

চলতি আমন মৌসুমে টেকনাফে অন্তত: ২শ ২হেক্টর তথা ৫শ একর লবণ মাঠ ধান চাষের আওতায় এসেছে। কৃষি বিভাগের সহযোগীতা পেলে আগামী বর্ষা মৌসুম থেকে আরো অনেক বেশী পরিমাণে লবণ মাঠ ধান চাষের আওতায় আসবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। কৃষকরা মনে করেন, আগামী বর্ষার আগে চাষীদের সাথে ইউনিয়ন ও এলাকা ভিত্তিক ক্ষুদ্র বা বৃহতাকারে লব সহিঞ্চু জাতের ধানের বীজ এবং লবণ মাঠে ধান চাষের বিষয়ে উদ্ধুদ্ধ করলেই কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়বে। এছাড়া কৃষি প্রণোদনা হতে বীজ ও সার সরবরাহ করলে টেকনাফের প্রায় সব লবণ মাঠ পর্যায়ক্রমে ধান চাষের আওতায় চলে আসবে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। এতে করে কৃষকরা যেমনি লাভবান হবেন। তেমনি তারা স্থানীয়ভাবে ধানের চাহিদার যোগান দিতে পারবেন বলে মনে করছেন। লব সহিঞ্চু ও স্বল্প মেয়াদী জাতের ধান এবং সময়মতো কৃষি প্রণোদনা পেলে লবণ মাঠে ধান চাষের বিস্তার ঘটবে বলে মনে করেন টেকনাফের কৃষকরা।
কৃষি অফিস সুত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার হোয়াইক্যংয়ে ৫০হেক্টর, হ্নীলায় ৯০হেক্টর, সদরে ১৫হেক্টর, সাবরাং ৪৫হেক্টর ও বাহারছড়ায় ইউনিয়নে ২হেক্টরসহ মোট ২০২হেক্টর বা ৫শ একর লবণ মাঠ আমন চাষের আওতায় এসেছে। গত মৌসুমে টেকনাফ উপজেলার উল্লেখিত ইউনিয়ন সমুহে বর্ষা মৌসুমে ৯২হেক্টর বা প্রায় ২শ ৩০একর লবণ মাঠে ধানের আবাদ করা হয়েছিল। সে বছর কৃষকরা লবণ মাঠে ধান চাষ করে বাম্পার ফলন পান। গত মৌসুমের ফলন দেখে চলতি বর্ষায় কৃষকদের অনেকে লবণ মাঠে ধানের আবাদ করেছেন। যা আগের চেয়েও বেশী পরিমাণ লবণ মাঠ আমন চাষের আওতায় এসেছে। কৃষকদের সাথে কথা জানাগেছে, সাধারণ লবণ মাঠে তারা আগাম এবং স্বল্প মেয়াদী জাতের ধানের চারা রোপন করেন। কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে লবণ মাঠে উফষী জাতের ব্রি ধান-৭৫ সবচেয়ে বেশী চাষ করা হয়েছে। এছাড়া উফষী জাত ব্রি ধান-৩৩, উফষী জাত ব্রি ধান-৪৯, বিনা-৭, ও স্থানীয় জাত বিন্নির আবাদ করা হয়েছে। স্বল্প মেয়াদী লব সহিঞ্চু জাতের এই ধান মাত্র ১১৫-১২০দিনের মধ্যে পরিপক্ক হয়। এতে করে কৃষকরা যেমন অল্প সময়ে ঘরে ফলন তুলতে পারেন। তেমনি তারা সঠিক এবং উপযুক্ত সময়ে লবণ মাঠে নামতে পারছেন। স্বল্প মেয়াদী লব সহিঞ্চু জাতের ধানে ফলন ভাল হওয়ায় লবণ মাঠে ধান চাষের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে বলে জানাগেছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশন তথা বিসিকের তথ্য মতে ২০২৫-২০২৬ লবণ মৌসুমে টেকনাফ উপজেলায় ১৮৪২হেক্টর তথা ৪৫৫০একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়। এদিকে কৃষি বিভাগ ও বিসিকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্ষা মৌসুমে টেকনাফ উপজেলায় প্রায় ১৬৪০হেক্টর জমি অনাবাদী পড়ে থাকে। বর্ষা মৌসুমে অনাবাদী পড়ে থাকা এসব লবণ মাঠে আমনের চাষ করলে কৃষকরা যেমন লাভবান হবেন। তেমনি চালের চাহিদা পুরণে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা। লবণ মাঠ সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ এবং কারিগরী সহযোগীতা প্রদান করলেই বাকী জমিও পর্যায়ক্রমে বর্ষা মৌসুমে ধান চাষের আওতায় চলে আসবে। হ্নীলা পানখালী এলাকার প্রসিদ্ধ কৃষক খলিল আহমদ, চলতি মৌসুমে ২একর ৪০শতক লবণ মাঠে ধানের আবাদ করার কথা জানান। তিনি জীবনে কখনো কৃষি প্রণোদনা হতে সহযোগীতা পাননি জানিয়ে উল্টো উচ্চ মূল্যে ইউরিয়া সার ক্রয়ের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। এছাড়া হ্নীলা হোয়াকিয়াপাড়া এলাকার কৃষক ইব্রাহীম এই প্রতিবেদককে জানান, ৩একর লবণ মাঠে ধান চাষ করেছি। তিনিও কৃষি বিভাগের অসহযোগীতার কথা জানিয়ে বলেন, কষ্ট করে বীজ সংগ্রহ করে রোপন করেছি। তবে বিসিআইসি সার ডিলাদের উচ্চমুল্যে সার বিক্রয়ের অভিযোগের কথা জানিয়ে বলেন, বেশী দামের কারণে জমিতে সার প্রয়োগে রীতিমত হিমশিম খাচ্ছি। রঙ্গিখালী এলাকার কালাবদা ও লেদা এলাকার কৃষক জোবায়ের এই প্রতিবেদককে জানান,লবণ মাঠে ধান চাষ করেছি। কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রণোদনার আওতায় কোন ধরণের সহযোগীতা পায়নি। তবে তারা খুশীর খবর জানিয়েছেন, এবছর আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় লবণ মাঠে চাষকৃত জমিতে আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: শফিউল আলম জানান,লবণ মাঠে ধান চাষের উজ্জ্বলতা সম্ভবনা রয়েছে। তবে তিনি লব সহিঞ্চু স্বল্প মেয়াদী জাতের ধান উদ্ভাবনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্টানের পরিদর্শনের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি লবণ মাঠে ধান চাষের বিস্তার ঘটাতে প্রান্তীক কৃষকদের বিভিন্ন ধরণের পদ্ধতির মাধ্যমে উদ্ধুদ্ধের কথাও জানান।
এদিকে কৃষকদের লাভের স্বার্থে বর্ষা মৌসুমে লবণ মাঠে স্বল্প মেয়াদী এবং লব সহিঞ্চু জাতের ধানের চাষ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) টেকনাফের ইনচার্জ মো: মিজানুর রহমান জানান। আগামী মৌসুম থেকে বর্ষায় আমনের চাষাবাদ করতে লবণ চাষীদের উদ্ধুদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিসিকের এই কর্মকর্তা। টেকনাফ উপজেলা কৃষি অফিসার মো: হুমায়ুন কবির জানান,লবণ মাঠে ধান চাষ করতে উপজেলা কৃষি অফিস প্রতিনিয়িত কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করছে এবং আগামী মৌসুমেও ব্যাপকহারে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধ করা হবে। তিনি কৃষি প্রণোদনা হতে লবণ মাঠে ধান চাষে আগ্রহী কৃষকদের প্রয়োজনীয় বীজ ও সার সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন।##

পাঠকের মতামত