উখিয়া নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫/০২/২০২৩ ৮:২০ এএম

সেন্টমার্টিন থেকে যাত্রী নিয়ে ফেরার পথে এমভি পারিজাত ও এসটি সুকান্ত নামে দুটি জাহাজ সাগরের মাঝামাঝি এসে দমকা হাওয়া ও তীব্র ঢেউয়ের কবলে পড়ে। এতে জাহাজগুলোতে থাকা পর্যটকদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করে।

জানা গেছে, ঘটনার সময় ওই দুটি জাহাজে প্রায় ৭০০ যাত্রী ছিল। এসময় জাহাজে থাকা শিশু, নারী ও পুরুষ পর্যটকেরা বমি ও আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে সেন্টমার্টিন জেটিঘাট থেকে জাহাজ দুটি টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাহাজ দুটি টেকনাফের দমদমিয়া বিআইডব্লিউটিএয়ের জাহাজ ঘাট থেকে প্রায় ৭০০ যাত্রী নিয়ে সেন্টমার্টিন গিয়েছিল।

 

 

সোম ও মঙ্গলবার সকালে দ্বীপে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা সেন্টমার্টিন জেটিঘাট থেকে ছেড়ে আসার ২০ মিনিটের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়লে পর্যটকেরা কান্নাকাটি ও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এসময় অনেকেই বমি করার পাশাপাশি লাইভ জ্যাকেট পরেন। একই সঙ্গে চিৎকার দিয়ে আল্লাহকে ডাকতে শুরু করেন।

এসটি সুকান্ত জাহাজের যাত্রী সোমেন শর্মা বলেন, বড় একটি দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। জাহাজটি যদি ডুবে যেত কোনো যাত্রী প্রাণে রক্ষা পেতেন বলে মনে হয় না। খুবই ভীতিকর একটি জার্নি ছিল। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে সেন্টমার্টিন যাবো কি না ভাবতে হবে।

এমবি পারিজাত জাহাজে থাকা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, জাহাজটিতে প্রায় তিন শতাধিক পর্যটক ছিল। সেন্টমার্টিন জেটি থেকে ছেড়ে আসার ২০ মিনিটের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়লেই জাহাজটি দুলতে থাকে। এই সময় জাহাজে থাকা শিশু, নারী ও পুরুষদের অনেকে কান্নাকাটি ও বমি করেন।

টেকনাফ

তিনি আরও বলেন, এই জাহাজে আমাদের ৩৭ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে আল্লাহর রহমত বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে পর্যটকেরা রক্ষা পেয়েছেন। সন্ধ্যা ৬টার দিকে জাহাজটি টেকনাফের দমদমিয়া ঘাটে পৌঁছালে পর্যটকদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে। এরপর পর্যটকরা স্ব-স্ব উদ্যোগে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

এসটি সুকান্ত জাহাজের ব্যবস্থাপক বাহাদুর হোসাইন বলেন, সেন্টমার্টিন থেকে ফিরে আসা প্রতিটি জাহাজই আজকে ঢেউয়ের কবলে পড়ে। সাগরে প্রচণ্ড ঢেউ ও বাতাসের কারণে এমন হয়েছে।

তিনি বলেন, জাহাজে নির্ধারিত সিটের বাইরে অতিরিক্ত কোনো যাত্রী নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি একই থাকলে আমরা আগামীকাল থেকে চেষ্টা করবো ছোট জাহাজগুলো না নামিয়ে বড় জাহাজ চলাচল করার জন্য।

এদিকে এমভি পারিজাত টেকনাফের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সোহেলের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, সেন্টমার্টিন রুটে চলাচলকারী অধিকাংশ জাহাজই ফিটনেসবিহীন। জাহাজ মালিকদের কেউ কেউ ক্ষমতার দাপটে হাইকোর্টের আদেশ উপেক্ষা করে পর্যটকদের মৃত্যু ঝুঁকিতে ফেলে বাণিজ্য করছে। এমনকি নদীর জাহাজ সমুদ্রে চলছে। বড় কোনো দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত প্রশাসনের টনক নড়বে বলে মনে হয় না। সম্পূর্ণ অগোছালো কক্সবাজারের পর্যটন শিল্প, যার যেমন ইচ্ছে বাণিজ্য করে যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা নেই, থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

ট্যুরিস্ট পুলিশ টেকনাফের উপ-পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম বলেন, দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে পড়লে জাহাজটি হেলে-দুলে চলতে থাকে। এতে করে পর্যটকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান জানান, আজকে বাতাস ছিল, তাই জাহাজগুলো বঙ্গোপসাগরে সমস্যায় পড়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিরাপদে টেকনাফ ঘাটে পৌঁছায়। খবর পাওয়ার পর সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখা হয়েছে।

পাঠকের মতামত

বাবুল আক্তারের জামিন!

পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার নাইমা সুলতানার দায়ের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় জামিন পেয়েছেন ...