উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭/০৪/২০২৫ ৭:২৭ এএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের হাকিমপাড়ান ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এনজিও সংস্থা সাওয়াব কতৃক সামাজিক বনায়নের কর্তনকৃত আনুমানিক ৩০০ গনফুট কাঠ আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) ওয়্যার হাউস থেকে উদ্ধার করেছে বনবিভাগ।

বুধবার (১৬ এপ্রিল) বিকালে উপজেলা পালংখালী ইউনিয়ন ১৪নং রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে এসব কাঠ উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন>> পাহাড় কেটে রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির নির্মাণ করছে এনজিও ‘সাওয়াব’

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহিনুর রহমান। তিনি জানান, ক্যাম্পের কাটাতারের ভেতর থেকে সামাজিক বনায়নের দুই ডাম্পার গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। যাচাই বাছাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প সূত্রে জনা গেছে, উপজেলার হাকিমপাড়া ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে সামাজিক বনায়নের শত শত গাছকর্তন করে সওয়াব নামের একটি এনজিও সংস্থা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে বাধাগ্রস্ত করতে নতুন করে পালিয়ে ১২২টিরও অধিক শেল্টার নির্মাণ করে। সংস্থাটির বিরুদ্ধে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাঞ্চালের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।

উদ্ধারকৃত গাছগুলো সাওয়াব নামক একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) এর মাধ্যমে দাতা সংস্থা “আইওএম” এর ওয়্যার হাউসে জমা রাখা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। এ খবরে সরগরম হলে বনবিভাগের একটি দল এসব কাঠ উদ্ধার করে। উক্ত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, ১৪ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির থেকে সামাজিক বনায়নের বিপুল পরিমাণ গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। গাছ গুলো জব্দ করে বনবিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেখান সরকার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে তোড়জোড় চালাচ্ছে, সেখানে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে সাওয়াব নামক একটি এনজিও সংস্থা নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য শেল্টার নির্মাণ করা রহস্য জনক ও প্রত্যাবাসন বিরোধী কার্যক্রম বলে মনে হচ্ছে। নির্মাণাধীন এসব ঘর উপড়ে ফেলে, নতুন করে বনায়ন সৃষ্টি না করলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন তিনি।

তিনি বলেন, ১৪ নম্বর আশ্রয়শিবিরের কাটাতারের সাথে লাগোয়া ১২২টির অধিক শেড নির্মাণ করা হয়েছে নতুন করে। যা ২০০৮ সালের সৃজিত বন বিভাগের সামাজিক বনায়নের জায়গা জলধার ছিল। উক্ত জলাধার ভরাট করে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের কাজ করছে ‘সাওয়াব নামের একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও)’। নতুন করে তৈরি রোহিঙ্গা পল্লীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আমেনা ভিলেজ’।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশন মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, নতুন করে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের জন্য বেশ কিছু শেড নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণের কাজ পেয়েছে ‘সাওয়াব’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। যদি বনায়নের গাছকর্তন ও জলধার ভরাট করা হয়ে তাকে তদন্তপূর্বক সংস্থাটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থানগ্রহণ করা হবে। স্থানীয় বাংলাদেশিদের লিখত অভিযোগের বিষয়ে আমি অবগত রয়েছি।

পাঠকের মতামত

 

জাইকার অর্থায়নের ফিলেপ প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়িত ফিলেপ (ফরেন এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট) প্রকল্পের আওতায় ...

​পাহাড় কেটে মাটি পাচার করলেন জামায়াত নেতা, ঝুঁকিতে রোহিঙ্গাদের বসতি

সাম্প্রতিক সময়ে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনায় রোহিঙ্গাদের মাঝে যেখানে আতঙ্ক কাজ করছে, এমন ...

২০ টনের বেশি বর্জ্য অপসারণ, স্থায়ী সমাধানে ডাম্পিং স্টেশন চায় বিডি ক্লিন উখিয়া

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা আন্দোলনের অংশ হিসেবে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন উখিয়া টিমের উদ্যোগে ১৪তম পরিচ্ছন্নতা অভিযান ...

দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি জনগণের সরকার, সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। দুর্যোগ মোকাবিলায় ...