প্রকাশিত: ০৭/১০/২০১৬ ৯:৩৭ পিএম

cox-b-400x225নিউজ ডেস্ক;;

সাগরের করাল গ্রাসে ভেঙে পড়ছে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বিস্তীর্ণ অংশ। শৈবাল হোটেল পয়েন্ট থেকে ডায়বেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত পর্যটক বিচরণের বিস্তীর্ণ সৈকত ভাঙনের কবলে রয়েছে। ভাঙতে ভাঙতে এরই মধ্যে সৈকতের সৌন্দর্য ম্লান হতে চলেছে। এতে পর্যটক বিচরণের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সমুদ্রসৈকতের এ অংশটি। শুধু এ অংশ নয়, কক্সবাজারের ১২০ কিলোমিটার সৈকতের শেষ অংশ নাজিরারটেক পয়েন্ট পর্যন্ত তীব্র ভাঙন চলছে। এতে সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সৈকতের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা নিয়েও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। সরেজমিন দেখা গেছে, শৈবাল পয়েন্ট থেকে ডায়বেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত সমুদ্রসৈকত তীব্র ভাঙনকবলিত হয়েছে। এতে বিলীন হয়ে গেছে সৈকতের ঝাউগাছ। এখানে কিছু কিছু ঝাউগাছের শুধু গুঁড়ির অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। মাদরাসা পয়েন্টসহ আরও কয়েকটি স্থানে বিলীন হয়ে গেছে সৈকত সড়ক। বিলীন হওয়া সড়কে লাগানো একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি সাগরে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এসব কারণে জোয়ারের সময় হাঁটাচলাও দায় হয়ে পড়েছে। সৈকতের ব্যবসায়ীরা জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের মূল পয়েন্ট লাবণী বিচ হলেও বিপুল পর্যটক বিচরণ করেন কলাতলী পয়েন্ট থেকে ডায়বেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত। স্রোতের করাল গ্রাসে ২ বছরে আধা কিলোমিটারের কাছাকাছি সৈকত সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুতে সৈকত বেশি ভাঙলেও, এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। জোয়ারের সময় প্রতিদিন কোনো না কোনো স্থানে ভাঙন ধরছে। শতায়ু পরিষদের সদস্য জিয়াউল হক জানান, ভাঙন তীব্র হওয়ায় এসব পয়েন্টে বিচরণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ডায়বেটিক পয়েন্ট ও মাদরাসা পয়েন্টে দর্শনার্থীর সংখ্যা একেবারে কমে গেছে। দেখে মনে হয়Ñ যেন এসব পয়েন্টে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মোঃ আলী কবির জানান, রোয়ানুর সময় থেকে এ পর্যন্ত কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের ২ হাজারের বেশি ঝাউগাছ উপড়ে পড়ে সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। আর ২ বছরে বিলীন হয়েছে প্রায় ২ হাজার ঝাউগাছ। ফলে সৈকত তীরের ভাঙন ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবেশ অধিদফতর কক্সবাজার কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সরদার শরীফুল ইসলাম বলেন, সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ায় সৈকতে ঢেউয়ের আঘাত লাগছে। কিন্তু সৈকত সুরক্ষার জন্য কোনো প্রতিরোধক নেই। বালুর ঢিবি ও লতাপাতাসহ সুরক্ষায় যা ছিল, তা-ও নষ্ট করা হচ্ছে। এসব কারণে সৈকত ভেঙে চলেছে। সৈকতের ভাঙন রোধে কৃত্রিম ও প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসেন বলেন, সৈকতের তীর ভাঙন বিষয়টি অবশ্যই আশঙ্কাজনক। এ ব্যাপারে বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি অবগত রয়েছে। আমি পরিদর্শনে গিয়ে সরেজমিন দেখে সৈকতের ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে চেষ্টা করব।

পাঠকের মতামত

বান্দরবানে কেএনএফের আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, নিহত ৩

বান্দরবানের রুমা উপজেলার রনিন পাড়ার কাছে ডেবাছড়া এলাকায় কেএনএফের একটি আস্তানায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর ...