প্রকাশিত: ০২/১১/২০১৭ ৮:৪৯ পিএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১১:৩৬ এএম

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ::

বিজিবি’র বাধার কারণে সেন্টমার্টিনদ্বীপের ৩ শতাধিক বাসিন্দা নারী-পুরুষ-শিশু দ্বীপে ফিরতে পারেননি বলে খবর পাওয়া গেছে। তাঁরা দ্বীপে ফিরতে না পেরে টেকনাফে আটকা পড়েছেন। এতে হঠাৎ করে আটকা পড়ায় ৩ শতাধিক দ্বীপবাসী আর্থিক সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। টেকনাফ-সেন্টমার্টিনদ্বীপ যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার চলাচলের উপর হঠাৎ করে ২ নভেম্বর বিজিবি বাধা প্রদান করায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ বলেন ‘টেকনাফ-সেন্টমার্টিনদ্বীপ নৌপথে যাত্রীবাহী এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনের জন্য ব্যক্তি মালিকানাধীন ২২টি সার্ভিস ট্রলার রয়েছে। সাগরের উত্থাল অবস্থা সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও স্বাভাবিক নিয়মে প্রতিদিন উভয় দিক পালাক্রমে ২টি করে সার্ভিস ট্রলার যাতায়ত করে থাকে। সারা বছরই পর্যটক ছাড়াও সাড়ে ৮ হাজার দ্বীপবাসীর যাতায়ত, নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন এবং দ্বীপে উন্নয়নমুলক কাজের জন্য নির্মাণ সামগ্রী পরিবহণ প্রধানতঃ নির্ভরশীল হচ্ছে এসব সার্ভিস ট্রলার। প্রতিদিনের ন্যায় চিকিৎসা, মামলা-মোকদ্দমায় হাজিরাসহ জরুরী প্রয়োজনে টেকনাফে আসা ৩ শতাধিক সেন্টমার্টিনদ্বীপের বাসিন্দা দ্বীপে ফিরে যেতে ২ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার দুপুরে টেকনাফ পৌর এলাকা কেকেপাড়া নির্ধারিত ঘাটে থাকা সার্ভিস ট্রলারে আরোহন করেন। কিন্ত বিজিবি এতে বাধা প্রদান করে। আর্থিক সংকট এবং দ্বীপবাসী নারী-পুরুষ-শিশুর ভোগান্তির কথা বলে অনুরোধ করা হলেও ‘ছাড়পত্র’ দেয়া হয়নি। দ্বীপে ফিরতে না পেরে অসহায় ৩ শতাধিক বাসিন্দা সার্ভিস ট্রলার থেকে নেমে যেতে বাধ্য হন। বিষয়টি এমপি, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করা হয়েছে’।

টেকনাফ পৌর এলাকাধীন সেন্টমার্টিনের কেকেপাড়া ঘাট নিয়ন্ত্রণ করে টেকনাফ সদর বিওপি। হঠাৎ করে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনদ্বীপ যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার চলাচলের উপর বাধা প্রদান বিষয়ে জানতে চাইলে সদর বিওপির সুবেদার মোঃ ইব্রাহীম হোসেন বলেন ‘সেন্টমার্টিনদ্বীপে ট্রলার যাতায়ত করে মিয়ানমার জল সীমানার ভেতর দিয়ে। আমরা মিয়ানমার জল সীমানার ভেতর দিয়ে সেন্টমার্টিনদ্বীপে যাতায়ত করতে ‘ছাড়পত্র’ দিতে পারিনা। সিও স্যার ও ইউএনও সরকারী জরুরী মিটিংয়ে থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষনিকভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়নি’। টেকনাফ-সেন্টমার্টিনদ্বীপ যাত্রীবাহী সার্ভিস ট্রলার চলাচলে প্রত্যেক ট্রিপেই ‘ছাড়পত্র’ নেয়া বিষয়ে তিনি বলেন ‘টেকনাফ কেকেপাড়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া সার্ভিস ট্রলার নদীতে ও সাগরে যাতে কোন সমস্যায় না পড়ে সেজন্য প্রত্যেক ট্রলার প্রত্যেক ট্রিপেই ‘ছাড়পত্র’ নেয়ার নিয়ম চালু আছে আগে থেকেই। এটি নতুন নয়’।

উক্ত বক্তব্য প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ বলেন ‘সেন্টমার্টিনদ্বীপ সৃষ্টির পর থেকে যুগ যুগ ধরে যে নৌপথ দিয়ে ট্রলার চলে আসছে, বর্তমানেও সেই নৌপথ দিয়েই ট্রলার যাতায়ত করছে। এটাই শতভাগ সত্য ও বাস্তবতা। এটা নতুন কোন নৌপথ নয়। ছাড়পত্র ছাড়া নিজ দায়িত্বে যেতেও বাধা দেয়া হয়েছে। একই নিয়মে চলে আসলেও হঠাৎ বাধা দেয়া রহস্যজনক। আরও মজার ব্যাপার হচ্ছে বিজিবির বাধা প্রদান সময়কালেই সেন্টমার্টিনদ্বীপ থেকে ছেড়ে আসা ২টি সার্ভিস ট্রলার একই নৌপথ দিয়ে টেকনাফ ঘাটে পৌঁছে। কিন্ত টেকনাফ থেকে যেতে দেয়নি। তাছাড়া সেন্টমার্টিনদ্বীপ স্বাধীন বাংলাদেশ ভু-খন্ডেরই একটি অংশ। আলাদা একটি ইউনিয়ন। এখানে বসবাসকারী ১ হাজার ৩৫৪টি পরিবারের সাড়ে ৮ হাজার বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিক। দ্বীপে অবাধ যাতায়তে বাধা প্রদান কোনভাবেই কাম্য নয়। সত্যি বড় দুঃখজনক। এমনিতেই সেন্টমার্টিনদ্বীপের মানুষ সারা বছরই বিভিন্নভাবে কোন না কোন হয়রানী, বিমাতাসুলভ আচরণ ও ভোগান্তিতে থাকে। উপরন্ত এ ধরণের হয়রানীতে দ্বীপবাসীর না খেয়ে মরা ছাড়া উপায় থাকবেনা। আমি এব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাস্ট্রমন্ত্রী, পর্যটন মন্ত্রী, এলাকার এমপিসহ প্রশাসনের উর্ধতন কতৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি’।

পাঠকের মতামত

নিজের সম্মানির টাকা মেধাবী শিক্ষার্থীকে দিলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ইউএনও

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকারিয়া নিজের প্রাপ্ত সম্মানির টাকা আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রদান করলেন ...