সবাজারের টেকনাফে নতুনভাবে কয়েকটি ইউনিয়ন করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানাগেছে। নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে উপজেলার ...

কক্সবাজারে বন্যা কবলিত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাচ্ছিলেন, পথে প্রাণ গেল বন্ধুর

কক্সবাজারের পেকুয়ায় বন্যা ক্ষতিগ্রস্ত বন্ধুর খোঁজ নিতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মো. মানিক উদ্দিন নাহিদ ...