প্রকাশিত: ২৯/০৯/২০১৬ ৭:৪৮ এএম

ramuরামু প্রতিনিধি::

যার ফেইসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জনপদ রামুর বৌদ্ধ বিহার ও বসতিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল, সেই উত্তম বড়ুয়ার হদিস মেলেনি চার বছরেও। উত্তম কি বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন; নাকি কোথাও আত্মগোপন করেছেন কেউই জানে না এ খবর। এমন কি উত্তমের পরিবার এবং আইন শৃংখলা বাহিনীর কাছেও এ ধরনের কোন খবর নেই।

এদিকে চার বছরেও স্বামীর সন্ধান না পাওয়ায় আট বছরের শিশু আদিত্যকে নিয়ে চরম মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তার স্ত্রী রিতা বড়ুয়া। খেয়ে না খেয়ে কিছুদিন বাপের বাড়ি, কিছুদিন শ্বশুর বাড়িতে, কিছুদিন ভাড়া বাসায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি। রামুর হাইটুপি গ্রামে রিতার শ্বশুর বাড়িতে কথা হয় রিতার সঙ্গে। রিতা বলেন, ‘২০১২ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে যখন মিছিল শুরু হয়, তখন ভয়ে আতংকে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় উত্তম। কোথায়, কোনদিকে, কী ভাবে যাচ্ছে সেদিন কিছুই বলার সুযোগ পায়নি। সেই যে গেল, চার বছরে আর কোনো ধরনের খোঁজ মেলেনি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খবরাখবর নিয়েছি। কিন্তু কোথাও সন্ধান মেলেনি। এখন তিনি বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন কিছুই জানি না। অনেক কষ্টে সন্তানকে একটি প্রাইমারি স্কুলে ভর্তি করিয়েছি। কী করব, সন্তানের ভবিষ্যত কী হবে, সব কিছুই তো অনিশ্চিত।’

রিতা আরো বলেন, ঘটনার আগে ভাড়া বাসায় থাকতাম। ভাড়া চালাতে না পেরে এখন সেই বাসাও ছেড়ে দিয়েছি। এখন কিছুদিন বাপের বাড়ি, কিছুদিন শ্বশুর বাড়ি, আবার কিছুদিন ভাড়া ঘরে এভাবেই দিন কাটছে। রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপি গ্রামের সুদত্ত বড়ুয়ার একমাত্র ছেলে উত্তম বড়ুয়া। পেশাগতভাবে উত্তম ছিলেন দলিল লেখকের সহকারী। একমাত্র ছেলের চার বছরেও কোনো হদিস না পাওয়ায় পরিবারেও চলছে মানবিক বিপর্যয়। গতকাল বুধবার সকালে বাড়ি গেলে উত্তমের মা মাধবী বড়ুয়া কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, দুই মেয়ে ও এক ছেলের মধ্যে উত্তম ছিল সবার বড়। এক মেয়ের বিয়ে দেওয়া হয়। স্বামীর যা আয়, তা দিয়ে মোটেও সংসার চলে না। তাই পরিবারে সহযোগিতার একমাত্র অবলম্বন ছিল উত্তম। কিন্তু তার হদিস না পাওয়ায় এখন এ পরিবারেও চরম দুর্দিন চলছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে আমার বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়ে সবকিছু চুরমার করে দেওয়া হয়। বাড়িতে জিনিসপত্র যা ছিল তাও লুট করা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরিবার সরকারি-বেসরকারি আর্থিক সহায়তা পেলেও আমি সেই সহায়তার মুখ দেখিনি। কারণ আমি উত্তমের মা। তাই এখনো ১৫ বছরের একটি মেয়ে নিয়ে সেই ভাঙা ঘরেই খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। রামু রাইটার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছড়াকার দর্পন বড়ুয়া জানান, উত্তম দোষী নাকি নির্দোষ এটা বিচার করবে আদালত। কিন্তু তার অবুঝ সন্তান এবং তার স্ত্রী কী দোষ করেছে। তার মায়ের কী দোষ? আমাদের সবার উচিত অন্তত নিষ্পাপ শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে মানবিক সহায়তা দিয়ে এ পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রাখা। এ অভিশাপ থেকে মুক্ত করা।

পাঠকের মতামত

সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেবে মিয়ানমারের সরকার

বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রস্তাব ...