প্রকাশিত: ২২/১১/২০১৬ ৭:৫০ এএম

pic-2

সরওয়ার আলম শাহীন, উখিয়া নিউজ ডটকম::

বিজিবির কঠোর অবস্থানের পরও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের দিকে ধেয়ে আসছে।এক্ষেত্রে বিজিবি গুটিকয়েক রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে পুশব্যাক করলেও সিংহভাগ রোহিঙ্গা রাতের আধাঁরে অথবা ভোরের আলো ফুঁটার সাথে সাথে বিজিবির চোঁখ ফাঁকি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে।ইতিমধ্যে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে কুতুপালং রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রবেশ করে আত্বীয় স্বজনদের বাড়ীতে আশ্রয় নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সুত্র জানায়,বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বজিবির কঠোর অবস্থানের পরও স্থল ও জলজ সীমান্তের অন্ততঃ ১৩টি পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমারের জাতিগত সহিংসতা কবলে পড়া অসংখ্য রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে দলে দলে অনুপ্রবেশ করছে।ইতিমধ্যে বিচ্ছন্ন ভাবে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে শত শত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।বিভিন্ন সীমান্ত পেরিয়ে আসা শত শত রোহিঙ্গা পরিবার উখিয়া টিভি টাওয়ার সংলগ্ন রোড় দিয়ে কুতুপালং শরনার্থী শিবির ও রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রবেশ করছে।এটা সাম্প্রতিক সময়ের প্রতিদিনকার চিত্র।গতকাল সোমবার রোহিঙ্গা বস্তি সংলগ্ন এলাকার উখিয়া টিভি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সকালে গিয়ে দেখা গেছে শত শত অনুপ্রবেশকৃত রোহিঙ্গা পরিবার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রবেশের জন্য অপেক্ষা করছে।এ সময় খিয়াড়ী পাড়া গ্রামের মোঃ ইসলাম (৭২) জানান,মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে বাঁচার জন্য সে তার পরিবারের ৯ সদস্য নিয়ে সোমবার ভোরে কুতুপালং বস্তি এলাকায় আশ্রয় নেয়।একই ভাবে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেয়া মোঃ ছালাম বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদের ঘর বাড়ী আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। মিয়ানমারের খিয়ারী পাড়া গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (২০) পরিবারের ৬ জনকে নিয়ে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নেন। এভাবে গতকাল সোমবার ও রোববার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রায় ১ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গা নাগরিক এদেশে পালিয়ে এসে রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয নিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।এ ব্যাপারে কুতুপালং ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বখতিয়ার আহম্মদ বলেন, সোমবারে কমপক্ষে দেড় শতাধিক রোহিঙ্গা পরিবার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আশ্রয় নিয়েছে বলে সে শুনেছেন।বস্তির ভেতরে গিয়ে কথা হয় মংডু জেলার খিয়ারি পাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত সালামত উল্লাহ পুত্র মোঃ সালেক (৬০) এর সাথে।সে জানায়,তারা স্বপরিবারে ১৩জন রোববার দিবাগত রাত ৩ টার দিকে মিয়ানমারের শিলখালী সীমান্ত এলাকা দিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।তার পরিবারে স্ত্রী, দুই ছেলে, পুত্র বধু মেয়ে ও নাতি সহ ১৩জন এক কাপড়ে বাপদাদার ভিটে মাটি ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে বলে সে জানান।মংডুর বলিবাজার গ্রামের ঝটিয়াখালী পাড়ার শামসুল আমিনের স্ত্রী তৈয়বা বেগম (২৫) জানান, ছোট ছোট তিন শিশু নিয়ে শুক্রবার দিবাগত রাতে সে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে স্বজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছে।মংডুর আকবর পাড়ার নজু মিয়ার ছেলে জাবের হোছাইন (১৮) শাহপরির দ্বীপ সীমান্ত দিয়ে শুক্রবার রাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।তাদের একই বোটে ২৮জন অনুপ্রবেশ করে। মংডু খিয়ারি পাড়া এলাকার ছৈয়দুল আমিনের স্ত্রী মিরানা বেগম, ননদ হামিদা বেগম (১৭),দেবর জোবাইর হোছাইন (১৪) ও দুই শিশু সহ ৪দিন পূর্বে উনছিপ্রাং ও ধামনখালী সীমান্তের নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।মংডু জেলার বলি বাজার এলাকার শামসুল আলম (৫৮) তার স্ত্রী ছমুদা খাতুন (৫০), পুত্র বধু ছেতেরা (২৬), ছেলে ইসমাইল (৩০), ইউনুছ (১৮), মোঃ রফিক (১২), জান্নাত আরা (১২) মোঃ রশিদ (৮) ইনতারা (৬), আনাস (৩), মোঃ তুফাইল (১) ও এক নাতি সহ ১৫ নভেম্বর কানজর পাড়া সীমান্ত দিয়ে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশ অনুপ্রবেশ করে।মংডুর বলি বাজার এলাকার বলি বাজার এলাকা লিয়াকত আলীর ছেলে মোঃ ইদ্রিস (১৪) শুত্রুবার সকালে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তির ডি-১ ব্লকে অবস্থানকারী জেঠা মোঃ আলী কাছে আসলে সে ভাতিজাকে কুতুপালং এমএসএফ ক্লিনিকে ভর্তি করান।সেখান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা হয়েছে বলে মোঃ ইদ্রিস জানায়।উল্লেখিত অনুপ্রবেশকারীরা গত কয়েক দিনের ব্যবধানে সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ করে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে আত্মীয় স্বজনদের সহায়তায় আশ্রয় নিয়েছে বলে জানা গেছে।প্রতিদিনই মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রবেশ করছে।বিশেষ করে রাতে ও ভোরে উখিয়া টিভি টাওয়ার সংলগ্ন এলাকার রাস্তার পাশ দিয়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তিতে প্রবেশ করছে বলে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।এদিকে সীমান্তের ওপারে রোহিঙ্গাদের উপর সহিংস ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা পাচারকারী সিন্ডিকেট গুলো ঝিমনখালী, কানজর পাড়া, হারাইঙ্গা ঘোনা, রহমতের বিল, ধামনখালী, জলপাইতলী, তমব্রু,ধুমধুম,বালুখালী,রহমতেরবিল,ওয়ালিদং সহ বিভিন্ন পয়েন্টে রোহিঙ্গা ানুপ্রবেশে তৎপর রয়েছে বলে জানা গেছে। উখিয়ার কুতুপালং শরনার্থী শিবির ইনচার্জ ও সহকারী কমিশনার মোঃ আরমান শালিক তার নিয়ন্ত্রিত শিবিরের কোন অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আশ্রয় নিয়েছে বলে তার জানা নেই দাবি করে বলেন, এ ব্যাপারে শিবির ম্যানেজম্যান্ট কমিটি ও ব্লক কমিটির দায়িত্বশীলদের কঠোর ভাবে সতর্ক করা দেওয়া হয়েছে যাতে কোন অনুপ্রবেশকারীকে আশ্রয় দেওয়া না হয়।

পাঠকের মতামত

সেন্টমার্টিন যেতে রেজিস্ট্রেশন: সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিগত আ.লীগ সরকারের আমলে

সেন্টমার্টিন যেতে রেজিস্ট্রেশনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে, এমনটাই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ...

উখিয়ায় কেন্দ্রীয় ফেমাস সংসদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহি সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন কেন্দ্রীয় ফেমাস সংসদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার ( ৬ ...

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দ্রুতগতির বাসের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের চন্দনাইশের দোহাজারী পৌরসভার দেওয়ানহাট পুয়া ফকির মাজার সংলগ্ন এলাকায় দ্রুতগতির যাত্রীবাহী বাসের ...

রাউজানে চেম্বার থেকে তুলে নিয়ে অপহরণ সাবেক ওসি প্রদীপসহ ৬ জনের নামে চিকিৎসকের মামলা

চেম্বার থেকে তুলে নিয়ে এক চিকিৎসককে চাঁদা না পেয়ে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে রাউজান থানার ...