প্রকাশিত: ০৪/০৫/২০১৭ ৫:১৩ পিএম

আজাদ মনসুর::
সলিমুল্লাহ স্যার আমাদের কাছে একজন নক্ষত্র, একজন বন্ধু, একজন মানবতা, একজন শিক্ষক, একজন অভিভাবক হিসেবে সবার কাছে তিনি একজন মুখ্য-স্বতন্ত্র ¯স্রষ্টা। মূলত সলিমুল্লাহ স্যার আমার কাছে একজন নন্দন মানুষ, মানবতাবাদি একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বলি আমি তাঁকে। সদালাপী, মিষ্টভাষি, সদাচারী, শুদ্ধাচারী, প্রমিত মানুষরা তু নন্দন ও মানব পুরুষ হয়। সময় বড় দ্রুত বহমান নদীর মত। দেখতে দেখতে ১৭টি বছর চলে গেল! এই তু কেবল সেদিন ১৯৯৯ সালে ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন (কেজি স্কুল) থেকে ষষ্ট (৬ষ্ট) শ্রেণি পড়ে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম (৭ম) শ্রেণিতে ভর্তি হই। সে সময়কার প্রধান শিক্ষক সলিমুল্লাহ স্যার। পড়ালেখার পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি, গান, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকান্ডে জড়িত ছিলাম বলেই অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের ন্যায় আমাকেও আলাদা ভাবে স্থান করে দিলেন তাঁর মণিকোটায়। একটা গাছকে যেভাবে পরিচর্যা করতে হয় সে ভাবে আমাদের শাষণ ও স্নেহে ধন্য করেছেন তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
প্রিয় এই ভাললাগা ও ভালাবাসার মানুষটি অনেকদিন ধরে বিভিন্ন রোগে চিকিৎসা করিয়েছেন। অনেকগুলো আদরের স্নেহের সন্তানতুল্য ছাত্র-ছাত্রী স্যারের চিকিৎসায় এগিয়ে এসেছেন জানি। কিন্তু কঠিন বাস্তবের কাছে স্যারকেও হারতে হয়েছে এটাই সত্য। স্যার ৩ মে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। যেখান থেকে কেউ কোনদিন ফিরবে না, ফিরে না। স্যারও ফিরবেন না জানি। তবে আমরা যারা স্যারকে বাঁচাতে চিকিৎসাকে আন্দোলন হিসেবে নিয়ে স্যারের জন্য নির্ভরতার আসল সহযোদ্ধা হিসেবে স্যারের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম! আজ আমরা অভিভাবক হারা। একজন অন্তত ভাল মানুষকে আমরা হারিয়েছি তা নয় আমরা হারিয়েছি বহুমাত্রিক প্রতিভার ধারক, বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের প্রিয় বিদ্যাগুরুকে। সুদীর্ঘ ৩০ বছরের পেশাগত জীবনে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বিদ্যানগর ঈদগাহ হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যে খ্যাতি তাঁর আমার জানা মতে আগামী ৩০ বছরে এই ধরনের সর্বজন শ্রদ্ধেয় গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে কোন শিক্ষক এই স্কুলে আসবেন না। কক্সবাজার সদরে যে মানুষটি সর্ব প্রথম এম. এমএড ডিগ্রী অর্জন করা প্রধান শিক্ষক হিসেবে এই উপজেলাকে আলোকময় করেছিলেন সেই মানুষটিকে বিদায় দিতে মুটেও প্রস্তুত ছিলাম না। স্যার মনে পড়ছে যেদিন আপনার চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা আপনাকে হাতে তুলে দিতে গিয়েছিলাম তখন আপনি আমাদের ঠিক চিনতে পারেননি। স্মৃতি শক্তি হারিয়েছিলেন। তবে হাই স্কুল থেকে আপনার প্রাক্তণ ছাত্ররা এসেছে জেনে বিছানা থেকে কি কঠিন সময়ের মধ্যে আমাদের সামনে এসে বসেছেন! বলতে কষ্ট হচ্ছে। যখন টাকা আপনার হাতে নিচ্ছিলাম তখন আপনি নিতে চাননি স্যার। বলছিলেন তোমরা নাও? আগে তোমরা নাও, সবাই নেওয়ার পরেই আমাকে দাও বলতেই আমরা সকল বন্ধুরা কেঁদে ফেলছিলাম। স্যার কান্না ধরে রাখতে পারিনি। স্যার আপনার সেই চিরায়ত সারল্য, সততা, মননশীল চিন্তা যে তখনও বিদ্যমান ছিল আমাদের মুক্ত করেছে। জয় হোক আপনার। আপনি জান্নাতবাসী হোন। আমার মত কত ইঞ্জিনিয়ার, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যাংকারসহ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা তৈরি করেছেন আপনি। লেখাটি পড়ে আমরা সবাই স্যারকে একবার দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়ে চির বিদায় জানাবো এবং একজন নক্ষত্র, একজন বন্ধু, একজন মানবতা, একজন অভিভাবক, মানবতাবাদি একজন শ্রেষ্ঠ শিক্ষককে আগামী প্রজন্মের কাছে ছায়া হয়ে রাখবো। আল্লাহ আপনাকে কবুল করুক। আমিন। সুম্মা আমিন।

 

লেখক:

সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার (কম্পিউটার), প্রণেতা-কক্সবাজারর সাংবাদিক কোষ, সভাপতি-কক্সবাজার সাংবাদিক সংসদ (সিএসএস), ধুধফপড়ী৯০@মসধরষ.পড়স (০১৮৪৫-৬৯৫৯১৬)

পাঠকের মতামত

নতুন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকানোই যখন বড় চ্যালেঞ্জ!

মিয়ানমারের তিনটি প্রধান এথনিক রেজিস্ট্যান্ট গ্রুপ—তাং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ), মিয়ানমার ন্যাশনাল এলায়েন্স (এমএমডিএ) এবং ...