প্রকাশিত: ১৮/১১/২০১৭ ৯:৪৮ এএম , আপডেট: ১৭/০৮/২০১৮ ১০:৫৭ এএম

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ::
১০ বছরের রোহিঙ্গা শিশু সুমাইয়া আক্তার এখন ৬ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারের প্রধান। যে বয়সে তার বাবা-মায়ের তত্বাবধানে থাকার কথা, সে বয়সেই সে নিজের মাসহ ভাই ও বোনদের দায়িত্ব কাধে নিয়ে ঘানি টানছে। মিয়ানমার মংডুর বুচিডং থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে আসা সুমাইয়া তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বালুখালী শরনার্থী শিবিরে থাকেন।
বাবার অনুপস্থিতিতে দশ বছরের শিশু সুমাইয়া আক্তার এখন তার ছয় সদস্যের পরিবারের প্রধান দায়িত্বে থেকে জীবিকা নির্বাহের জন্য বিভিন্ন স্থানে ছুটে বেড়াচ্ছে। পরিবারের অপর সদস্যরা হচ্ছে ভাই মোহাম্মদ ফারুক (৭), গিয়াস উদ্দিন (৬), ইয়াসিন (৫), নুর ইয়াসমিন (৩)। বুচিডং এর বাড়ীতে মিয়ানমারের সেনা-পুলিশের গুলিতে আগে মারা যায় এই পাচঁ রোহিঙ্গা শিশুর বাবা বশির আহমদ (৩৩)। বাবা নিহত হওয়ার পর সুমাইয় আক্তারের মা হাসিনা আক্তার (২৫) পরিবারদের নিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে চলে আসেন বাংলাদেশে।
সুমাইয়া আক্তার জানান, বুচিডং এর পাশের গ্রামে আমাদের বাড়ী ছিল। এখানে আসার আগে আমার বাবাকে মগরা কেটে ফেলেছে। এখন মা, ভাই-বোনদের নিয়ে বালুখালী ক্যাম্পে থাকি। মা, ভাই বোনদের দেখা শুনা আমাকেই করতে হয়। পরিবারের সব খরচ আমাকে জোগাড় করতে হয়। আমরা ক্যাম্পে যে পরিমান খাদ্য সামগ্রী পাই, তা দিয়ে আমাদের সংসার চলেনা। তাই আমি ক্যাম্প থেকে বিভিন্ন জিনিস পত্র নিয়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করি।
টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং এলাকায় ১৭ নভেম্বর দুপুরে এই রোহিঙ্গা শিশু সুমাইয়া আক্তারে সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়। সরকার এখন পর্যন্ত এতিম ও অভিভাবকহীন রোহিঙ্গা শিশুকে সনাক্ত করেছে। এসব শিশুদের কারো হয়তো বাবা নেই, কারো মা নেই এমনি কি বাবা- মা দুইজনই নেই। আবার অনেক শিশু আছে যাদের বাবা- মা থাকলেও সীমান্তের ওপারে কিংবা এপারে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তারা জানান, এসব শিশুদের বিশেষ কর্মসূচীর আওতায় এনে তাদের অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

পাঠকের মতামত